ডিসেম্বর ১, ২০২৫ ৩:৪১ পূর্বাহ্ণ

প্রথম পর্ব

নিলু, আমিনুল ও বিষধর সাপের দখলে বগুড়া বক্ষব্যাধি হাসপাতাল

বক্ষব্যাধি হাসপাতাল, বগুড়া। ছবিঃ এনসিএন
বক্ষব্যাধি হাসপাতাল, বগুড়া। ছবিঃ এনসিএন

বগুড়া সদরের নিশিন্দারা এলাকার ২০ শয্য বিশিষ্ট্য বক্ষব্যাধি হাসপাতালকে দেখে মনে হতেই পারে এটি কোন চিড়িয়াখানা কিংবা পুরাতন ভুতের বাড়ি। যার আশেপাশের জঙ্গলে প্রতিনিয়ত ঘোরাফেরা করছে শেয়াল, সাপ, কিংবা অন্যান্য জীব-জন্তু। নিলু, আমিনুল মূলত এই শেয়ালগুলোর নাম। হাসপাতালের রান্না ঘরের জানালা দিয়ে ডাকলে কিছু খাবার ছিটিয়ে দিলেই দৌড়ে আসে শেয়ালগুলো। হাসপাতালটি ১৯৬০ সালে স্থাপিত হলেও বিগত ৬০ বছরে ধরে অবহেলায় পড়ে আছে।  

জেলায় একটি মাত্র সরকারি বক্ষব্যাধি হাসপাতাল যেখানে ২১টি পদ আছে। নিয়ম অনুযায়ী দুইজন ডাক্তার বসার কথা থাকলেও নিয়মিতভাবে কোন ডাক্তার বসেন না। একজন মেডিকেল অফিসার, একজন ফার্মাসিস্ট এবং কয়েকজন নার্সসহ মোট ১৩ জনকে দিয়ে অবহেলায় পরিচালত হচ্ছে হাসপাতালটি।

প্রায় ৫ একর এই জায়গায় ছোট একটি একতলা বিশিষ্ট ভবন এবং ২০টি বেড দিয়ে পরিচালিত হয়ে আসছে হাসপাতালটি। বাকি জায়গা তৈরি হয়েছে পশু-প্রাণির অভয়ারণ্যে। বক্ষব্যধি হাসপাতালে সকল ধরণের বক্ষ বিষয়ক রোগের চিকিৎসা করার কথা থাকলে এখানে শুধু যক্ষা রোগের চিকিৎসা করা হচ্ছে। যেখানে প্রতিনিয়ত ১৪ থেকে ১৮ জন রোগী ভর্তি হয়।

হাসপাতালের মাল্টি ড্রাগ রেজিস্টেন্স (এমআর টিবি) বিভাগ ১০ বছর আগে ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে তৈরি করা হলেও তা হস্তান্তর করা হয়নি বক্ষব্যাধি হাসপাতালকে। নতুন একটি বিভাগ মানেই নতুন লোকবল দরকার পড়বে বলে সে বিভাগ পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে ১০ বছর হলো। অথচ বিভাগটি সচল থাকলে টিবি রোগের গুরুতর রোগীরা সেখানে চিকিৎসা নিতে পারতো বলে জানান হাসপাতালটির মেডিকেল অফিসার ডাঃ এমদাদুল হক।

১০ বছর আগে স্থাপিত হওয়া এমডিআর ভবন। যা এখনো অব্যবহৃত ও অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে। ছবিঃ এনসিএন

হাসপাতাল পরিদর্শন করে দেখা মেলেনি কোন ধরণের উন্নতমানের যন্ত্রপাতি। পুরাতন চিকিৎসা সরঞ্জাম দিয়েই ডাক্তার এবং নার্সরা রোগী দেখেন। হাসপাতালটি পর্যাপ্ত পরিমাণ বরাদ্দ না পাওয়ার কারণে সময় মতো গ্যাস বিল পরিশোধ করতে না পারায় ৬০ মাসে ৯২ হাজার টাকা বকেয়া পড়ায় ৫ বছর আগে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি, বগুড়া। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত লাকরি চুলায় রান্না চলে রোগীদের জন্য।

হাসপাতালের নিজস্ব কোন বাবুর্চি নেই। রোগীদের রান্নার জন্য স্থানীয় একজন মহিলা মাসিক ৭ হাজার টাকার বিনিময়ে রান্নার কাজ করেন সেখানে।

এবছর হাসপাতাল মেরামতের জন্য কাজ করেছিলো স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও গণপূর্ত বিভাগ। হাসপাতাল মেরামত বাবদ প্রায় ৩৫ লাখ টাকা খরচ হয়। কিন্ত সরকারি তহবিল থেকে এতোগুলো টাকা খরচ হলেও এক বছর যেতে না যেতেই দেয়াল থেকে খুলে আসছে রং, কোথাও আবার নষ্ট হয়ে গেছে দেয়ালের প্লাস্টার।

হাসপাতালের কেন এ বেহাল দশা এবং এর সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে বগুড়া জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মাদ শফিউল আজম জানান,

“২০২২ সালের জানুয়ারিতে আমি নতুন এসেছি। আমি চেষ্টা করছি বগুড়ার হাসপাতালগুলোর যাবতীয় সমস্যা সমাধান করার। বগুড়া বক্ষব্যাধি হাসপাতালে এমআর টিবি ভবন কেন বন্ধ আছে সে বিষয়ে আমি অবশ্যই খোঁজ নিবো এবং হাসপাতাল মেরামতের পরেও এখন যেসকল সমস্যা আছে এ বিষয়ে আমি অবশ্যই স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং গণপূর্ত বিভাগকে তাগিদ দিবো যেন তারা তাদের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করেন। এছাড়া মেরামতের কাজ যেসব ছিলো সেগুলো যেন তাড়াতাড়ি সমাপ্ত করেন।”

 

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email
Print