জুন ২৩, ২০২৪ ৮:৪৩ পিএম

হুর হুর করে শুরু ও শেষ হয় যে মেলা

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার চেরাগপুর গ্রামে ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ হুরমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। হুর মানে কোন রমনি কে বুঝানো হয়না। গ্রামের একটি বিশেষ বট গাছের নিচে দিনব্যাপী হুড় হুড় (তাড়াহুড়ো) করে এ মেলা শুরু ও শেষ হয় বলে একে হুর মেলা বলে। মেলায় প্রায় দুই শতাধিক বিভিন্ন দোকান পসরা সাজিয়ে বসেছে। দিন ব্যাপী মেলায় প্রায় ৩০ লাখ টাকার বেচাকেনার আশা ব্যবসায়িদের এ মাজারে মনের বিশ্বাসে মানত করেন নানান ধর্মের মানুষ। তবে উদ্যেশ্য যাই হোক কেন মনোবাসনা পূরনই যেন সকলের প্রত্যাশা। গ্রামীণ এ মেলার মধ্য দিয়ে সম্প্রতির বন্ধন অটুট থাকবে এমন প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।

চেরাগপুর গ্রামের পুকুর পাড়ে একটি বিশেষ বট গাছের নিচে মাটির একটি ঘরের মধ্যে মন্ডপ ও মাজার। আর এ মাজারে ধর্মবর্ণ বিনিশেষে সকল শ্রেনীর মানুষরা মানত করে থাকেন। প্রতি বছরের পহেলা বৈশাখের দ্বিতীয় রবিবার এ বটগাছের নিচে মেলা হয়ে থাকে। তবে এ বছর এক মাস পর জৈষ্ঠ্য মাসের রোববার মেলা হয়। কৃষি প্রধান এলাকা হওয়ায় ধান কাটা মাড়াইয়ের পর বটগাছের আশপাশেসহ ফাঁকা মাঠে মেলা হয়। এটি ঐতিহ্যবাহী হুর মাজার মেলা নামে পরিচিত।

গ্রামীণ এ মেলায় বিভিন্ন পদের মিষ্টান্ন ও খাবারের দোকান, খেলনা সামগ্রি, কসমেটিক, মৌসুমি ফল এবং কৃষিযন্ত্রপাতিসহ আসবাবপত্রে দোকান পসরা দিয়ে সাজানো হয়েছে। এমনকি রুই, কাতলা ও পাঙ্গাস মাছ এবং গরু ও মহিষের মাংসও বিক্রি হয়। দিনব্যাপী এ মেলা হলেও কসমেটিক ও কাঠের আসবাবপত্রের দোকান থাকে আরো কয়েকদিন।

মানত করে যাদের মনোবাসনা পুরণ হয় তারা এ মাজারে এসে রান্না করে উপস্থিত সবার মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়। আবার অনেকে এখানে পরিবারের সবাই দল বেঁধে এসে রান্না করে খান। আশপাশের অন্তত ১৮-২০ টি গ্রামের মানুষের পদচারণায় মেলা প্রাঙ্গন এক মিলন মেলায় পরিনত হয়। দীর্ঘদিন থেকে এ মেলা হয়ে আসছে এবং উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় মেলা।

স্থানীয়রা জানান- হুর মেলাকে কেন্দ্র করে আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে এ মেলায় মানুষ আসে। এছাড়া মেয়ে ও জামাইকে দাওয়াত করে নিয়ে আসা হয়। একদিনের জন্য গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে আত্মীয়-স্বজনদের আগমনে যেন আনন্দ উৎসব বিরাজ করে।

মাজারের খাদেম শুকচান বলেন- বিভিন্ন ধর্মের মানুষরা মানত করে থাকে। তাদের আশা পুরন হলে পরে এ মাজারে এসে রান্না করে সবাইকে খাওয়ায়। দেশ স্বাধীনের পর থেকে বটগাছের নিচে এ মাজারে মেলা হয়ে আসছে।

মিষ্টান্নের দোকানী উজ্জল কুমার বলেন- দিনব্যাপী মেলা হলেও একদিন আগে এসে বিকেল থেকে দোকান সাজিয়ে বেচাকেনা শুরু করেছি। দিনব্যাপী মেলায় লক্ষাধিক টাকার বিভিন্ন মিষ্টান্ন বিক্রি হয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় এবার বেচাকেনা কিছুটা কম। কারন হতে পারে মানুষের এখনো ধান কাটা-মাড়াই শেষ হয়নি। হয়ত টাকা পয়সা নেই। একারণে মেলায় মানুষের পরিমাণ কিছুটা কম।

মেলা কমিটির সভাপতি ও ইউপি মেম্বার জাকির হোসেন বলেন, প্রাচীনতম এ হুর মেলায় ধর্মবর্ণ বির্নিশেষে বিভিন্ন এলাকা থেকে সকল শ্রেনী পেশার মানুষের আগমণ ঘটে। তবে কবে থেকে এ মেলা হয়ে আসছে তা জানেন না স্থানীয়রা। তবে দেশ স্বাধীনদের পর থেকে এ মেলা হয়ে আসছে। একদিনের জন্য এ গ্রামে মিলন মেলায় পরিনত হয়। মেলায় প্রায় দুই শতাধিক বিভিন্ন দোকান অংশ নিয়েছে। দিনব্যাপী মেলায় প্রায় ৩০ লাখ টাকার বেচাকেনার আশা।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email
Print