ডিসেম্বর ১, ২০২৫ ৪:৪৬ পূর্বাহ্ণ

বিএসটিআইয়ের অনুমোদনহীন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরী হচ্ছে সেমাই

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে সেমাই। ছবিঃ এনসিএন
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে সেমাই। ছবিঃ এনসিএন

ঈদ এলেই বগুড়ায় সেমাাই তৈরীর হিড়িক পড়ে যায়। কিন্তু সেটা খোলাই হোক  বা প্যাকেট জাত হোক।  বগুড়ায়  অসংখ্য বিএসটিআই এর অনুমোদনহীন সেমাই কারখানা গড়ে উঠেছে। বিএসটিআই অনুমোদন বিহীন এই সব সেমাই কারখানায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরী হচ্ছে সেমাই।

উৎপাদনের মেয়াদ উত্তীর্ণ সিল আগে থেকে মোড়কে বসিয়ে দেন কর্মীরা। সেমাই তৈরীর পর সেই মোড়কে প্যাকেট জাত করা হয়।

দুইটি ব্রান্ডের সেমাই এর বিএসটিআই অনুমোদন নিয়ে ৬টি ব্রান্ডের বিভিন্ন নামে সেমাইকে চালিয়ে দিচ্ছেন এক অসাধু ব্যবসায়ী। এমনি একটি সেমাই কারখানার সন্ধান মেলে বগুড়া এরুলিয়ায় ইউনিয়নে।

বাহির থেকে বোঝার কোন উপায় নেই যে ভেতরে একটি সেমাই কারখানা আছে। অথচ বছরের পর বছর সরকারের চোখ ফাকি দিয়ে কোন রকম অনুমোদনহীন এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে এসকল লাচ্ছা সেমাই।

মেঝেতে রেখে খালি হাতে প্যাকেজিং হচ্ছে সেমাই। ছবিঃ এনসিএন

জনতা ফুড প্রডাক্ট নামের এই সেমাই কারখানার সামনে কোন সাইন বোর্ড নেই। বাহির থেকে মনে হবে একটি পোড়ো বাড়ি। এই কারখানায়  টি ভিন্ন ভিন্ন নামের সেমাই প্যাকেট জাত করা হয়। এর মধ্যে আছে উত্তরা, ফৌজি, কুলসুম, বোম্বে, রালেক্স ও অন্য একটি নামের পাকেট জাত সেমাই গুলোর মধ্যে উত্তরা ফৌজি নামের প্রাকেট জাত সেমাইয়ের বিএসটিআইর অনুমোদন থাকলেও বাকি ৪টি ব্রান্ডের বিএসটিআই এর অনুমোদন নেই। এই দুইটি সেমাইয়ের আড়ালে উৎপাদন হচ্ছে অন্য ৪টি ব্রান্ডের সেমাই।

কারখানার মধ্যে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে ভাজা সেমাই মেঝেতে স্তুপ করে রাখা হয়েছে। একটু অন্যদিকে দৃষ্টি দিতেই দেখা গেল আরো  স্তুপ করা প্যাকেট সেমাই। রালেক্স নামের মোড়কে প্যাকেটজাত করা এইসব  সেমাইয়ের প্যাকেটে বিএসটিআইর কোন লোগো নেই। তাছাড়া আগে থেকে ছাপানো  ফাঁকা মোড়কের গায়ে উৎপাদন মেয়াদ উত্তীর্ণ তারিখ হাতে তৈরি সিল দিয়ে বসানো হয়েছে। 

এই কারখানার ফৌজি উত্তরা ব্রান্ডের সেমাইকে ২২.০১.২০ থেকে ৩০.০৬.২০২২ পর্যন্ত তৈরীর অনুমোদন দিয়েছে বিএসটিআই।বিষয়টি বিএসটিআই বগুড়ার ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নজরে আনা হলেও গত ১০ দিনে এই সেমাই কারখানার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

বিএসটিআই এর উৎপাদন মেয়াদ উত্তীর্ণ তারিখ মোড়কে থাকায় ৮০ উর্ধ বয়সের  সেমাই কারখানার মালিক  আফসার আলীর সাথে বিষয়ে কথা বললে তিনি এর জন্য দু: প্রকাশ করেন। এটি তাদের ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করেন। পরবর্তীতে ১৫ দিন পরে তাদের কর্মকান্ড পুণরায় দেখতে চাইলে তারা বিরুপ ব্যবহার করেন সংবাদকর্মীদের সাথে এবং বলেন “আপনারা যা পারেন করেন। আমি আমার মতোই কাজ চালিয়ে যাবো।”

তাদের অন্য ৪টি ব্রান্ডের বিএসটিআই এর অনুমোদন নেই। মানুষ না জেনে এইসকল অস্বাস্থ্যকর পন্য কিনছেন।

তাছাড়া নোংরা পরিবেশে সেমাই তৈরী হচ্ছে। খালি পায়ের উৎপদিত খোলা সেমাই মাড়িয়ে চলাফেরা করছে কারখানার কর্মচারিরা। সেমাই কারখানার মালিক জানালেন তারাই শুধু বিএসটিআই অনুমতি ছাড়া করছে না। অন্য দোকান থেকে তৃপ্তি রালেক্স ব্রান্ডের একটি প্যাকেট জাত সেমাই এনে দেখিয়ে বলেন, তারাই শুধু বিএসটিআইয়ে অনুমোদন ছাড়া সেমাই উৎপাদন করছেন না। বগুড়ায় অনেক সেমাই কারখানা আছে যারা বিএসটিআই অনুমতি ছাড়াই সেমাই উৎপাদন করছে বলে জানান জনতা ফুড প্রডাক্ট এর মালিক আফছার আলী। এই সেমাইয়ের নামকরণ হয়েছে পাকিস্থানে তৈরি বিখ্যাত ব্রান্ড রোলেক্স সেমাইথেকে রালেক্স সেমাই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসকল পণ্য স্বাস্থ্যের জন্য যেমন ক্ষতিকর অন্যদিকে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে রাজস্ব আয় থেকে।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email
Print