ডিসেম্বর ১, ২০২৫ ৩:৫৫ পূর্বাহ্ণ

আজ থেকে পর্যটকদের জন্য সীমিত আকারে খুলছে সেন্টমার্টিনের দুয়ার; মানতে হবে ১২ নির্দেশনা

৮ মাসেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর আজ শনিবার (১ নভেম্বর) থেকে পর্যটকদের জন্য সীমিত আকারে খুলছে সেন্টমার্টিনের দুয়ার। তবে পর্যটক-খরার আশঙ্কায় জাহাজ চালানো শুরু না করার ঘোষণা দিয়েছেন মালিকরা।

সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নভেম্বরে পর্যটকরা শুধু দিনের বেলায় ভ্রমণ করতে পারবেন দেশের একমাত্র এই প্রবাল দ্বীপে। প্রতিদিন সেখানে যাওয়ার সুযোগ পাবেন মাত্র দুই হাজার ভ্রমণপিপাসু। তবে মানতে হবে সরকারি ১২টি নির্দেশনা।

নির্দেশনাগুলো হলো:

১. বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া সেন্টমার্টিন দ্বীপে কোনো নৌযান চলাচলের অনুমতি দিতে পারবে না।

২. পর্যটকদের অবশ্যই বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট ক্রয় করতে হবে, যেখানে প্রতিটি টিকিটে ট্রাভেল পাস এবং কিউআর কোড সংযুক্ত থাকবে। কিউআর কোড ছাড়া টিকিট নকল হিসেবে গণ্য হবে।

৩. দ্বীপে ভ্রমণের সময়সূচি এবং পর্যটক উপস্থিতিও এবার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে।

৪. নভেম্বর মাসে পর্যটকরা শুধু দিনের বেলায় ভ্রমণ করতে পারবেন, রাত্রিযাপন করা যাবে না।

৫. ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে রাত্রিযাপনের অনুমতি থাকবে।

৬. ফেব্রুয়ারি মাসে দ্বীপে পর্যটক যাতায়াত সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে।

৭. প্রতিদিন গড়ে দুই হাজারের বেশি পর্যটক দ্বীপে ভ্রমণ করতে পারবেন না।

৮. সেন্টমার্টিনের প্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে দ্বীপে রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, শব্দ সৃষ্টি, বা বারবিকিউ পার্টি করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

৯. কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ বা ক্রয়-বিক্রয়, সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুক ও অন্যান্য জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

১০. সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ যে কোনো মোটরচালিত যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

১১. নিষিদ্ধ পলিথিন বহন করা যাবে না এবং একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক যেমন চিপসের প্যাকেট, প্লাস্টিক চামচ, স্ট্র, সাবান ও শ্যাম্পুর মিনিপ্যাক, ৫০০ ও ১০০০ মিলিলিটারের প্লাস্টিক বোতল ইত্যাদি বহন নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

১২. প্লাস্টিকের বোতলের পরিবর্তে পর্যটকদের নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

এদিকে, সরকারি নির্দেশনার পাশাপাশি বিভিন্ন কড়াকড়ির কারণে পর্যটক-খরার আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। তাই জাহাজ চালানো শুরু না করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ। এমন ঘোষণায় সেন্টমার্টিন ব্যবসায়ীদের প্রস্তুতিও পড়েছে শঙ্কার মুখে।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email
Print