পদ্মা সেতুকে ঘিরে কৃষি পন্য ও কৃষি শিল্প উৎপাদেন সমৃদ্ধ উত্তরাঞ্চলের প্রবেশ দ্বার বগুড়ার কৃষক ও কৃষি যন্ত্রপাতি শিল্প মালিকরা ব্যবসার প্রসারে অপেক্ষার প্রহর গুনছে।
জেলা বিসিক এর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার এ,কে,এম, মাহফুজুর রহমান জানান, পদ্মা সেতু দেশের উত্তারাঞ্চলের সাথে দক্ষিনাঞ্চলের মধ্যে ব্যবসা-বানিজ্য বাড়বে। বগুড়ায় উৎপাদিত কৃষি যন্ত্রপাতি দেশের দক্ষিণ অঞ্চলে পাঠাতে প্রধান অন্তরায় ছিল পদ্মা। দেশের চাহিদার ৮০ শতাংশ কৃষি যন্ত্রপাতি বগুড়ায় তৈরী হয়ে থাকে।
বগুড়ায় উৎপাদিত কৃষি পণ্য সবজি, ধান, পাট, লাল মরিচ আগের থেকে সহজে ও কম খরচে পৌঁছানো যাবে দেশের দক্ষিণাঞ্চল পদ্মার ওপারের বিভিন্ন স্থানে।
বগুড়া বিসিকে ৫৬টি ফাউন্ড্রি ও প্রায় ২ হাজার লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প আছে। এখন আর কৃষি যন্ত্রপাতির যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয় না। কৃষি যন্ত্রপাতিসহ অন্য যানবাহন-শিল্পকারখার যন্ত্র এবং যন্ত্রাংশ তৈরী হয়ে থাকে বগুড়ার ফাউন্ড্রি থেকে।
শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত বগুড়ায় পঞ্চাশের দশকে প্রতিষ্ঠিত সব ভারী শিল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে সত্তরের দশকে জেলায় মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্প স্থাপনে ব্যাপক সাড়া পড়ে। এ কারণে ১৯৬৪ সালে শহরের ফুলবাড়ি এলাকায় সাড়ে ১৪ একর জায়গার ওপর গড়ে তোলা হয় বিসিক শিল্পনগরী। উদ্যোক্তাদের চাহিদার প্রেক্ষিতে ১৯৮০ সালে আরও ১৮ দশমিক ৬৭ একর জায়গা সম্প্রসারণ হয়।
শিল্প ইউনিটে প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে কৃষিযন্ত্রাংশ। এই যন্ত্রাংশগুলো সড়ক পথে ময়মনসিংহ, সিলেট, জামালপুর, টাঙ্গাইল, ঢাকা, সাভার, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, ঠাকুরগাঁওসহ উত্তরের জেলায় বিক্রি হয়ে থাকে। দেশের দক্ষিণ অঞ্চলে সড়কপথ না থাকায় এবং নদী পথের কারণে সে অঞ্চলে বগুড়ার তৈরি কৃষি যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ ও কৃষি পণ্য পরিবহনে তেমন সাড়া ছিল না। কিন্তু এবার পদ্মা সেতুর কারণে নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে বগুড়ার কৃষক ও কৃষি যন্ত্রাংশ তৈরির শিল্পের মালিকদের।
বগুড়া বিসিকের ডিজিএম এ, কে, এম মাহফুজুর রহমান জানান, কৃষি যন্ত্রংশ ছাড়াও টাইলস, ওষুধ, প্লাস্টিক, ব্রেড অ্যান্ড বিস্কুট, এলুমিনিয়াম, সিরামিক পন্য, কাগজ পাটজাত পণ্য কীটনাশকসহ বগুড়া বিসিকে মোট কারখানা রয়েছে ৯৩টির বেশি। এই সব শিল্প কারখানার প্রসার ঘটবে। পক্ষান্তরে দক্ষিণাঞ্চলের উৎপাদিত কৃষি পণ্য উত্তরাঞ্চলে আসবে।
জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক এনামুল হক জানান, দক্ষিণাঞ্চলে অনেক কৃষি পণ্য কয়েক হাত বদল হয়ে উত্তরাঞ্চলে আসতে পণ্যের দাম বেড়ে যেত। এতে লাভবান হতো ফড়িয়ারা। কৃষক তার ন্যায্য মূল্য পেতনা। তাছাড়া পদ্মা পারাপারে মাওয়া ঘাটে পণ্যবাহী পরিবহনকে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হতো অনেক কৃষি পণ্য ঘাটেই নষ্ট হতো। ট্রাক ভাড়া বেশি পড়তো।
তিনি উদাহরন টেনে আরো বলেন, বরিশাল, পটুয়াখালি তরমুজসহ অনেক পণ্যের প্রকৃত মূল্য পেত না কৃষক। এই পদ্মা বহুমুখি সেতু উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে ব্যাবসা বানিজ্যের একটি সেতু বন্ধন। তা ছাড়া ঈদে ফেরির জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষার প্রহর শেষ হবে।
বগুড়া জেলা চেম্বার অব কমার্সের সহ-সভাপতি মাহফুজুর রহমান রাজ জানান, ”এতদিন উত্তরাঞ্চল থেকে দক্ষিণাঞ্চলের পণ্য পরিবহনে প্রতিবন্ধকা ছিল পদ্মা নদী। এখন পদ্মা সেতু হওয়াতে দুই অঞ্চলের মধ্যে ব্যবসার প্রসার ঘটবে। অর্থনীতির গতি সঞ্চার হবে।”
এনসিএন/এএ
