সম্পদের অপমৃত্যু কিংবা অপব্যবহারের এক আদর্শ উদাহরণ হলো বগুড়া শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম। ২০০৬ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিষেক হয়ে সেই বছরেই শেষ আন্তর্জাতিক খেলা হয় সেখানে।
তবে এখন ২০২২ সাল। খবর উঠেছে বগুড়ার এয়ারপোর্ট পুনরায় চালু এবং রানওয়ে সম্প্রসাণের। এরই প্রেক্ষিতে গেল বছরের ১৫ নভেম্বর বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এর প্রতিনিধি দল বগুড়া বিমান বন্দরের সম্ভব্যতা যাচাই করেন এবং রানওয়ে সম্প্রসারণের নির্দেশ দেন।
এরই জের ধরে হয়তো আবারো আশার আলো দেখতে যাচ্ছে বিগত ১৫ বছর ধরে আন্তর্জাতিক খেলার স্বাধ না পাওয়া স্টেডিয়াম।গত বছরের টি–টুয়েন্টি ওয়াল্ডকাপে বাংলাদেশ দলের ব্যার্থতার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সফল ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা বগুড়া শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামের অনেক প্রশংসা করেছিলেন।

এরপর থেকে বগুড়ার পড়ে থাকা এ স্টেডিয়ামটি নজরে আসে বিসিবির।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা গেছে বগুড়া এয়ারপোর্টটি চালু হলে বগুড়ায় আবারো আন্তর্জাতিক খেলা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে পর্যন্ত আন্তর্জাতিক দলগুলো বাদে অন্যান্য জাতীয় দল এবং বাংলা টাইগার্স টিমের খেলা এই স্টেডিয়ামে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিসিবির অর্থায়নে সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে স্টেডিয়ামে। সরঞ্জাম হিসেবে ১টি অটো গ্রাস কাটার জিপ মেশিন, ১টি হ্যান্ড গ্রাস কাটার, বিশাল আকৃতির পিচ কভার ২টি পাঠিয়েছে বিসিবি।
এছাড়া মাঠে সেন্ট্রাল উইকেট ছিলো ৫টি এখন নতুন করে যোগ হচ্ছে আরো ২টি। প্রাকটিসের জন্য সাইড উইকেট তৈরি হবে ২টি। বহুদিন ধরে গ্যালারির অবস্থা দূর্বিসহ থাকার পর এখন গ্যালারিতে নতুন চেয়ার যোগ হতে যাচ্ছে। সম্প্রসারণ করা হচ্ছে খেলোয়াড়দের ব্যবহৃত টয়লেট, ড্রেসিংরুম সাথে পর্যাপ্ত এয়ারকন্ডিশনার ব্যবস্থা, ইনডোর ফ্যাসিলিটি সংস্কার এবং একটি আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট দল খেলতে যা কিছু দরকার সকল কিছু সম্প্রসারণ করা হচ্ছে বলে স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া স্টেডিয়ামের লাইটগুলো প্রতিদিন ব্যবহৃত না হলেও প্রতিমাসে বাড়তি ব্যায় গুণতে হচ্ছে ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা। যা বছরে গিয়ে দাঁড়ায় ২০ লাখ ৪০ হাজারে।
উল্লেখ্য যে, ২০০৬ সালের পর এখন পর্যন্ত ঘরোয়া আয়োজনে চলছে বিসিবি। তবে ভুলে গেলে চলবে না যে এই ভেন্যুতেই বিশ্বজয় করেছিলো অনুর্ধ–১৯ দল। সাউথ আফ্রিকার সাথে খাপ খাওয়াতে এখানেই ক্যাম্প করেছিলো বিসিবি। ২৫ দিনের এ ক্যাম্প এনে দিয়েছিলো বিশ্বকাপ।
