ডিসেম্বর ১, ২০২৫ ৫:১৫ পূর্বাহ্ণ

বগুড়ার ধুনটের মহিলা ইউপি সদস্যের হত্যাকারী গ্রেফতার

বগুড়া ,২৩ মার্চ ২০২২ : বগুড়ার ধুনট উপজেলার চাঞ্চল্যকর সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য হত্যাকান্ডের ঘটনায় হত্যাকারী আবদুল লতিফ শেখকে মুন্সিগঞ্জ জেলা সদর থেকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১২ বগুড়ার সদস্যরা।

জানা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখ বগুড়ার একটি ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য নিখোঁজ হন। পরবর্তীতে ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখ উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের কুড়িগাঁতী গ্রামের একটি ইটভাটার পাশে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের ভাই বাদী হয়ে গত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখে বগুড়ার ধুনট থানায় অজ্ঞাতনামা আসামী করে একটি মামলা করেন। হত্যাকান্ডটি দেশব্যাপী মিডিয়াতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। র‌্যাব-১২ হত্যাকান্ডে জড়িতদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৪ মার্চ ২০২২ তারিখ র‌্যাব-১২ এর অভিযানে মুন্সিগঞ্জ জেলা থেকে উক্ত হত্যাকান্ডের ঘটনার হত্যাকারী মোঃ আব্দুল লতিফ শেখকে (৬০) গ্রেফতার করে। সে বগুড়ার ধুনট উপজেলার মথুরাপুরের বাসিন্দা।

র‍্যাব জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত লতিফ ছোটবেলা থেকে ফার্নিচার তৈরীর কাজ করত। পরবর্তীতে তিনি তার নিজের বাড়িতেই কর্মচারী রেখে ফার্নিচার তৈরী করে তা বিক্রি করতো। গ্রেফতারকৃত লতিফের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালে বগুড়াতে একটি ধর্ষণ মামলা রয়েছে এবং ওই মামলায় তিনি সাত মাস কারাভোগ করেছেন।

গ্রেফতারকৃত লতিফ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায় যে, হত্যাকান্ডের প্রায় ৭ মাস পূর্বে ইউনিয়ন পরিষদে কম্বল বিতরণের একটি অনুষ্ঠানে ভিকটিমের সাথে তার পরিচয় হয়। পরবর্তীতে ভিকটিমের সাথে গ্রেফতারকৃত আসামী লতিফ ঘনিষ্ঠতার চেষ্টা করে। এসময় তারা ইউনিয়ন পরিষদ ও আশেপাশের এলাকায় বিভিন্ন সময় সাক্ষাত করে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখ গ্রেফতারকৃত লতিফ কৌশলে ভিকটিমকে ধুনটের মথুরাপুর এলাকার একটি ইট ভাটার পাশে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে আলাপ চারিতায় কৌশলে ভিকটিমকে পানীয়ের সাথে মিশিয়ে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এসময় ভিকটিম তাকে বাঁধা দেয়। এক পর্যায়ে গ্রেফতারকৃত লতিফ তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ভিকটিমকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে ভিকটিম ধর্ষণের বিষয়টি পরিবার এবং আইন-শৃক্সখলা বাহিনীকে জানিয়ে দিলে গ্রেফতারকৃত লতিফকে পূনরায় কারাভোগ করতে হতে পারে এই আশংকা থেকে সে ভিকটিমের গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে মৃতদেহটি একটি ইটভাটার পাশে রেখে পালিয়ে যায়। নিজেকে সন্দেহের উর্দ্ধে রাখতে সে কৌশলে মৃতদেহটি উদ্ধার কাজে স্থানীয়দের সহায়তা করে পরবর্তীতে ভিকটিমের দাফন কার্যে অংশগ্রহণ করে এবং ভিকটিমের পরিবারের সাথে সু-সম্পর্ক বজায় রাখে। পরবর্তীতে আইন-শৃক্সখলা বাহিনী কর্তৃক গ্রেফতার হতে পারে এই আশংকা থেকে সে তার নিজ এলাকা ত্যাগ করে প্রথমে ছদ্মবেশী শ্রমিক হিসেবে নোয়াখালীতে কিছুদিন কাজ করে পরবর্তীতে মুন্সিগঞ্জে আত্মগোপন করে।

র‍্যাব-১২ বগুড়ার কোম্পানী কমান্ডার সোহরাব হোসেন জানান, গ্রেফতারকৃত আব্দুল লতিফ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকান্ডে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email
Print