ডিসেম্বর ১, ২০২৫ ৫:১৯ পূর্বাহ্ণ

নন্দীগ্রামে রোগে নষ্ট হচ্ছে লাউ চাষির স্বপ্ন: কৃষি অফিসের উদাসীনতায় হতাশ কৃষক

বগুড়ার নন্দীগ্রামে লাউ, সিম ও করলা চাষে লক্ষাধিক টাকা বিনিয়োগ করেও স্বপ্নভঙ্গের মুখে পড়েছেন এক পরিশ্রমী কৃষক। নন্দীগ্রাম উপজেলার রিধইল গ্রামের কৃষক বাচ্চু হোসেন দেড় বিঘা জমি বছর পত্তনী নিয়ে এক বিঘা জমিতে লাউ, ৮ শতক জমিতে করলা ও ৮ শতক জমিতে সিম চাষ করেছিলেন। লাভের আশায় প্রায় এক লক্ষ টাকার বেশি বিনিয়োগ করেও এখন তিনি পড়েছেন চরম হতাশায়।
সরে জমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাচ্চু হোসেন কাথম গ্রামে দেড় বিঘা জমি বছর পত্তনী নিয়ে প্রায় তিন মাস আগে মালচিং পদ্ধতিতে ‘মাস্টার সুপার’ জাতের লাউ চাষ করেছিলেন। লাউ বীজ রোপণ থেকে শুরু করে গাছে ফুল আসা পর্যন্ত তার প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু ফুল ও কলি ধরার পর থেকেই ফসলে পচন রোগ দেখা দেয়।
বাচ্চু হোসেন বলেন, “আমি নিজের সঞ্চয় ও ধার করা টাকা দিয়ে এই জমিতে লাউ, সিম আর করলা চাষ করেছি। গাছে ফল আসার পর পচন ধরেছে। কৃষি অফিসে বারবার বললেও কেউ আমার জমিতে এসে দেখেনি। শুধু কাগজে কয়েকটা ওষুধের নাম লিখে দিয়েছে। কিন্তু গাছ না দেখে ওষুধ দিলে রোগ কীভাবে সারে?”
লাউয়ের পাশাপাশি তিনি ৮ শতক জমিতে ১১০টি বাবু জাতের করলার চারা রোপণ করেছিলেন। সেই জমিতেও খরচ হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার টাকা। প্রথমদিকে ফলন ভালো হলেও পরে করলার গাছ মারা যেতে শুরু করে।
আরও ৮ শতক জমিতে শীতকালীন সিম চাষে খরচ হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার টাকা। গাছ ফুলে ভরে গেলেও ফল ঝরে পড়ছে— ফলে কোনো ফলন পাচ্ছেন না তিনি।
কান্না জরিত ভারি কন্ঠে হতাশার সুরে বাচ্চু হোসেন বলেন, “আমি নতুন একজন কৃষি উদ্যোক্তা। ভেবেছিলাম ভালো ফলন পেলে পরের বছর আরও জমি নেবো। কিন্তু কৃষি অফিসের সাড়া না পেয়ে এখন সব কিছু নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যে টাকা খরচ করেছি, তাও আর উঠবে না। স্বপ্ন দেখেছিলাম লাভবান হবো, কিন্তু এখন দুঃস্বপ্নই বাস্তব।”
স্থানীয় কৃষকরা বলেন, কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা যদি নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করে পরামর্শ দিতেন, তবে অনেক কৃষকই এই ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেতেন
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গাজিউল হক বলেন, “আমাদের চাইতে কৃষকরা এখন অনেক সচেতন ও জানেন। উক্ত কৃষকের বিষয়ে আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে তার জমি পরিদর্শন করা হবে।”
Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email
Print