বগুড়ার শেরপুরে পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) বগুড়ার অফিস সহায়ক পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় প্রক্সি (অন্যের দ্বারা পরীক্ষা দেওয়ানো) দিয়ে উত্তীর্ণ হয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অবৈধ সুবিধা লাভের পর মৌখিক পরীক্ষা দিতে এসে জিহান আফ্রিদী ব্রাইট (২২) ও শাপলা বেগম (২৯) দুই পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে।
আটকরা হলেন, ধুনট উপজেলার সাতবেকি গ্রামের জাহিদ হোসেনের ছেলে জিহান আফ্রিদী ব্রাইট তার রোল নং-৩০০৩৩৩১ ও বরগুনা আমতলি আড়পাঙ্গাসিয়া এলাকার সজিব হোসেনের স্ত্রী শাপলা বেগম তার রোল নং-৩১০০৩০০৫। শাপলা নারায়নগঞ্জ ফতুল্লা শিমু মার্কেট এলাকার বর্তমান বসবাস করেন। এ ঘটনায় আরডিএ’র উপ-পরিচালক (প্রশাসন বিভাগ) ও সদস্য সচিব নিয়োগ কমিটি মহিউদ্দিন বাদী হয়ে শেরপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। তাদের দুজনসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রবিবার দুপুরে তাদেকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ অক্টোবর বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ বগুড়ায় আরডিএ’র অফিস সহায়ক পদে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৬৫ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হন। পরের দিন ১ নভেম্বর সকাল ১১টা থেকে আরডিএ’র মহাপরিচালকের অফিস কক্ষে মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) শুরু হয়।
ঐ দিন দুপুর ২টার সময় পরীক্ষার্থী শাপলা বেগমকে এবং তার পরের পরীক্ষার্থী জিহান আফ্রিদী ব্রাইটকে মৌখিক পরীক্ষায় প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হলে তারা কোনো প্রশ্নের সঠিক জবাব দিতে পারেননি। এতে তাদের প্রতি সন্দেহ সৃষ্টি হয়। সন্দেহের জেরে তাদের লিখিত পরীক্ষার খাতা নিয়ে এসে হাতের লেখার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। এতে লিখিত পরীক্ষার লেখার সঙ্গে তাদের বর্তমান হাতের লেখার কোনো মিল খুঁজে পাওয়া পায়নি।
জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে স্বীকার করেন যে, তারা অজ্ঞাতনামা বিবাদীসহ পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা করে অবৈধ সুবিধা লাভের উদ্দেশ্যে অজ্ঞাত ব্যক্তি দ্বারা তাদের রূপ ধারণ করিয়ে প্রবেশপত্র জালিয়াতি করে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।
এ ঘটনায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, এ নিয়োগ পরিক্ষায় আরডিএ অফিসের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা জরিত রয়েছে। এছাড়া আটক করা হয়েছে কয়েকজনকে সেখানে ২জনের নামে কেন মামলা দেওয়া হলো অন্যরাও জরিত তাদের কেন ছেড়ে দেওয়া হল।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর বিষয়টি অফিসার ইনচার্জ, শেরপুর থানাকে অবগত করা হলে শেরপুর থানা পুলিশ দ্রুত আরডিএ কার্যালয়ে এসে অভিযুক্ত দুই পরীক্ষার্থীকে হেফাজতে নেয়।
এ বিষয়ে শেরপুর থানা অফিসার ইনচার্জ এস এম মইনুদ্দিন বলেন, তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। এবং জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
