ডিসেম্বর ১, ২০২৫ ৪:৪৭ পূর্বাহ্ণ

ভরা মৌসুমে আলুর দাম কম তাই হিমাগারে আলু মজুদে উৎসাহী কৃষকেরা

হিমাগারে আলু তুলছেন কৃষকেরা। ছবিঃ এন সি এন
হিমাগারে আলু তুলছেন কৃষকেরা। ছবিঃ এন সি এন

বগুড়ায় এবার আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। মাঘ মাস শেষ চলছে আলু তোলার মৌসুম। উত্তরবঙ্গের বগুড়ায় জমিগুলো থেকে আলু তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। নারী কিংবা পুরুষ সকলেই একযোগে কাজ করছেন আলুর ক্ষেতে।

ভরা মৌসুমে আলুর দাম অনেকটাই সস্তা বলা চলে। জমি থেকে সদ্য তোলা প্রতিকেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৯ টাকা দামে এবং এক মণ বিক্রি হচ্ছে ৩৬০ টাকা দামে। তবে এ দামে তাদের লাভ খরচ সমান হবে বলে জনান কৃষক লাল মিয়া। তিনি জনান, “এ বছর ৬ বিঘা জমিতে আলু লাগিয়েছি। তাতে আমার খরচ হয়েছে প্রায় এক লাখ টাকার উপরে। সেই সাথে কোল্ড স্টোরের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে এবার। গত বছরে ৬০ কেজির বস্তা রাখতে খরচ হয়েছিলো ২০০ থেকে ২২০ টাকা। আর এ বছরে কেজি প্রতি ৫ টাকা করে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং বস্তার ওজন ৫০ কেজি নির্ধারণ করা হয়েছে তাতে বস্তাপ্রতি খরচ পড়ে ২৫০ টাকা। তাই বাড়তি এ খরচ জোগাতে এবং কিছুটা লাভের আশায় আলু স্টোরেজে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

নতুন এ আলু কোল্ড স্টোরেজে উঠবে এবং এর গুণগতমান অক্ষুণ্য রাখতে আজ সোমবার বগুড়ার কাহালু উপজেলায় মনসুর কোল্ড স্টোর নামে একটি নতুন কোল্ড স্টোরেজের উদ্ভোধন হয়। কৃষকদের তোলা নতুন এ আলু স্টোরে রাখার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। স্টোরের মালিক মনসুর রহমান নর্থ ক্যাপিটাল নিউজকে জানান, “জমি থেকে তোলা নতুন এ আলুর গুণগতমান বজায় রাখতে সঠিক তাপমাত্রা অনুসরণ করে আলু হিমাগারে রাখার ব্যবস্থা করেছি।”

আলু তুলতে ব্যস্ত কৃষকেরা। ছবিঃ এন সি এন

আলু হিমাগারে রাখতে এবার খরচ বেশি ধরা হচ্ছে প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি জানান, “গত বছর ২০২১ সাল থেকেই বগুড়া জেলা কোল্ড স্টোরেজ ওনার্স এসোসিয়েশন কর্তৃক নির্ধারিত কেজি প্রতি ৫ টাকা করে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছিলো। তবে এ বছর থেকে তা সম্পূর্ণভাবে কার্যকর করা হয়েছে এবং বস্তা প্রতি ওজন ৫০ কেজি নির্ধারণ করা হয়েছে।” এতে করে কৃষকদের অথবা স্টোর মালিক কার লাভ বেশি জানতে চাইলে তিনি আরো জানান, “এতে করে আমাদের উভয় পক্ষেরই লাভ হবে। কেননা কৃষকের বস্তার ওজন ৫০ কেজি থাকলে একদিকে যেমন তার বস্তা ফেটে আলু পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না। একই সাথে তারা আলু নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা পাবে। অন্যদিকে বস্তার সাইজ ছোট হওয়ার কারণে স্টোরে বাড়তি জায়গা তৈরি হবে এবং আলু সব দিক থেকে সঠিক তাপমাত্রা গ্রহণ করতে পারবে। এতে করে আমরা আরো বেশি আলু সেখানে মজুদ করার জায়গা পাবো।”

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় এবার ৫৮ হাজার ৬০০ হেক্টর আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদন ধরা হয়েছে ১১ লাখ ৮৭ হাজার ৮২২ টন। আশা করা যাচ্ছে, চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গিয়ে ১২ লাখ টনেরও বেশি আলু উৎপাদন হবে।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email
Print