ডিসেম্বর ১, ২০২৫ ৩:৫০ পূর্বাহ্ণ

সাক্কু-কায়সারকে নিয়ে বিপাকে বিএনপির তৃণমূল কর্মীরা

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের দুই প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু (বামে), নিজাম উদ্দিন কায়সার (ডানে)। ছবি: ইন্টারনেট
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের দুই প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু (বামে), নিজাম উদ্দিন কায়সার (ডানে)। ছবি: ইন্টারনেট

২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) প্রথম নির্বাচনে বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে নাগরিক সমাজের ব্যানারে একবার এবং ২০১৭ সালের ৩০ মার্চ বিএনপির মনোনয়নে ধানের শীষ প্রতীকে দ্বিতীয়বার মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি নেতা মনিরুল হক সাক্কু। ওই দুটি নির্বাচনে সাক্কুর ভোটের ব্যবধানও ছিল বিপুল। বিএনপি এবার নির্বাচনে না যাওয়ায় আগামী ১৫ জুনের কুসিক নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়তে মাঠে রয়েছেন সাক্কু।

বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলছেন, কুমিল্লা নগরীতে বরাবরই বিএনপির ভোট বেশি। এ কারণে পর পর দুবার নির্বাচনে সাক্কু বিশাল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। ওই দুটি নির্বাচনে সাক্কুর বিরুদ্ধে বিএনপির অন্য কোনো প্রার্থী মাঠে ছিলেন না। তবে এবার মাঠে রয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা নিজাম উদ্দিন কায়সার। বিএনপির এই দুই নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মাঠে থাকায় তফসিল ঘোষণার পর বিপাকে পড়েছেন দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীরা। আবার সাক্কুর সঙ্গে কায়সারের রাজনৈতিক বিরোধ দীর্ঘদিনের। এ কারণে অনেকে মনে করছেন, এবার কায়সার নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন মূলত সাক্কুকে ঠেকাতে।

মনিরুল হক সাক্কু কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। আর কায়সার কুমিল্লা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার দুজনেরই মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার। এরপর ওই দিন দুপুরে কায়সার এবং সন্ধ্যায় সাক্কু দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এতেও শেষ রক্ষা হয়নি। বৃহস্পতিবার রাতে পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সাক্কু ও কায়সারকে দল থেকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দল। এর মধ্যে সাক্কুকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়।

পরে কেন্দ্রীয় বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয় সাক্কু-কায়সারের পক্ষে কেউ যেন নির্বাচনী মাঠে কাজ না করেন।

কেন্দ্রের নির্দেশে কুসিক নির্বাচন নিয়ে হার্ডলাইনে কুমিল্লা বিএনপির নেতারা। তাঁরা এরই মধ্যে দলের নেতাকর্মীদের নির্বাচন থেকে দূরে থাকতে বলতে শুরু করেছেন।

কুমিল্লা নগরীতে এই দুই নেতার অনেক অনুসারী রয়েছেন। তৃণমূলেও এই দুজনের জনপ্রিয়তা কম নয়। ফলে এবারের নির্বাচনে এই দুই নেতাকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন দলের নেতাকর্মীরা। নেতাকর্মীদের ভয়-নির্বাচনী মাঠে তাঁরা যদি নামেন তাহলে নিজেদের ওপর নেমে আসতে পারে বিপদ। এ নিয়ে বেশি বিপাকে দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা। অবশ্য বিএনপির বহিষ্কৃত এই দুই মেয়র প্রার্থীর দাবি, পদ-পদবিধারী নেতারা মাঠে না নামলেও তৃণমূলের কর্মীরা তাঁদের জেতাতে মাঠে নামবেন। জয়ের ব্যাপারে এই দুজনই আশাবাদী।

দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ও মহানগর বিএনপি দুই ধারায় বিভক্ত। এক পক্ষে রয়েছেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সম্পাদক হাজি আমিন উর রশিদ ইয়াছিন। আরেক পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাক্কু। বিএনপির এই দুই নেতার বিরোধ অনেকটা প্রকাশ্যে। এবার কুসিক নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা নিজাম উদ্দিন কায়সার বিএনপি নেতা হাজি আমিন উর রশিদ ইয়াছিনের শ্যালক।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email
Print