গত ২৯ জানুয়ারি মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া থানাধীন সাথী আক্তার (২৫) নামের এক নারী এসিড দগ্ধের শিকার হন।এসিডে সাথীর মুখে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে, সাথীর ছোট বোন ইতি আক্তার (৮) ও মা মোছাঃ জুলেখা বেগম (৩০) এর শরীরেরবিভিন্নস্থানে ঝলসে যায়।
পরে তারা চিৎকার–চেঁচামেচিতে করায় আশেপাশের লোকজন এসে সাথীকে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে।পরবর্তীতে সাথীর অবস্থা অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে রেফার্ড করা হয়। বর্তমানে সাথী অ্যাসিডে ঝলসানো মুখও শরীর নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এরপর গতকাল ০১লা ফেব্রুয়ারি মানিকগঞ্জ সদর থানার সাকরাইল বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে উক্ত এসিড সন্ত্রাসমামলার একমাত্র আসামী মোঃ নাঈম মল্লিক (৩০), জেলা–মানিকগঞ্জ’কে গ্রেফতার করে র্যাব।
গ্রেফতারকৃত আসামী’কে জিজ্ঞাসাবাদ এবং ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বিগত আড়াই বছর পূর্বে গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃনাঈম মল্লিকের সাথে সাথী আক্তার (২৫) এর বিবাহ হয়। বিয়ের পর হতে সাথী বুঝতে পারে যে নাঈম প্রতারণাসহ বিভিন্নঅপরাধমূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। তখন থেকেই সাথী আক্তার নাঈমকে ভালভাবে চলাফেরা করার জন্য বলে এবংঅনৈতিক কর্মকান্ডে বাধা প্রদান করে। এর ফলে নাঈম ক্ষিপ্ত হয়ে সাথীর সাথে দুর্ব্যবহার শুরু করে এবং সাথীকে বিভিন্ন সময়েশারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন করে।
এর ফলে এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে সাথী গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখে নাঈমকে তালাক নোটিশ প্রেরণ করে। তালাক নোটিশপাওয়ার পরপরই আসামী নাঈম ক্ষিপ্ত হয়ে সাথীকে বিভিন্নভাবে প্রাণনাশসহ নানান রকম ভয়–ভীত ও হুমকি প্রদান করতেথাকে। একপর্যায়ে গত ২৯ জানুয়ারি রাত ০১টার দিকে আসামী নাঈম ভিকটিম সাথীর বাবার বাড়িতে গিয়ে সাথীর শয়ন কক্ষেরজানালা দিয়ে এসিড ছুড়ে মারে।
নাঈমের ছোড়া এসিড সাথীর মুখে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে, সাথীর ছোট বোন ইতি আক্তার (৮) ও মা মোছাঃ জুলেখা বেগম(৩০) এর শরীরের বিভিন্নস্থানে লাগে। ঘটনার পরপরই আসামী নাঈম আত্মগোপনে চলে যায়।
গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা চলছে বলে জানায় র্যাব।
