ডিসেম্বর ১, ২০২৫ ৩:৫৫ পূর্বাহ্ণ

বগুড়ায় ঝড়ো হাওয়া ও অতিমারি বৃষ্টিতে চাষীদের স্বপ্নভঙ্গ

বগুড়ায় ঝড়ো হাওয়া ও অতিমারি বৃষ্টিতে চাষীদের স্বপ্নভঙ্গ। ছবি: এনসিএন
বগুড়ায় ঝড়ো হাওয়া ও অতিমারি বৃষ্টিতে চাষীদের স্বপ্নভঙ্গ। ছবি: এনসিএন

ঝড়ো হাওয়া ও অতিমারি বৃষ্টিতে বোরো চাষীদের আশার আলো নিভে গেছে। এবার কৃষক বোরোর বাম্পার ফলনের আশা করেছিল। কিন্তু ঝড়-ঝঞ্ঝা তাদের সেই আশা পূরন করতে দিল না। বৃষ্টি ও বাতাসে আশানুরুপ ফলন না পাওয়ার আশংকা চেপে বসেছে মনে।

বগুড়া জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলার রনবাঘা হাটে ধান বিক্রি করতে আসা কৃষকদের চোখ মুখে ছিল হতাশার ছাপ। অনেকের জমির বোরো ধান বাতাসে হেলে পানি ডুবে না যাওয়ায় ফলন নিয়ে তারা বেশ খুশি।

নন্দীগাম উপজেলার কৃষক আব্দুল মতিন জানান, বাজারে এখন প্রতি মন মিনিকেট ধান ১১৫০ থেকে ১২০০ টাকা। আর কাটরী ভোগ ধানের অধিকাংশ পানিতে ডুবে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে কাঁচা ধান কেটেছে কৃষক। অনেক কৃষক ভোজ ধান নিয়ে এসেছে হাটে। ভেজা ধান ৯৫০ থেকে ১১০০০ টাকা মন দরে বিক্রি হচ্ছে। কাটারী ধানের ক্ষতি হয়েছে বেশি।

গত শুক্রবার রাতে বগুড়ায় ৭৮ কিলোমিটার বেগে কালবৈশাখী ঝড় ও ৫২ মিলিমিটার বৃষ্টিতে বেশ ক্ষতি হয়েছে।

নন্দীগ্রামের কৃষক সাজু মিয়া জানান, ভোজা কাটারী ধান সিদ্ধ করে চাল করতে গেলে গন্ধ লাগবে। বৃষ্টি ও ঝড়ে ধানের ক্ষতি হওয়ায় কৃষক গড়ে বিঘাতে ১৯ মন ধান পাবে। তারা জানান তারা এক বছরের জণ্য জমি লীজ নিয়েছেন ১৪ হাজার টাকায়। প্রতি ধান উৎপাদনে লাগানো, সার ও কীট নাশক মিলে খরচ ৬ হাজার টাকা, কাটার শ্রমিক বাবদ ৬ হাজার টাকা, মেশিনে মাড়াই ৬০০ টাকা, এবং সেচ খরচ ২ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে বিঘাতে খরচ পড়েছে ২৮ হাজার টাকা।

তারা আরো জানান, এবার শ্রমিক সংকট থাকায় শ্রামিকদের বেশি মজুরী দিতে হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গড়ে বিঘা প্রতি ১৯ মন ধান পাওয়া গেলেও কৃষকের ক্ষতি মুখে পড়বে। কৃষক সাজু মিয়া জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার বিঘাপ্রতি ২৫ থেকে ২৮ মন ধান উঠতো তাদের ঘরে। ধানের আর্দতা কমালে ধানের দামবেশি পাওয়া যাবে ঠিকই কিন্তু ওজন কমে যাবে। যাদের নিজেদের জমি আছে সে ক্ষেত্রে উৎপাদন ব্যায় কমে যাবে।

কৃষক আব্দুল মতিন বলেন, এবার তাদের ক্ষতি হলেও তারা একবছরের জন্য জমি লীজ নিয়ে সেই জমিতে আমন, বোরো ও আলু অথবা আউস চাষ করবেন তাতে জমির লীজের টাকা ৩ ভাগ হয়ে যাবে । কিন্তু এবার বোরো উপাদনে লোকশানের মুখ পড়তে হবে।

বগুড়ায় মোট হাইব্রিড ধান এখন খুব সামান্য উৎপাদন হয়ে থকে। তাই প্রতিবারের মত এবারও জেলার চালকল মালিকদের স্বল্প মূল্যে মোটা হাইব্রিড ধান সংগ্রহ করতে হাত বাড়াতে হবে রংপুর অঞ্চরের দিকে। সেই ধান সংগ্রহ করে চালকল মলিকদের চাল দিতে হবে সরকারি গুদামে।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email
Print