গত ১৫ জানুয়ারি ২০২২ তারিখ দুপুরে আশুলিয়ার কাঠগড়া সরকারবাড়ী এলাকার একটি ভাড়া বাড়ির একটি কক্ষ থেকে বৃষ্টিআক্তার নামের এক নারীর লাশ আশুলিয়া থানা পুলিশ কর্তৃক উদ্ধার করা হয়। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় ঐদিন রাতেইআসাদুলসহ অজ্ঞাতনাম কয়েক জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়।
এর জের ধরে র্যাবের ৩১ জানুয়ারি র্যাব – ৪ নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানাধীন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূলহত্যাকারীমোঃ আসাদুল ইসলাম (২৬), জেলা–ময়মনসিংহ’কে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামী’কে জিজ্ঞাসাবাদ এবং ঘটনার বিবরণে জানা যায়, নিহত মোছাঃ বৃষ্টি আক্তার (২৩) কিশোরগঞ্জেরতাড়াইল থানাধীন এলাকার মেয়ে। গত ২০১২ সালে নিহত

বৃষ্টির প্রথম বিবাহ হয়। প্রথম স্বামীর সংসারে তার ০৬ বছর ও ০৪বছরের দুই কন্যা সন্তান রয়েছে যারা ভিকটিমের বড় বোন আকলিমা’র কাছে থাকত। গত ২০১৯ সালে নিহতের প্রথম স্বামীনিহত বৃষ্টিকে না জানিয়ে অন্য এক নারীকে বিবাহ করলে বৃষ্টি আর সংসার করবেন না বলে জানায়।
গত ২০২০ সালে ১ লক্ষ টাকা যৌতুক নিয়ে আসামী আসাদ বৃষ্টির সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। বিয়ের পূর্বে আসাদুল বৃষ্টিরপ্রতি অনেক যত্নশীলতা ও সহমর্মিতা দেখালেও বিয়ের পর পরই তার রূপ পাল্টে যায়। সে বৃষ্টির পূর্বের স্বামীর সাথে ডিভোর্সেরপর প্রাপ্ত অর্থ এবং মাসিক বেতনের উপর লোভাতুর দৃষ্টি দেয়। বিয়ের পর তারা গাজীপুরে থাকা অবস্থায় তাদের মাঝে মাঝেইদাম্পত্য কলহের সৃষ্টি হয়।
আশুলিয়ায় গত তিন মাস পূর্বে আসাদের পরকীয়াকে কেন্দ্র করে তারা বাসা পরিবর্তন করে বর্তমান বাসায় আসে। ঘটনার দিনগত ১৩ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার রাত ১২ টার দিক বাসায় ফিরলে ভিকটিম বৃষ্টি আসাদের মোবাইলে অন্য নারীর অপ্রতিকরছবি, কথপোকথন দেখতে পেয়ে রাগ করে আসাদের মোবাইল ভেঙ্গে ফেলে, আসাদও ক্ষিপ্ত হয়ে বৃষ্টির কিস্তির টাকায় কিনা টিভিভেঙ্গে ফেলে। তাতেও উগ্র মেজাজ প্রশমিত না হলে আসাদ ভিকটিম বৃষ্টির গলা টিপে ধরে।

ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে উড়না বা অন্য কোন কাপড় দিয়ে শ্বাসরোধ করে আসাদ ভিকটিমকে হত্যা করে। আসামীর বক্তব্যঅনুযায়ী পরবর্তীতে বৃষ্টির মৃত্যু নিশ্চিতকল্পে তাকে ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে হত্যা করে। তারপর ঘটনাটি অন্যভাবেসাজানোর জন্য সে ঝুলন্ত মৃতদেহটি সিলিং ফ্যান থেকে নামায় এবং তার পরিহিত লুঙ্গী দিয়ে মৃত ভিকটিমের মুখ ঢেকে রাখে।
গ্রেফতারকৃত আসামীকে আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে।
