করোনা প্রাদুর্ভাবে দুই সপ্তাহ পিছিয়ে আজ ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্দা উঠবে বাংলা একাডেমি আয়োজিত ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০২২’। এবারের মেলার মূল প্রতিপাদ্য ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী’।
এদিন বিকাল ৩টায় গণভবন থেকে অনলাইনে সরাসরি যুক্ত হয়ে মেলার ভার্চুয়াল উদ্বোধন ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণের মঞ্চে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করবেন একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।
শুভেচ্ছা বক্তব্য দেবেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল মনসুর। বিশেষ অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। আর সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতায় প্রদান করা হবে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২১।
জানা গেছে, এবার বইমেলা হবে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রায় সাড়ে ৭ লাখ বর্গফুট জায়গায়। একাডেমি প্রাঙ্গণে ১০২ প্রতিষ্ঠানকে ১৪২ এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৩২ প্রতিষ্ঠানকে ৬৩৪ ইউনিট- মোট ৫৩৪ প্রতিষ্ঠানকে ৭৭৬ ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মেলায় থাকছে ৩৫টি প্যাভিলিয়ন। এর মধ্যে বাংলা একাডেমির প্যাভিলিয়ন থাকছে তিনটি।
গতকাল বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় বইমেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি।
বইমেলায় বাংলা একাডেমি ও মেলায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ২৫% কমিশনে বই বিক্রি করবে। অমর একুশে বইমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের ২০২২ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণগত মান বিচারে সেরা বইয়ের জন্য প্রকাশককে ‘চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার’ ও ২০২২ সালের বইমেলায় প্রকাশিত বইয়ের মধ্য থেকে শৈল্পিক বিচারে সেরা বই প্রকাশের জন্য তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ দেওয়া হবে।
এছাড়া ২০২২ সালে প্রকাশিত শিশুতোষ গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণগত মান বিচারে সর্বাধিক গ্রন্থের জন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে ‘রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার’ এবং চলতি বছরে মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে স্টলের নান্দনিক সাজসজ্জায় শ্রেষ্ঠ বিবেচিত প্রতিষ্ঠানকে ‘কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ প্রদান করা হবে।
এবারের গ্রন্থমেলায় বাংলা একাডেমি প্রকাশ করছে নতুন ও পুনর্মুদ্রিত ১০৭টি বই। বরাবরের মতো এবারের মেলায়ও থাকছে গ্রন্থ উন্মোচন, লেখক বলছি মঞ্চ, নতুন বইয়ের স্টল, শিশু চত্বর, পুলিশ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ, পর্যাপ্ত প্রবেশ ও বাইর পথ, আশ্রয় কেন্দ্র, নামাজঘর, পার্কিংব্যবস্থা, ব্রেস্ট ফিডিং জোন, টয়লেট ব্যবস্থা, হুইল চেয়ার, ফুডকোর্ট ইত্যাদি।
এবারের বইমেলা প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। আর শুক্র ও শনি ছুটির দিন বেলা ১১টায় মেলার দরজা খোলা হবে এবং ২১ ফেব্রুয়ারি মেলা শুরু হবে সকাল ৮টায়।
