ডিসেম্বর ১, ২০২৫ ৩:৫৬ পূর্বাহ্ণ

লোকবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে বঞ্চিত বগুড়ার অগ্নিদগ্ধ রোগীরা

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল। ছবি: এনসিএন
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল। ছবি: এনসিএন

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে বার্ন ইউনিটের ভৌত অবকাঠামো থাকলেও নেই যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় লোকবল। এতে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বগুড়ার আগুনে পোড়া রোগীরা।

এর কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশে করোনার ঢেউ সামলাতে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালকে করোনা হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণা করে স্বাস্থ্য বিভাগ। এতে বন্ধ হয়ে যায় বার্ন ইউনিটের চলমান কার্যক্রম।

মূলত করোনার কারণে বার্ন ইউনিটকে আইসিইউতে রুপান্তর করে কোভিডে আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হয় ১০ শয্যার ওই ইউনিটটি।

দেশে টানা দুবছর করোনা প্রাদুর্ভাবে বেসামাল হয়ে পরে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলো। এসময় সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ২৫০ শয্যার মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালকে করোনা হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

এখন করোনার প্রাদুর্ভাব কমে যাওয়ায় বার্ন ইউনিটসহ হাসপাতালে জুড়ে ভর্তি কোনো করোনা রোগী নেই। তবে করোনার চতুর্থ ঢেউ সামলাতে এখনও বার্ন ইউনিটকে প্রস্তুত রেখেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এদিকে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বার্ন ইউনিটের জন্য জনবল ও যন্ত্রপাতির চাহিদাপত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করেছে।

এর মধ্যে রয়েছে সিনিয়র কনসালটেন্ট ১ জন, জুনিয়র কনসালটেন্ট ২ জন, সহকারী রেজিস্ট্রার ২ জন, আইএমও ৪ জন, এমও ৪ জন, এনেসথেসিওলজিস্ট ২ জন, সিনিয়র স্টাফ নার্স ১৬ জন, অফিস সহায়ক ১২ জন, ওয়ার্ড বয় ১২ জন ও পরিচ্ছন্ন কর্মী ৮ জন।

বিষয়টি সম্পর্কে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের উপ-পরিচালক এ টি এম নুরুজ্জামান বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক আমাদের এখানে ১০ শয্যা বিশিষ্ট বার্ন ইউনিটের কাজ শুরু হয়। পরে পিডব্লিউডি কর্তৃক কাজ সম্পন্ন শেষে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে লোকবল সৃজন ও যন্ত্রপাতির চাহিদাপত্র স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে প্রেরণ করি। কিন্তু বাংলাদেশে করোনা প্রাদুর্ভাব শুরু হলে বার্ন ইউনিটের জায়গায় করোনা ইউনিট স্থাপন করা হয়।’

তিনি আরো বলেন, করোনাকালে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে উত্তরাঞ্চলের প্রায় ৮ অঞ্চলের মানুষ চিকিৎসা নিয়েছেন। ওই সময় হাসপাতালের বার্ন ইউনিটকে উপযোগী মনে করায় সেখানে ১০টি আইসিইউ বেড, ভেল্টিনেটর ও মনিটর স্থাপন করে স্বাস্থ্য বিভাগ। তবে বর্তমানে করোনা রোগী না থাকায় জায়গাটি ফাঁকা রয়েছে। কিন্তু করোনার চতুর্থ ঢেউ সামলাতে ইউনিটটি প্রস্তুত রেখেছি। আগামীতে এই বার্ন ইউনিট চালু করতে আমরা মন্ত্রণালয়কে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়েছি বললেন এই কর্মকর্তা।

এনসিএন/এআইএ

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email
Print