“পেশায় একজন শিক্ষক। তবে ছবি আঁকতে সিদ্ধহস্ত। সম্প্রতি বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসিকে নিয়ে সাদা কাপড়ে দৃষ্টিনন্দন ছবি একেঁছেন বগুড়ার চিত্রশিল্পী তারিকুল ইসলাম। তার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেছেন আশরাফুল ইসলাম আকাশ…
লিওনেল মেসি। ফুটবল প্রেমীদের কাছে এই নামটা উৎসবের-উদ্দীপনার। আর সেই প্রিয় খেলোয়াড়কে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা কৌতুহল দেখিয়েছেন ভক্তরা। চলতি বিশ্বকাপেও যেন তার ব্যতিক্রম হলো না।
অ্যাক্রেলিক রঙে সাদা কাপড়ে আর্জেন্টাইন তারকা ফুটবলার এলএম টেনের ছবি আঁকা হয়েছে। যেখানে দু’চোখে আত্মবিশ্বাসে ভরা এক মেসিকে দেখা যাচ্ছে। এমন ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসতেই মেসি ভক্তদের মাঝে আলোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে।
দৃষ্টিনন্দন এমন ছবিটি একেঁছেন রামু ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের শিক্ষক ও চিত্রশিল্পী তারিকুল ইসলাম। মেসিকে নিয়ে তার ভালোলাগা এবং প্রত্যাশার কথা মুঠোফোনে শুনেছেন এই প্রতিবেদক।

মেসির প্রতি অগাধ ভালোবাসা
লেখাপড়ার পাঠ চুকিয়ে শিক্ষকতা পেশায় নিজেকে জড়িয়েছেন তারিকুল ইসলাম। তবে সুযোগ পেলেই বিভিন্ন সময়ে সৃষ্টিশীল মানুষদের নিয়ে ছবি আঁকেন। তবে প্রসঙ্গ যখন ফুটবল, তখন মেসিকে নিয়ে ভালোবাসাটা হৃদয় নিংড়ানো। চলতি বিশ্বকাপে অধরা জাদুর ট্রফি লিওনেল মেসি যেন হাঁতছানি দিতে পারেন সেজন্যই এমন উদ্যোগ।
হাসিঘরের অ্যাক্রেলিকে ‘আত্মবিশ্বাসী’ মেসি
পরিকল্পনা চলছিলো গেল কয়েকদিন ধরেই। কক্সবাজার হাসিঘর ফাউন্ডেশন সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে, তখন তো শুরু করায় যায়। তারিকুল জানালেন, রামুতে হাসিঘর ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ৩৪ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ২২ ফুট প্রস্থের সাদা কাপড়ে আক্রলিক ৭টি রঙের সাহায্যে মেসির ছবি আঁকা হয়েছে। আমার মনে হয়, সারা বিশ্বের মধ্যে কাপড়ে আঁকা এই ছবিটিই প্রথম।
প্রদর্শনীতে লিওনেল মেসি
সাদা কাপড়ে হাতে আঁকা মেসিকে নিয়ে একক চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার দুপুর ৩টায় কক্সবাজারের সুগন্ধা পয়েন্ট সমুদ্র সৈকত আকাশের সাত রঙের ভিন্ন এক মেসিকে দেখা যাবে। সেখানে মেসির সবচেয়ে ক্ষুদ্র ছবি মিষ্টি কুমড়া বীজে আঁকা আটটি ছবিও থাকবে।
স্বপ্ন ‘গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ডে’
আকাশের সাত রঙে আঁকা মেসির সবচেয়ে বড় ছবির জায়গা হবে ‘গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ডে’ স্বপ্ন দেখছেন তারিকুল। তার কথায়, ‘নিশ্চয়! সুযোগ মিললে অবশ্যই গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ডে আবেদন করব। যেহেতু অনেক শ্রম দিয়ে কাজটি করেছি। তাই চাইব এ ধরনের স্বীকৃতি আমাকে উৎসাহিত করবে।’

এবারই প্রথম নয়
তবে এবারই প্রথম নয়, এর আগেও কোপা আমেরিকা চলাকালীন সময়েও মেসিকে কুমড়ো বীজে ফুটিয়ে তুলেছিলেন তিনি। সেবারই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক শিরোপা মেসিকে জড়িয়ে নিয়েছিলো। আর সেই ভালোবাসায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আকৃতির কুমড়ো বীজে মেসিকে এঁকেছিলেন এই চিত্রশিল্পী।
এনসিএন/এআইএ
