ডিসেম্বর ১, ২০২৫ ৪:১৭ পূর্বাহ্ণ

ঘোড়ার গাড়ীতে চড়ে কনের বাড়ি গেলেন বর; গ্রামে উৎসবের আমেজ

টাপুর টুপুর করে ঘোড়ার খুরের শব্দ, সঙ্গে ঝংকারে মিশে যাওয়া ঘণ্টাধ্বনি। সেই ছন্দে এগিয়ে আসে এক রাজকীয় বরযাত্রা, ঘোড়ার গাড়ীতে চড়ে কনের বাড়ির পথে রওয়ানা হলেন বর আসিফ হোসেন।

গ্রামে এমন দৃশ্য এখন আর সচরাচর দেখা যায় না। বরের গাড়ির চারপাশে সাজানো রঙিন ফিতা, ঝলমলে গাঁদা ফুল, আর গ্রামের মানুষদের মুখে একরাশ হাসি। শনিবার নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার পয়নারী গ্রামে দুপুরটা যেন পরিণত হলো এক উৎসবের দিনে।

জানা গেছে, উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামের কৃষক আফতাব হোসেনের ছেলে প্রকৌশলী আসিফ হোসেনের বিয়ে হয় একই উপজেলার পয়নারী গ্রামের কৃষক আশরাফুল ইসলামের মেয়ে মুসফিকা আশরাফির সঙ্গে। আসিফ পেশায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ডানা গ্রুপে চাকরিজীবী। আধুনিক সময়েও তিনি বেছে নিয়েছেন অতীতের হারিয়ে যাওয়া বাহন ঘোড়ার গাড়ীতে চড়ে বিয়ে করতে যাওয়া।

১২টি মাইক্রোবাস, ৫০টিরও বেশি মোটরসাইকেল আর প্রায় তিন শতাধিক বরযাত্রী নিয়ে রওনা হয় বরযাত্রা। গ্রামের প্রতিটি মোড়ে তখন মানুষের ঢল কেউ ছবি তুলছে, কেউ আবার হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে নবদম্পতিকে।

বর আসিফ বলেন,“শখের বসেই ঘোড়ার গাড়ীতে চড়ার পরিকল্পনা করি। বাবা-মা ও ছোট বোন সবাই উৎসাহ দিয়েছে। অনেক খোঁজার পর অবশেষে মহাদেবপুর উপজেলা থেকে গাড়িটি পাই। এটা আমার জীবনের এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা— এক কথায় দারুণ।”

কনে মুসফিকা হাসতে হাসতে জানান, “এমন আয়োজনের কথা ভাবিনি। এখন তো সবই যান্ত্রিক চালিত মোটরগাড়ি আর আলোকসজ্জায় ভরা বিয়ে। কিন্তু ঘোড়ার গাড়ীতে বিয়ে— এটা তো একেবারে সিনেমার মতো! আমি সত্যিই অবাক ও আনন্দিত।”

স্থানীয় স্কুলশিক্ষক আবু সাঈদ রোমেন রিপু বলেন,“বর আমার মামাতো ভাই। ছোটবেলা থেকেই ওর রাজকীয় বিয়ের স্বপ্ন ছিলো। আজ তা পূরণ হতে দেখে আমরা সবাই মুগ্ধ। গ্রামের মানুষও দারুণ উপভোগ করছে।”

ঢোলের তাল, ফুলের গন্ধ, হাসি আনন্দ মিলিয়ে পয়নারী গ্রামে ফিরে এসেছিল হারিয়ে যাওয়া উৎসবের আমেজ।

এ যেন আধুনিকতার ভিড়ে ঐতিহ্যের ছোঁয়া— যেখানে ভালোবাসা, গ্রামীণ সৌন্দর্য আর আবেগ মিলে বুনেছে এক মধুর মেলবন্ধন।

 

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email
Print