গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বগুড়া পৌর এ্যাডওয়ার্ড পার্কে সন্ধায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে এক যুবকের মৃত্যু হয়। নিহত যুবকের নাম মোঃ মিরাজ (২৪)। বগুড়া সদরের দক্ষিণ বৃন্দাবন পাড়া এলাকার মোঃ আব্দুর রহমানের পুত্র তিনি। যানা যায় প্রেমঘটিত দ্বন্দ্বের জেরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
আরোও পড়ুনঃ বগুড়ায় ছুরিকাঘাতে এক যুবকের মৃত্যু
এরই জের ধরে গতকাল পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের একটি দল হত্যাকারীদের সন্ধানে নামে। অতঃপর হত্যার সাথে জড়িত ৩ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, ১। ঘাতক কথিত প্রেমিক (১৬), ঠিকানাঃ নওদা বগা বুড়িতলা, সোনাতলা, বগুড়া, ২। মোঃ তারেক রহমান (১৮), পিতাঃ মোঃ মুন্নু মিয়া, ঠিকানাঃ নওদা বগা বুড়িতলা, সোনাতলা, বগুড়া, ৩। মোঃ মিঠুন (২৮), পিতাঃ মোঃ আঃ কুদ্দুস, ঠিকানাঃ চকদূর্গা, সদর, বগুড়া।

গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত একটি চাকু ও একটি রক্তমাখা জ্যাকেট উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, অভিযুক্ত আইনের সাথে সংঘাতে জড়িত শিশু (কথিত প্রেমিক) জানায়, নিহত মিরাজের সাথে বগুড়া শহরের বাদুরতলা এলাকার এক মেয়ের সঙ্গে প্রায় এক বছরের সম্পর্ক ছিলো। ঘটনার কিছুদিন পূর্বে ওই মেয়ের সাথে ফেসবুকে পরিচয় হয় বর্তমান কথিত প্রেমিকের সাথে। তবে মেয়েটির ফেসবুক আইডির পাসওয়ার্ড ছিলো নিহত মিরাজের কাছে। মিরাজ মেয়েটির ফেসবুকে ঢুকে দেখতে পায় মেয়েটি অন্য একজনের সাথে প্রেমে জড়িয়ে পড়ে। এমন ঘটনা নিহত মিরাজ জানার পর থেকে মিরাজের সাথে বর্তমান কথিত প্রেমিকের মধ্যে ফেসবুকের মাধ্যমে হুমকি ধামকি দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এরপর ঘটনাটি মিমাংসা করার জন্য কথিত বর্তমান প্রেমিক এবং নিহত মিরাজ বগুড়া শহরের পৌর এ্যাডওয়ার্ড পার্কে আসে। সেখানে এসে তারা কথা বলার এক পর্যায়ে কথা কাটাকাটি এবং কিল-ঘুষি মারামারি শুরু হয়। ঘটনার এক পর্যায়ে মিঠুনের কাছে থাকা চাকু দিয়ে এলোপাথারি আঘাত করলে এতে মিরাজ ও তার সাথে থাকা সঙ্গী নাজমুল আহত হয়।
পরবর্তীতে তাদেরকে আহত অবস্থায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে নিলে কর্তব্যরত ডাক্তার মিরাজকে মৃত ঘোষনা করেনে এবং আহত নাজমুল সেখানে চিকিতসাধীন অবস্থায় আছে।
