এপ্রিল ৪, ২০২৫ ১০:৪২ পিএম

প্রতিদিনই নষ্ট হচ্ছে শত শত কর্মঘন্টা

সরু রেলগেইটে বাড়ছে যানজট; ভোগান্তিতে হাজার হাজার পথচারী

Oplus_131072
Oplus_131072

নওগাঁ রাণীনগর হয়ে সড়ক পথে চলাচল করতে হয় রাণীনগর-আবাদপুকুর-কালীগঞ্জ সড়কে। আবার রেলপথে চলাচলের জন্যও রাণীনগরে আছে রেলস্টেশন। আর সড়ক ও ট্রেন পথের সংযোগস্থল উপজেলার রেলগেইট ও রেলস্টেশন মোড় নামক দুটি স্থান। কিন্তু সরু রেলগেইটে দিন দিন বাড়ছে যানজট। ফলে পথচারীদের গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে। 

বিশেষ করে নওগাঁ-নাটোর আঞ্চলিক মহাসড়ক ও রাণীনগর-আবাদপুকুর-কালীগঞ্জ সড়ক দুটি প্রশস্তকরণ হওয়ার কারণে দুটি সড়ক দিয়ে ছোট-বড় যানবাহনের চলাচল কয়েকগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া প্রতিদিন ট্রেন চলাচলের সময় রেলগেইট বন্ধ করার কারণে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। আর সেই যানজটের কবলে পড়ে প্রতিদিনই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে কয়েকটি জেলার পথচারীদের।

উত্তরবঙ্গের নওগাঁ, জয়পুরহাট, নাটোরসহ বগুড়ার কিছু অঞ্চলের মানুষ বর্তমানে নওগাঁ-নাটোর আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করছে। ফলে এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিনই কয়েক হাজার ছোট-বড় যাত্রীবাহী ও মালবাহী যানবাহন চলাচল করে। এছাড়া প্রতিদিনই উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকা, খুলনা ও রাজশাহীর সঙ্গে যোগাযোগকারী যাত্রীবাহী ও মালবাহী ছোট-বড় ৩০টি ট্রেন চলাচল করে। ফলে সরু রেলগেইটের কারণে দিনের সিংহ ভাগ সময়ই ট্রেন চলাচলের সময় যানজটের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে ঈদের সময় চারদিক দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে এবং ট্রেন চলাচলের সময় সরু রেলগেইট বন্ধ থাকার কারণে ঘন্টার পর ঘন্টা যানজটের কবলে পড়তে হচ্ছে পথচারীদের। এতে করে যানজটের শিকার হয়ে প্রতিদিনই হাজার হাজার পথচারীদের শত শত কর্মঘন্টা নষ্ট হচ্ছে। অনেক সময় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হলে স্থানীয়রা ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করে। দ্রুতই সড়কের মতো রেলগেইট ও রেলস্টেশন মোড়ে আধুনিকতার ছোঁয়ার মাধ্যমে প্রশস্তকরণ বর্তমানে সময়ের দাবী।

উপজেলার আবাদপুকুর এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, অফিসিয়াল বিভিন্ন কাজ করতে উপজেলা পরিষদে যেতে কিংবা জরুরী কোন রোগীকে উপজেলা এবং জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়ার সময় রেলগেইটে এসে যানজটে আটকে পড়ার কারণে অনেক রোগীকে মৃত্যুবরণও করতে হয়েছে। যাতায়াতের অধিকাংশ সময়ই সরু রেলগেইটে এসে যানজটের কবলে পড়তে হয়। আর ঈদের সময় এসে যানবাহনের চলাচল বৃদ্ধি পাওয়ায় ঘন্টায় ঘন্টায় যানজটের শিকার হতে হচ্ছে।

উপজেলা সদরের অটোভ্যান চালক সাইফুল ইসলাম বলেন, সরু রেলগেইট বর্তমানে আমাদের গলার কাঁটাতে পরিণত হয়েছে। যখন ট্রেনের কারণে গেইট বন্ধ থাকে তখন দুই পাশে প্রায় হাফ কিলোমিটার সড়ক জুড়ে যানবাহনের জট লেগে যায়। এমন সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে হলে দ্রুতই রেলগেইট সংলগ্ন এলাকা থেকে পরিত্যক্ত ভবন ও দোকানগুলো ভেঙ্গে রেলগেইটের সড়ক ও মোড় বড় করার কোন বিকল্প নেই।

গণমাধ্যমকর্মী মামুনুর রশিদ জানান, নওগাঁসহ কয়েকটি জেলার পথচারীরা চলাচলের সুবিধার জন্য কোটি কোটি টাকা দিয়ে সড়ক-মহাসড়ক আধুনিকায়ণ করা হয়েছে।

অথচ সরু এই রেলগেইটের এখানে এসে পড়তে হচ্ছে যানযট ভোগান্তিতে। দিনের বেলায় প্রায়শই রেলস্টেশন ও রেলগেইটে এসে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় ধরে যানজটের কবলে পড়ে কর্মঘন্টা নষ্ট করতে হচ্ছে। এছাড়া মোড়ের চারপাশে দোকান থাকার কারণে একে অপরকে দেখতে না পাওয়াই মাঝেমধ্যেই মরণঘাতি দুর্ঘটনাও ঘটছে। দ্রুতই দুটি মোড়কে প্রশস্তকরণ করার মাধ্যমে হাজার হাজার পথচারীদের প্রাণের দাবী পূরণে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

রাণীনগর রেলস্টেশনের সহকারি মাস্টার আতিকুল ইসলাম বলেন, রাণীনগরের উপর দিয়ে দিনের বেলায় ব্রডগেজ ও মিটারগেজ মিলে ১৬টি ট্রেন আর রাতের বেলায় ১৪টি ট্রেন চলাচল করে। এছাড়া মালবাহী বিভিন্ন ট্রেনতো আছেই। বিশেষ করে দিনের বেলায় ট্রেন চলাচলের সময় ছোট্ট রেলগেইটটি অধিকাংশ সময়ই বন্ধ রাখতে হয়। এতে করে গেইট পার হওয়ার সময় ব্যস্ততম দুটি সড়ক ও মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। এই বিষয়টি আমরাও উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানিয়েছি।

সান্তাহার রেলওয়ে বিভাগের উর্দ্ধতন উপ-সহকারি প্রকৌশলী আব্দুর রহমান মুঠোফোনে জানান, রাণীনগরের রেলস্টেশন ও রেলগেইটসহ আরো কয়েকটি রেলগেইট আধুনিকায়ণ করার জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখিত ভাবে আবেদন প্রেরণ করেছি। অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় কাজ শুরু করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রাকিবুল হাসান জানান, দুটি ব্যস্ততম সড়কের মাঝে সরু রেলষ্টেশন ও রেলগেইট মোড় এলাকায় অধিকাংশ সময় উপজেলার পশ্চিম প্রান্ত থেকে পূর্বপ্রান্তে যেতে রেলগেইট এলাকায় এসে দীর্ঘ সময় ধরে যানজটের শিকার হতে হয়। এই দুটি মোড়কে প্রশস্তকরণ করে কিভাবে যানজট মুক্ত করা যায় সেই বিষয়ে রেল বিভাগের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্রুতই যোগাযোগ করে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

নওগাঁ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: রাশেদুল হক রাসেল জানান, রাণীনগরের ওই দুটি মোড় প্রশস্তকরণের মাধ্যমে আধুনিকায়ণ করা খুবই জরুরী। প্রতিদিনই কেউ না কেউ যানজট নিয়ে ফোন করে। এছাড়া এক দিক থেকে অপর দিকের রাস্তার কোন অংশ দেখতে না পাওয়ার কারণে মাঝে মধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা। এমন সমস্যা থেকে উত্তোরণের জন্য স্থানীয় প্রশাসন রেল বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে জায়গাটি আমাদের কাছে হস্তান্তর করলে আমরা রেলগেইট প্রশস্তকরণ কাজ শুরু করার প্রকল্প গ্রহণ করবো।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email
Print