বগুড়া, ১২ মার্চ ,২০২২: বগুড়ার গাবতলীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) পরিচয়ে চাকুরি দেবার নাম করে চার লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পুলিশ এক নারীকে আটক করেছে। তার নাম জরিনা বেগম (২৮)। তিনি গাবতলী উপজেলার তেরপাখি গ্রামের বিকুল হোসেনের স্ত্রী।
সোমবার দুপুরে উপজেলার তেরপাখি গ্রামে তার নিজ বাড়ি থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ জানায়, জরিনা বেগম নিজেকে গাবতলীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিপ্তী রানীর পরিচয় দিয়ে মোবাইল ফোনে উপজেলার নিশ্চিতপুর গ্রামের বিপ্লব দাসের অর্নাস পাশ স্ত্রী বিনা রানী দাসকে মাস্টার রোলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে চাকরি দেবার কথা বলে দুই দফাই এক লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।
পরে রিনা রানী নিয়োগ পত্র চাইলে তিন মাস পর দেওয়া হবে বলে জানান। তখন রিনা রানী উপজেলা সদরে গিয়ে ইউএনওর নাম দিপ্তী রানী কিনা জানতে গেলে বুঝতে পারেন তিনি প্রতারিত হয়েছেন। কারণ গাবতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নাম রওনক জাহান। পরে বিষয়টি গ্রামে জানাজানি হলে এমন প্রতারিত হবার আরো অনেক ঘটনা বেরিয়ে আসে।
এর আগেও জরিনা বেগম তেরপাখি গ্রামের আসমা খাতুনের (২০) কাছ থেকে চাকুরি দেবার কথা বলে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা, একই গ্রামের গোলাপী বেগমের (৪৫) ঘর ও ছাদ নির্মাণের কথা বলে ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা, পিয়ারা বেগমের (৫০) কাছ থেকে ঘর নির্মাণের কথা বলে ৪০ হাজার টাকা, ধনঞ্জয় গ্রামের পান্না বেগমের কাছ থেকে ৫ হাজারসহ আরো অনেকের কাছ থেকে মোট ৪ লাখ ৩৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন।
এ ঘটনায় রিনা দাসের স্বামী বিপ্লব দাস বাদী হয়ে সোমবার বিকেলে থানায় মামলা দায়ের করেছে।
গাবতলী থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম জানান, জরিনা বেগম নিজেই ইউএনও সেজে ফোন করেন এবং নিজেই গিয়ে টাকা আনেন। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। সেই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে মঙ্গলবার আদালতে পাঠানো হবে।
