বগুড়া জেলা ছাত্রলীগ নেতা তাকবির হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন পারভেজ আল মুক্তাদির (২১) গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শনিবার (১৯ ফেব্রুয়ারী) সন্ধ্যা পৌনে ৬ টার দিকে শহরের পুরান বগুড়ার তাসিন ছাত্রাবাস থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই সময় তার কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র একটি সচল ত্রী নট ত্রী রাইফেল ও তার মধ্যে থাকা ম্যাগাজিনসহ দুইটি অত্যাধুনিক ছুরি উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত পারভেজ শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা ইউনিয়নের চাকলমা মুন্সিপাড়া গ্রামের ফজলে মাবুদ শাহিনের ছেলে।
রোববার দুপুর ১২ টায় ডিবি পুলিশ তাদের নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মামুন তাকবির হত্যায় নিজের জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে। হত্যা মামলায় তার নাম না থাকলেও ঘটনার পরেই গ্রেপ্তার হওয়া আল আমিনের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে পারভেজের নাম উঠে আসে। ঘটনার পর থেকে নিজেকে বাঁচাতে তিনি গা ঢাকা দেন। শনিবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুরানা বগুড়া থেকে মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই সময় তার কাছে ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যায়।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আলী হায়দার চৌধুরী জানান, গ্রেপ্তার মামুনকে আদালতে পাঠানো হবে। সেখানে তিনি স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি না দিলে রিমান্ড আবেদন করা হবে। এছাড়াও তার রাজনৈতিক পরিচয় এখনও আমরা নিশ্চিত নয়।
বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে ২০২১ সালের ১১ মার্চ রাতে শহরের সাতমাথায় দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে গুরুতর আহত করে জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাকবীর ইসলামকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ মার্চ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান তিনি।
ওই ঘটনায় নিহত তাকবীরের মা আফরোজা ইসলাম বাদী হয়ে সরকারি আজিজুল হক কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রউফসহ ২০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। হত্যাকান্ডের ঘটনায় ১৭ মার্চ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি অভিযুক্ত আব্দুর রউফককে সংগঠন থেকে বহিস্কার করে।
এরপর চারমাস পলাতক থাকার পর ২০ জুলাই রউফ বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
