দাম কত— উৎসুক জনতার একের পর এক প্রশ্নের জবাব দিতে দিতে রীতিমতো হয়রান হয়ে গেছেন খামারি আজিজুল হক পাপিল। তাকে ঘিরে ধরেছেন ১০/১২ জন। স্মার্টফোনে কেউ সেলফি তুলছেন, কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউবা ভিডিও করছেন। তবে কোনো সেলফি, ছবি বা ভিডিওতে ‘ঠাঁই’ হচ্ছে না খামারি আজিজুলের। তার কাছে থাকা ‘ভদ্র বাবু’ নিয়েই সবার আগ্রহ।
বগুড়া শহরের কালিতলার পশুর হাটে বৃহস্পতিবার সবার আগ্রহে ছিল হোলস্টাইন ফ্রিজিয়ান জাতের বিশাল আকৃতির গরু ভদ্র বাবু।
খামারি আজিজুল এই গরু এনেছেন সদর উপজেলার পীরগাছা থেকে। এই গরুর বয়স ৩ বছর ৪ মাস। লম্বায় ৮ ফুট এবং উচ্চতায় সাড়ে ৫ ফুট। ২৭ মন ওজনের ভদ্র বাবুর দাম হাঁকা হয়েছে ৬ লাখ টাকা। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এর দাম উঠেছে সাড়ে ৪ লাখ টাকা।
ভদ্র বাবুর মতো কালিতলা হাটে আরও বড় আকৃতির গরু উঠেছে। তার মধ্যে একটি হলো ‘রাজা বাবু’। দিনব্যাপী এই গরুটিও ক্রেতাদের নজরে ছিল। তবে সন্ধ্যা নামার আগেই সাড়ে ৩ লাখে রাজা বাবুকে ঘরে তুলেছেন কাহালু উপজেলার মালঞ্চার শহিদুল হক।
এই দুটি গরু ব্যতীত অন্যসব গরুর দাম জানতে ল্রেতাদের যতটা আগ্রহ দেখা গেছে, কেনার জন্য সেই আগ্রহ ততটা চোখে পড়েনি। কিন্তু এর বিপরীত চিত্র দেখা দেখা ছোট এবং মাঝারি আকৃতির গরুগুলোর ক্ষেত্রে। দরদামে মিলে গেলেই পছন্দের গরু নিয়ে ঘরে ফিরেছেন ক্রেতারা।
কালিতলা হাটে কথা হয় গাবতলীর সন্ধ্যাগঞ্জের খামারি মোহক আকন্দ। তিনি জানালেন, হাটে একই জাত ও আকৃতির ৫টি গরু এনেছেন। তার আনা একেকটি গরুর ওজন ৫ থেকে ৮ মণ। তবে দরদামে না হওয়ায় তিনি গরুগুলো বিক্রি করেননি। পাশাপাশি ঈদের বেশি সময় না থাকায় প্রকাশ করেছেন হতাশাও।

তার কথায়, বড় গরুর প্রতি ক্রেতাদের আকর্ষণ কম। যেভাবে গরু পালন করেছি সেভাবে দাম পাচ্ছি না। প্রত্যাশা অনুযায়ী বিক্রি করতে না পারলে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে জানান এই খামারি।
পছন্দের কোরবানির পশু ক্রয় করে আপ্লুত শহরের জলেশ্বরীতলার ব্যবসায়ী খন্দকার রিপন। তিনি বলেন, সাড়ে ৮ লাখ দুটি ক্রস জাতের গরু কিনেছি। খুবই ভালো লাগছে। আল্লাহর সন্তুষ্ট অর্জনের জন্যই এই পশুগুলো ক্রয় করেছি। নিজ গ্রাম গাবতলি এসব গরু কোরবানি করবেন বলেও জানালেন এই ব্যবসায়ী।
এদিকে হাটে দিনব্যাপীই ক্রেতাদের বাড়তি দৃষ্টি কেড়েছে গাড়োল জাতের একজোড়া ভেড়া। ৯০ কেজি ওজনের এই ভেড়া দুটির দাম চাওয়া হয়েছিল ৭৫ হাজার টাকা। ক্রেতারা এই জোড়ার দাম ৬০ হাজার বললেও বিক্রি না করেই শহরদিঘীতে ফিরে যান খামারি এম এ সামাদ।
তবে হাটে কোরবানির পশু কিনতে আসা অধিকাংশ ক্রেতাই অভিযোগ করেছেন ছাপ কাটার ব্যাপারে। কয়েকজন ক্রেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিটি গরুর জন্য ক্রেতার কাছ থেকে ১১’শ টাকা এবং বিক্রেতার কাছ থেকে ২০০ টাকা নেয়া হয়েছে। এতে এক গরুর পেছনে ১৩’শ টাকা ছাপ কেটেছে হাটের ইজারাদাররা। একই সাথে ছাগলের জন্য ক্রেতাদের গুনতে হয়েছে ৬০০ টাকা এবং বিক্রেতার ২০০ টাকা করে।
এনসিএন/এআইএ
