ডিসেম্বর ১, ২০২৫ ৩:৫৬ পূর্বাহ্ণ

রাজধানীর পল্লবীতে জাহিদ হত্যার মূল আসামীসহ ৪ জন গ্রেফতার

জাহিদ হত্যার ৪ আসামীকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। ছবিঃ র‍্যাব ৪
জাহিদ হত্যার ৪ আসামীকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। ছবিঃ র‍্যাব ৪

গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে পল্লবী থানার কাঁচা বাজার পেঁয়াজ পট্টি এলাকায় একটি নৃশংস হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়। উক্ত হত্যাকান্ডে নিহত জাহিদ হাসান এর বাবা হানিফ খাঁন বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।

এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে র‌্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল রাজধানীর পল্লবী, নারায়নগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানাধীন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে উক্ত চাঞ্চল্যকর হত্যার রহস্য উদঘাটনপূর্বক নিম্নোক্ত ০৪ জন হত্যাকারী’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, (ক) মোঃ ইফরান @ ডামরু (২৪), জেলা- ঢাকা, (খ) মোঃ ডলার হোসেন @ ডলার (২৫), জেলা- ঢাকা, (গ) মোঃ রাজা হোসেন (২২), জেলা- ঢাকা, (ঘ) মোঃ কোরবান (২৫), জেলা- ঢাকা।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামীদের কাছ থেকে জানা যায়, নিহত জাহিদ ও গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা একই এলাকার বাসিন্দা। এলাকাটি ননবাঙ্গালী বিহারী ক্যাম্প (জল্লা ক্যাম্প, মুসলিম ক্যাম্প ও মিল্লাত ক্যাম্প) এর আওতাধীন। উক্ত এলাকায় মাদকের অপব্যবহার সহ গ্যাং কালচারের প্রবনতা রয়েছে। উক্ত এলাকায় সিনিয়র গ্রুপ ও জুনিয়র গ্রুপ নামে দুইটি গ্রুপ রয়েছে যারা এলাকায় চুরি-ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসায় লিপ্ত থাকে। উক্ত গ্রুপ দুইটি এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সার্বক্ষনিক দাঙ্গা হাঙ্গামায় লিপ্ত থাকে। নিহত জাহিদ জুনিয়র গ্রুপের অর্ন্তভুক্ত ছিল এবং গ্রেফতারকৃত আসামীগন সিনিয়র গ্রুপের সদস্য।

ঘটনার দিন সন্ধ্যায় প্রথমে জুনিয়র গ্রুপ সিনিয়র গ্রুপের ইমরান আলীর সাথে মাদক সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বাকবিতন্ডা হলে জুনিয়র গ্রুপের ৫/৬ জন সদস্য ইমরান আলীকে চর-থাপ্পর মারে। উক্ত সংবাদটি জানতে পেরে সিনিয়র গ্রুপের প্রধান মোঃ ইফরান ওরফে ডামরু ও মোঃ ডলার হোসেন ওরফে ডলার নেতৃত্বে একই দিন রাত ১০.০০ ঘটিকার দিকে সিনিয়র গ্রুপের ১৫/১৬ জন সদস্য দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র (ছুরি, সুইস গিয়ার, হকি স্টিক, এসএস পাইপ, লোহার রড) নিয়ে কাঁচা বাজার পেঁয়াজ পট্টি এলাকায় অবস্থানরত জুনিয়র গ্রুপের ৫/৬ জনের উপর অতর্কিত আক্রমণ করে। সেসময় উক্ত মামলার এজাহারনামীয় আসামী মিঠুন, কামরান, ডলার, রাজা ও কোরবানসহ আরো কয়েকজন হকি স্টিক, এসএস পাইপ এবং রড দিয়ে ভিকটিম জাহিদসহ অন্যান্যদের উপর আক্রমন করে। মিঠুন, ডলার ও কামরানের এলোপাতাড়ি আঘাতে ভিকটিম জাহিদ ভারসাম্য হারিয়ে ফেললে মামলার প্রধান আসামী মোঃ ইফরান ওরফে ডামরু তার হাতে থাকা ধারালো সুইস গিয়ার (চাকু) দিয়ে ভিকটিমের পেটে ছুরিকাঘাত করলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এবং নারীভুড়ি বের হয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। ঘটনাস্থলে ভিকটিম জাহিদ ছাড়াও জুনিয়র গ্রুপের সদস্য মোঃ কামরান (২২) এবং হাসান (২৩) গুরুতর আহত হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন ভিকটিম জাহিদসহ আহতদেরকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যায়। আহতদের মধ্যে ভিকটিম জাহিদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রেরণ করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহিদকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা সকলেই উক্ত হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত মর্মে স্বীকার করে বলে জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় বিস্ফোরক, মাদক, চুরি-ছিনতাই ও মারামারির একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়াও উক্ত হত্যা কান্ডের সাথে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামীদেরকে গ্রেফতাররের চেষ্টা চলছে। জুনিয়র গ্রুপের বিষয়েও অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। উভয় গ্রুপের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলমান কোন অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানানো হয় র‍্যাবের পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email
Print