ডিসেম্বর ১, ২০২৫ ৫:৪৪ পূর্বাহ্ণ

শাজাহানপুরে স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতার বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগের তদন্ত শুরু

বগুড়া শাজাহানপুরের মাদ্রাসা সুপার আবুল কালাম আজাদ ও সেচ্ছাসেবকলীগ নেতা আলমগীর হোসেন। ছবিঃ এনসিএন
বগুড়া শাজাহানপুরের মাদ্রাসা সুপার আবুল কালাম আজাদ ও সেচ্ছাসেবকলীগ নেতা আলমগীর হোসেন। ছবিঃ এনসিএন

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মানিকদিপা দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার সুপার আবুল কালাম আজাদ ও ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের জমি বিক্রির অর্থ আত্মসাৎ ও নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দায়ের করা অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে।

দুদকের দেয়া এক চিঠির প্রেক্ষিতে অভিযোগের তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছেন শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসিফ আহমেদ।

২০২০ সালে ২৫ অক্টোবর মাদ্রাসার সুপার আবুল কালাম আজাদ ও ম্যানেজিং কমিটির তৎকালিন সভাপতি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের জমি বিক্রির অর্থ আত্মসাৎ ও ঘুষের মাধ্যমে নিয়োগ বানিজ্যে অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন শফিকুল ইসলাম নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি।

শফিকুল ইসলাম তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, মাদ্রাসার সুপার আবুল কালাম আজাদ ২০১০ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা আলমগীর হোসেনকে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে বহাল রেখে এই দুইজনে যোগসাজসে মাদ্রাসার প্রায় এক বিঘা জমি বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী ২ লাখ টাকা দান করে দাতা সদস্য হওয়ার বিধান থাকলেও মাত্র ৪ হাজার টাকা মূল্যের দশমিক দুই শতাংশ জমির দাতা দেখিয়ে আব্দুর রউফ নামে এক ব্যক্তিকে দাতা সদস্য হিসেবে মনোনীত করে তাদের পক্ষে করে নিয়েছেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করেছেন, ২০১৫ সালে আবু রায়হান নামের একজনকে বিজ্ঞান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু বিজ্ঞান বিভাগ চালুর অনুমতি না পাওয়ায় ওই শিক্ষক দীর্ঘ ৪ বছর অনুপস্থিত থাকার পর ২০২০ সালের আগষ্ট মাসে বিজ্ঞান শিক্ষক আবু রায়হানকে ভৌত বিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। একই সাথে একজন আয়া, একজন নিরাপত্তা কর্মী এবং একজন গ্রন্থাগারিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এসব নিয়োগ দেয়া হয়েছে বৈশ্বিক করোনা কালীন সময়ে রাতের আঁধারে লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে। আর এই নিয়োগ বানিজ্যের টাকায় কক্সবাজারে অবকাশ যাপনে যান বিদ্যালয়ের শিক্ষক ষ্টাফ ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যগন।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার আবুল কালাম আজাদের কাছে জানতে তিনি বলেন, “যা বলার ইউএনও কে বলা হয়েছে। কিছু জানতে চাইলে তার কাছ থেকে জেনে নেন।”

অভিযুক্ত মাদ্রাসার সাবেক সভাপতি স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা আলমগীর হোসেন জানান,

“নিয়মতান্ত্রিক ভাবে কমিটির রেজুলেশনের মাধ্যমে কিছু পরিত্যাক্ত জমি বিক্রি করে প্রতিষ্ঠানের কাজ করা হয়েছে। শিক্ষক নিয়োগের বিষয়েও কোন অনিয়ম করা হয়নি।”

অভিযোগকারি শফিকুল ইসলাম নামের ওই ব্যক্তি বলেন,

“মাদ্রাসাটি রক্ষা করতে দুর্নীতিবাজ সুপার এবং সাবেক সভাপতির উপযুক্ত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”

মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির বর্তমান সভাপতি আফসারুল হাবীব সুমন বলেন, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনিয়ম দূর্নীতি মেনে নেয়া যায় না। সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষ্যে এর বিচার হওয়া উচিৎ।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আহমেদ জানান,

“অভিযোগের তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। যথা সময়ে প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।”

 

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email
Print