বগুড়া: একমাস পেরিয়ে গেলেও এখনো অপসারণ হয়নি কাল বৈশাখী ঝড়ে উপড়ে যাওয়া শহরের প্রধান বিনোদন কেন্দ্রের শতবর্ষী গাছগুলো। এতে যেমন বিঘ্নিত হচ্ছে বিনোদন কেন্দ্রের পরিবেশ ঠিক তেমনি অসন্তোষ দেখা দিয়েছে শহুরে মানুষদের মাঝে।
চলতি বছরের ২১ মে বগুড়ার উপর দিয়ে সর্বোচ্চ ৮৮.৬ কি.মি. গতিবেগে কাল বৈশাখী ঝড় বয়ে যায়। এতে গোটা জেলা জুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি শহরের পৌর এডওয়ার্ড পার্ক ও খোকন পার্কের বেশকিছু শতবর্ষী গাছ উপড়ে যায়।
তবে এ ঘটনার একমাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কোন পদক্ষেপ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কেউই। যার ফলে বিঘ্নিত হচ্ছে বিনোদন কেন্দ্রের পরিবেশ। শুধু তাই নয়, শহুরে মানুষদের মাঝেও চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।
সপ্তাহের ছুটির দিনে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শহরের গোহাইল রোডের পৌর এডওয়ার্ড পার্কে ঘুরতে আসেন নানা শ্রেণী পেশার মানুষ। এখানে পরিবারের সাথে ভালো সময় কাটাতে এবং শিশুদের মেধা ও মনন বিকাশে ছুটে আসেন তারা। কিন্তু কাল বৈশাখী ঝড়ে উপড়ে যাওয়া গাছগুলো অপসারণ না করায় প্রতিবন্ধতকতা সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পার্কে ঘুরতে আসা অনেক পরিবারই।
এদিকে সকাল কিংবা সন্ধ্যা হলেই শহরের নানা শ্রেণী পেশার মানুষ এই পার্কে হাঁটতে আসতেন। কিন্তু গেল একমাসেও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের অবহেলায় গাছগুলো অপসারণ না করায় তাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বেড়েই চলেছে বলে জানালেন ৬৫ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা রায়হানুল তালুকদার।
তিনি জানালেন, গেল এক মাসে এই পার্কের পরিবেশ ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। আগের মতো এই পার্কে এখন আর প্রাণের সঞ্চার দেখতে পাই না। কেননা পার্কের অধিকাংশ স্থানেই ভেঙে পড়ে আছে শতবর্ষী গাছগুলো। এতে যেমন আমাদের চলাফেরায় সমস্যা হচ্ছে তেমনি স্বাস্থ্য ঝুঁকিও বাড়ছে। এখানে অনেকেই হাঁটতে আসেন যারা বহুরোগে আক্রান্ত কিন্তু গাছগুলো না সরানোর কারণে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।
শহরের আরেক বিনোদন কেন্দ্র খোকন পার্ক। সেখানেও পরে আছে বছরের পর বছর ছায়াদানকারী একটি পাকুড় গাছ। উপরে যাওয়া সেই গাছেরও একই কাহিনী।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একে অপরের উপরে দায়ভার চাপিয়ে দিচ্ছেন।
বিষয়টি নিয়ে বগুড়ার পৌর মেয়র রেজাউল করিম বাদশা জানালেন, জেলার বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে একাধিকবার চিঠি দিলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া জানতে পারিনি। শুধু তাই নয়, শহরের নাগরিকদের সুস্থ ও সুন্দর বিনোদন কেন্দ্র উপহার দিতে বিষয়টি সুরাহার চেষ্টা করেও আমরা ব্যর্থ হয়েছি। কেননা বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া আমরা এসব গাছ অপসারণ করতে পারছি না।
যদিও ভিন্ন কথা বলছেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আব্দুল আওয়াল। তার ভাষ্যে, ‘এ বিষয়টি জানেন না উল্লেখ করে উল্টো দায় চাপালেন ফরেস্ট রেঞ্জের উপরে। পাশাপাশি বগুড়ার পৌরসভা কর্তৃক একাধিকবার চিঠি দেয়া হলেও সে বিষয়টিও অস্বীকার করেন এই কর্মকর্তা।’
এনসিএন/এআইএ
