বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামে শত্রুতা করে রাতের আঁধারে আগাছা নাশক ঔষধ ছিটিয়ে আয়নাল হক (৫৫) ও মমিন সাকিদার (৩৩) নামে দুই কৃষকের প্রায় সাড়ে ৩ বিঘা জমির ধান নষ্ট করে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আয়নাল হক উপজেলার আমরুল ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের মমতাজ হোসেনের ছেলে এবং অপর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মমিন সাকিদার গোবিন্দপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের সামাদ সাকিদারের ছেলে।
বুধবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত ওই দুই কৃষক শাজাহানপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আয়নাল হক জানান, আমরুল ইউনিয়নের নগরকান্দি মৌজায় নিজস্ব জমিতে ধান লাগিয়েছেন। দুই এক সপ্তাহর মধ্যে ওই ধান কেটে ঘরে তোলার সময় হয়েছে। এমতাবস্থায় জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে তার চাচা আরব আলী (৬২) ও তার ছেলে আরিফুল ইসলাম (৩৫) শত্রুতা করে গত শুক্রবার (৮ এপ্রিল) গভীর রাতে ওই ফসলী জমিতে আগাছা নাশক বিষ প্রযোগ করে প্রায় আড়াই বিঘা জমির ধান নষ্ট করেছে। এতে করে তার লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
অপর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মমিন সাকিদার জানান, কৃষক আয়নাল হকের পাশে জনৈক সাগর হোসেনের কাছ থেকে জমি পত্তন নিয়ে ধান চাষ করেছেন। গত বছর ওই জমি আরব আলী পত্তন নিয়ে চাষ করে ছিলেন। এবছর তিনি পত্তন নেয়ার কারণে আরব আলী ও তার ছেলে আরিফুল ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে একই রাতে আগাছা নাশক ছিটিয়ে তার প্রায় ১ বিঘা জমির ধান নষ্ট করে ফেলেছে। এতে করে তার প্রায় ৪০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এঘটনায় গ্রাম্যভাবে শালিস বৈঠক বসলে ক্ষতিপূরণ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন এসে তালবাহানা করছে এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধামকি দিচ্ছে।
এ বিষয়ে আরব আলীর সাথে কথা বললে তিনি জানান, তারা কারো জমিতে আগাছা নাশক ঔষধ দেননি। তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে মিথ্যা অপবাদ দেয়া হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুরে আলম জানান, আগাছা নাশক ঔষধ ছিটিয়ে ধান নষ্ট করা হয়েছে এটা নিশ্চিত। তবে যেই এই কাজ করেছে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিৎ।
শাজাহানপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
