ডিসেম্বর ১, ২০২৫ ৫:২২ পূর্বাহ্ণ

কৃষকের তরমুজ হাত বদলেই দাম চারগুণ

মৌসুমী ফল তরমুজ। ছবি: এনসিএন
মৌসুমী ফল তরমুজ। ছবি: এনসিএন

বগুড়া: রমজান সংযমের মাস হলেও ব্যবসায়ীদের কাছে যেন অন্যায্য মুনাফার এক বিশাল সুযোগ। এই সময়ে পণ্যের দাম বাড়িয়ে বাড়তি মুনাফা করা তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

চলতি রমজানেও অস্থির হয়ে উঠেছে নিত্যপণ্যের বাজার। সবচেয়ে বেশি অরাজকতা যেন ফলের বাজারে। এককথায় পাগলা ঘোড়ায় পরিণত হয় স্থানীয় পাইকারি ও খুচরা ফলের বাজারগুলো।

গেল কয়েকদিনে হু হু করে বৃদ্ধি পেয়েছে সব ধরনের ফলের দাম। এ তালিকায় সবার উপরে আছে গ্রীষ্মকালীন ফল তরমুজ। সারাদিন সিয়াম সাধনার পর ইফতারে রসালো ফল তরমুজে তৃপ্তি মেটাতে অধিকাংশ মানুষই কিনছেন তরমুজ। গ্রীষ্মের ভ্যাপসা গরম ও রমজানে এই ফলের চাহিদা থাকায় দাম বেড়েছে অন্তত দুই থেকে চারগুণ।

সরেজমিনে বগুড়া শহরের সাতমাথা, কাঠালতলা, ৩ নাম্বার রেলগেইট, নামাজগড়, হাকির মোড় ঘুরে দেখা গেছে, মানভেদে একেকটি তরমুজ বিক্রি হচ্ছে তিন থেকে চারশ টাকায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই একটা গোটা তরমুজ কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন মধ্যম আয়ের ক্রেতারা।

এদিকে ক্রেতারা অভিযোগ করে বলেন, ‘রমজানে তরমুজের চাহিদা আছে জেনে ইচ্ছাকৃতভাবেই ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়েছে। সপ্তাহ খানেক আগেই যে তরমুজ ৩০ টাকা কেজিতে কিনেছি, তা এখন ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে।’

শহরের তিন নাম্বার রেললাইনের উপরে তরমুজ নিয়ে বসে আছেন খুচরা ব্যবসায়ী আনোয়ারুল ইসলাম মুকুল (৪২)। তিনি তরমুজ কিনেছেন মহাস্থান হাট থেকে। মুকুল প্রতি কেজি তরমুজ বিক্রি করছেন ৪৫ টাকায়।

মুকুলের কথায়, ‘আজ তরমুজের দাম তুলনামূলকভাবে আরো বেড়েছে। সকালে এক মণ তরমুজ কিনেছি ১৪০০ টাকায়। এরপর কুলি, খাজনা ও ভ্যান ভাড়াসহ খরচ হয়েছে আরো ৫০০ টাকা। তাহলে বলেন আমরা কিভাবে তরমুজের দাম বেশি নিচ্ছি।’

তিনি পাইকারি ব্যবসায়ীদের দিকে অভিযোগ ঠেলে দিয়ে আরো বলেন, ‘ক্রেতাদের অভিযোগের তীর আমাদের দিকেই। কিন্তু আমাদের করার কিছু নেই। মূলত পাইকারি ব্যবসায়ীরাই তরমুজের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। এজন্য আমাদেরও বেশি দাম কিনতে হচ্ছে।’

যদিও ভিন্ন কথা বলছেন স্থানীয় পাইকারি ব্যবসায়ীরা। তারা জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আমাদের এখানে তরমুজ আসে। অন্যান্য দ্রব্যমূল্যের দাম বেড়ে যাওয়াতে স্বাভাবিকভাবেই তরমুজের দাম বেড়েছে। এমনকি পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, নওগাঁ থেকে তরমুজ আনতেও খরচ বেড়ে যাচ্ছে। ফলে কিছুটা বেশি দামে তরমুজ বিক্রি করছেন বলে জানিয়েছেন পাইকাররা।

তবে কৃষি বিপণন আইনে পরিষ্কার ভাবে উল্লেখ আছে কিভাবে, কতটুকু মুনাফায় তরমুজ বিক্রি করা যাবে। খোঁজ নিয়ে যায়, সকল প্রকার তাজা ফলের ক্ষেত্রে উৎপাদক পর্যায়ে ৩০ শতাংশ, পাইকারি পর্যায়ে ২০ শতাংশ এবং খুচরা পর্যায়ে যৌক্তিক মুনাফার সর্বোচ্চ হার নির্ধারণ করে দিয়েছে ৩০ শতাংশ। কিন্তু আইনের তোয়াক্কা না করেই ক্রেতাদের কাছে ইচ্ছানুযায়ী তরমুজের দাম হাঁকছেন বিক্রেতারা।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email
Print