নওগাঁয় অনুষ্ঠিত আন্ত:কলেজ ফুটবল খেলা নিয়ে এক পক্ষের ওপর আরেক পক্ষের হামলার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় রাউন্ডের খেলা শেষে বিজয়ী দলের ওপর পরাজিত দলের শিক্ষার্থীরা (খেলোয়াড়) নৃশংস হামলা করেছে। এতে বিজয়ী দলের প্রায় ১০-১২ জন আহত হয়েছে বলে অভিযোগ।
এঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। নওগাঁ জেলার খেলোয়াড়দের আয়োজনে মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) বিকেল ৫ টায় জেলা স্টেডিয়াম মাঠে এ কর্মসূচি পালিত হয়। জেলা দল ও স্থানীয় বয়সভিত্তিক বিভিন্ন দলের খেলোয়াড়রা এই মানববন্ধনে অংশ নেন।
এর আগে সোমবার (১৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে রাণীনগর স্টেশন এলাকায় কেল্লাপাড়া ও ডাঙাপাড়ার মাঝখানে ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় হামলার এই ঘটনা ঘটে।
মানবন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন, আত্রাই মোল্লা আজাদ কলেজের প্রভাষক শাহাদাত হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, নওগাঁ জেলা দলের ফুটবল খেলোয়াড় সাব্বির, শান্ত, স্বাধীন, সাজু, রায়হান, জিহাদ, সাজেদুর রহমান প্রমুখ।
এছাড়াও জেলা দলের সুপরিচিত খেলোয়াড় সাব্বির, শান্ত ও স্বাধীনসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নওগাঁয় অনুষ্ঠিত হচ্ছে আন্ত:কলেজ ফুটবল টুর্নামেন্ট। এ খেলায় জেলার ১৬টি কলেজ টিম অংশগ্রহণ করছে। টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় রাউন্ডের খেলায় গত সোমবার বিকেলে রাণীনগর উপজেলার সায়েম উদ্দিন মেমোরিয়াল কলেজ ও আত্রাই উপজেলার মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল সরকারি কলেজ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এই খেলায় ৩-০ গোলে সায়েম উদ্দিন মেমোরিয়াল কলেজ দলকে পরাজিত করে বিজয়ী হয় মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল কলেজ দল।
খেলা শেষে টমটমযোগে ফেরার পথে রাণীনগর রেল স্টেশন এলাকায় পৌঁছামাত্র সায়েম উদ্দিন মেমোরিয়াল কলেজের সমর্থকেরা হামলা চালায়। হামলায় অন্তত ১২ জন বিজয়ী শিক্ষার্থী খেলোয়াড় আহত হন। আহতদের মধ্যে তানভীরসহ তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনার সময় তিনটি ইজিবাইকও ভাঙচুর করা হয় এবং মোল্লা আজাদ কলেজের খেলোয়াড়দের ১০-১২টি মুঠোফোন নিয়ে নেওয়া হয়।
বক্তারা বলেন, পরাজয়ের ক্ষোভ থেকে সায়েম উদ্দিন মেমোরিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীরা মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল কলেজের খেলোয়াড়দের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও লজ্জাজনক। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে এ ধরণের ঘটতেই থাকবে। খেলোয়াড়দের ওপর হামলার যারা জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তারা।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী টিম ম্যানেজার রায়হান সরদার এবং ফাস্ট ইয়ারের ছাত্র ও খেলোয়াড় আহত জোবায়েদ বলেন, আমরা জেতার পর একটু আনন্দ করেছি। আর এতেই তাদের ক্ষোভ হয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে আমরা ক্ষমাও চেয়েছিলাম। তাদের মূলত রাগ ছিল আমাদের ভালো খেলোয়াড় তানভীরের ওপর। তারই প্রেক্ষিতে
কেল্লাপাড়া ও ডাঙাপাড়ার মাঝখানে ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছামাত্রই এসএস পাইপ, রড সহ অনেক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। হামলাকারী প্রায় ৩০ জন হবে। এর মধ্যে খেলোয়াড় ১৭ জন স্থানীয় ছেলেরা মিলে অতর্কিত হামলা করে। তারা প্রথম থেকেই উগ্র মেজাজে খেলছিল। এইজন্য তাদের গোলকিপার বাদে প্রায় সকলেই হলুদ কার্ড পায়। বর্তমানে তানভীর গুরুতর আহত অবস্থায় রাজশাহী মেডিক্যাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। এছাড়া ইলিয়াস ও সিয়ামও সেখানে চিকিৎসা নিচ্ছে।
আহত তানভীর ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারের ছাত্র। তিনি আত্রাই উপজেলার ক্ষুদ্র বোয়ালিয়া শাহজাহানের ছেলে।
আত্রাই মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল সরকারি কলেজের প্রিন্সিপাল মোহাম্মাদ সালাউদ্দিন বলেন, গতকালের ঘটনা অন্তত বেদনাদায়ক এবং লজ্জাজনক। খেলায় হারজিত থাকবে, তাই বলে এভাবে হামলা করা কতটা যৌক্তিক? আমরা আমাদের কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দোষীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।
জানতে চাইলে সায়েম উদ্দিন মেমোরিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ইকবাল মোহাম্মদ সাইদুল কবির মুঠোফোনে বলেন, এটা একটা ন্যাক্কার জনক ঘটনা। এই ঘটনার সাথে যেসকল ছাত্র ও শিক্ষক জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমি কলেজল আগামীকাল সকলকে ডাকবো এবং বিস্তারিত শুনে ও যাচাই বাছাই করে যতোটুকু ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় আমি সেটা করবো।
এদিকে এই হামলার প্রতিবাদে এদিন সকাল ১১টায় সাজু মৃধা, রিফাত, রাহুল, জিহাদ ও সাজুর নেতৃত্বে মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল সরকারি কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি কলেজের প্রধান ফটক থেকে শুরু হয়ে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় কলেজ প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। এরপর সেখানে একটি প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবাদ সমাবেশে ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, কর্মচারীসহ সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা এই ঘৃণ্য হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং অবিলম্বে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: নূরে আলম সিদ্দিক বলেন, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি আমাদের নজরে এসেছে এবং আমরা এটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছি। খেলাধুলা হলো সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির প্রতীক, এমন দুঃখজনক ঘটনা খেলার চেতনাকে আঘাত করে। আমরা চাই দ্রুত পরিবেশ শান্ত ও স্বাভাবিক হোক। এই লক্ষ্যে, আমরা উভয় কলেজের অধ্যক্ষ মহোদয় এবং রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে আলোচনা করে একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ সমাধান নিশ্চিত করতে সচেষ্ট থাকব।
