যেখানে মানুষ বছরের পর বছর ধরে উন্নয়নের আশায় অপেক্ষায় ছিল—সেই মোকামতলায় এবার সূর্য উঠেছে নতুন প্রত্যাশার। দীর্ঘদিনের দাবির পর অবশেষে বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে মোকামতলা পৌরসভা ও ফোরলেন মহাসড়কের নিচ দিয়ে সরুপথ বা আন্ডারপাস এবং নতুন উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ নির্মাণের স্বপ্ন। এই তিন প্রকল্পই সম্ভব হয়েছে শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও ধানের শীষ মার্কার এমপি প্রার্থী মীর শাহে আলমের উদ্যোগ ও নিরলস প্রচেষ্টায়।
জানা গেছে, মীর শাহে আলমের আবেদন ও তৎপরতার পর সরেজমিন তদন্ত শেষে বগুড়া জেলা প্রশাসক ১১ নভেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের নিকট মোকামতলায় পৌরসভা স্থাপনের সুপারিশপত্র পাঠিয়েছেন। দীর্ঘদিনের এই দাবি পূরণের পথে অগ্রসর হওয়ায় এলাকাজুড়ে বইছে আনন্দের বন্যা।
অন্যদিকে, মোকামতলা এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের আরেকটি দাবি ছিল ফোরলেন মহাসড়কের নিচ দিয়ে নিরাপদ পারাপারের জন্য সরু পথ বা আন্ডারপাস নির্মাণ। ফোরলেন সড়ক চালুর পর থেকেই এলাকাবাসী ভয়াবহ ভোগান্তিতে পড়েছিলেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বিষয়টি মীর শাহে আলমকে জানালে তিনি দ্রুত উদ্যোগ নেন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত আবেদন করেন। তার প্রেক্ষিতে ১১ নভেম্বর বগুড়া জেলা প্রশাসক সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব বরাবর আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠান।
এছাড়াও মোকামতলা এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের একটা দাবি ছিল মহিলা কলেজের পাশাপাশি যেন ছেলেরা পড়তে পারে এরকম একটি কলেজ। সেটি বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। মোকামতলা-সোনাতলা রোডের পাশে এক একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে মোকামতলার সেই কাঙ্খিত কলেজ। যেখানে ছেলে ও মেয়ে উভয় ভর্তি হতে হয়ে পড়তে পারবে, ফলে এই জনপদের ছেলেদের দুরবর্তী কোন কলেজে যেতে হবে না ।
এলাকাবাসীর মতে, উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার মোকামতলাসহ আশেপাশের অঞ্চলে অন্তত কয়েকলক্ষ মানুষের বসবাস। মোকামতলা বাজারে প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার মানুষ যাতায়াত করে। পৌরসভা স্থাপন, আন্ডারপাস ও নতুন কলেজ নির্মাণ হলে শুধু যাতায়াত সহজ হবে না, বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডেও আসবে বিপ্লব।
ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মাহমুদুল হাসান চয়ন ও সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার আলী খোকন বলেন, আমরা বহুদিন ধরে এ দাবিগুলো জানিয়ে আসছিলাম। আজ তা বাস্তবায়নের পথে। মীর শাহে আলমের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।
