বগুড়ার মাটিডালীতে শহরের প্রবেশদ্বারে অর্ধেকের বেশি সড়ক যেন সিএনজি ও মোটা চাকার ইজি বাইকের স্ট্যান্ডের দখলে। শুধু মাটিডালী নয় এমনটি দেখা যায় শহরের পৌর পার্কের গেটেও।
এতে চলাচলে জনদুর্যোগে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষদের। স্ট্যান্ডে কোন নিয়ন-কানুন না মেনে চলাচল এবং যেখানে সেখানে থামিয়ে যাত্রী উঠানামা করছেন চালকরা। নেই কোন শৃঙ্খলা। এতে অযথা যানজটের মুখে পড়তে হচ্ছে অন্যান্য যানবাহনের। শহরের মাটিডালি থেকে এসব সিএনজি দত্তবাড়ী পর্যন্ত এবং ইজিবাইকগুলো সাতমাথা পর্যন্ত চলাচল করে থাকে।
এদিকে ইজি বাইকগুলো শহরের ভেতরে প্রবেশের কারণে শহরের যানজট বেশি হচ্ছে। শুধু তাই নয়, শহরে ফুটপাতের সাথে ভ্রাম্যমান দোকান, রাস্তায় কার-মাইক্রো, মোটরসাইকেল অবৈধ ভাবে পার্কিং করার ফলে রাস্তার অনেকটাই চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে বলে শহর ঘুরে দেখা যায়।
সরজমিনে শহরের প্রত্যেকটি রাস্তায় দেখা যায় ব্যাটারী চালিত মোটা চাকার ইজি বাইক ও ব্যাটারী চালিত রিক্সার দখলে চলে গেছে শহরের সড়কগুলো। আর এসব ইজি বাইক ও অটোরিক্সার কারণে শহরবাসীর চলাফেরা দুঃসহ হয়ে পড়েছে। চরম আকার ধারণ করেছে মানুষের ভোগান্তি। শহরের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক মাটিডালী-সাতমাথা রোড এর বিভিন্ন পয়েন্টে দিন-রাত যানজট লেগেই থাকে। বিশেষ করে শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা থেকে কালিতলা পর্যন্ত এবং সাতমাথা থেকে মফিজ পাগলা মোড় পর্যন্ত এলাকায় অনাকাংখিত এ যানজট ক্রমশ অসহনীয় হয়ে উঠছে। এদিকে স্টেশন রোডেও একই অবস্থা বলা যায়।
ভুক্তভোগি কলেজ ছাত্রী সুরাইয়া জাহান জানান, ‘ইচ্ছে থাকলেও হেঁটে কলেজে যেতে পারিব না, আবার রিকশায় ৫ মিনিটের পথ পাড়ি দিয়ে সময়ও লাগছে ১৫ থেকে ২০ মিনিট।’
অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ইজি বাইক, ব্যাটারীচালিত অটোরিক্সা, দিনের বেলা বেশ কয়েক বার শহরের ভেতর দিয়ে ট্রেন, স্কুল বাস, কলেজ বাস সবই চলাচল করে শহরের ওপর দিয়ে। একারণেই এমন যানজট সৃষ্টি হয়েছে।’
শহরের সাতমাথা, থানা মোড়, বড়গোলা, দত্তবাড়ী এবং ঘোড়াপট্টি ও ইয়াকুবিয়া মোড় এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করলেও তাদের চোখের সামনেই সাতমাথায় প্রবেশ করছে ইজি বাইক আর অটোরিক্সা। শুধু তাই নয় এমন কি সাতমাথায় স্ট্যান্ড বানিয়ে যাত্রী উঠা নামা করান চালকরা।
এসব অবৈধ ইজিবাইক ও অটোরিকশার চাপে কখনও কখনও হিমশিম খেতে হচ্ছে ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বরত কর্মকর্তাদেরও।
অবৈধ হওয়া শর্তেও কি করে এসব মোটা চাকার ইজি বাইক ও ব্যাটারীচালিত রিকশা শহরের সাতমাথায় প্রবেশ করে তা জানতে চাইলে বগুড়া ট্রাফিক পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শহরে এসব চলচলের বিষয়টি একমাত্র পৌরসভা দেখবে। আমাদের কাজ যানজট নিরসন করা৷ তবুও থেকে থেকে এসব ইজি বাইক অটো রিকশা ধরছি তাদের সতর্ক করে আবার ছেড়েও দেওয়া হচ্ছে যাতে করে সাতমাথা চত্বরে আর না আসে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যৌথ সিদ্ধান্তে ১ আগষ্ট থেকে জেলা পুলিশ একটি ভাল পদক্ষেপ নিতে চাচ্ছে৷’
