ডিসেম্বর ১, ২০২৫ ৩:৫৯ পূর্বাহ্ণ

বগুড়া-৬ আসনে ও ৪ আসনে উপ-নির্বাচন

আ.লীগ-জোটের প্রার্থীর মূল ফ্যাক্টর দলের অনৈক্য ও বিএনপি সমর্থিত ভোটার

প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

বিএনপি না থাকলেও প্রচার প্রচারনায় জমে উঠেছে বগুড়া-৪ ও বগুড়া -৬ আসনের উপ-নির্বাচন। বিএনপি সমর্থিত এমপিরা পদত্যাগ করায় আসন দুটি শূন্য ঘোষনা হয়। বগুড়া-৬ আসনে সকলের চোখ। এই আসনে মূল ফ্যাক্টর সমর্থিত ভোটার ও দলের মধ্যে পরোক্ষ বিরোধীকাররী। কিন্তু করার দলের মধ্যে বিরোধী সে ব্যাপারে সকলে মুখে কুলুপ এঁটেছেন।

একাদশ সংসদে বগুড়া -৬ আসনে তৃতীয় বারের মত নির্বাচন হচ্ছে। প্রথমবার একাদশ নির্বাচনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম জয় লাভের পর অসুস্থ্যতার অজুহাত দেখিয়ে শপথ নেননি। পরে এই আসন শূন্য ঘোষনা হলে উপ-নির্বাচনে বিএনপির গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ এমপি নির্বাচিত হন। তিনি পদত্যাগ করলে এই আসনে এখন আবারো উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এই আসন নিয়ে জল্পনা কল্পনার শেষ নেই। স্থানীয় আওয়ামী লীগ এই আসনে জয়ের স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু দলের নেতা-কর্মীরা কোন পথে হাঁটছে তা নিয়ে খানিকটা ধোয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাংশ মনে করছেন, আওয়ামী লীগকে হারাতে দলের কিছু নেতারা বিএনপি ও জামায়াতের ভোটাদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ভোট দেয়ার বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন। দ্বিমুখী আক্রমনে জর্জরিত আওয়মীলীগ প্রার্থী।

তবে দলের অনেক নিবেদিত নেতা-কর্মী মনে করেন, যদি বগুড়ায় আওযামীলীগ নেতার ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হন তবে বিজয় আসবে। আর যদি তারা রংপুরে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের মত চলেন, তাহলে ভায়বহ পরিনতি অপেক্ষা করছে। এই আসনে আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতিকের রাগেবুল আহসান রিপু ও আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা আব্দুল মান্নানের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বীতা হবে এমনটাই মনে করেন স্থানীয়রা।

জেলা আওয়ামী লীগে নেতা আছে, নেই কর্মী। জেলাদলে অনেক আগে থেকেই বিরোধ ছিল। সম্প্রতি জেলা ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে সেই বিরোধ স্পষ্ট হয়ে ওঠেছে। একটি গ্রুপে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পক্ষে আছে নবগঠিত জেলা ছাত্রলীগের পক্ষে। অপর দিকে সাবেক যুবলীগের সভাপতি এক পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

বিরোধ আছে এমনটি বুঝতে না দিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী রিপুর পক্ষে প্রচারনা করার সংবাদ ছড়িয়ে দিচ্ছে ফেসবুকে। রংপুর সিটি কর্পোরেশনের কথা মাথায় রেখে যাতে তাদের কেউ সন্দেহ করতে না পারে। তবে কেন্দ্রীয় নেতারা যতক্ষন বগুড়ায় থাকছেন তখন তারা মাঠে থাকছেন। আর নেতারা ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হলে প্রচার বিমুখ হয়ে পড়েন তারা। দিনে নৌকার সমর্থন, রাত হলেই স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে আনাগোনা বাড়ার গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে।

এদিকে বিএনপি নির্বাচনে চুপ থাকলেও তারা চাইছে অযোগ‌্য প্রার্থীর কাছে আওয়ামী লীগ প্রার্থী যেন পরাজিত হয়। এটাই তাদের জয়লাভ বলে মনে করেন জেলা বিএনপি’র নেতারা। তবে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীদের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভাগ করে দেয়ার পর তারা ফটো সেশন করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

এদিকে আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দূল মান্নান আকন্দ ফেসবুকে তার নিজের পেইজ থেকে লাইভে এসে কুরুচিপূর্ন বক্তব্য দিচ্ছেন। তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে নাজেহাল করছেন। এমনকি নির্বাচন বিধি লঙ্ঘন করে তার বাসায় ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড দিয়ে প্রচারনা চালানোর অভিযোগে ৫০ হাজার টাকা জমিমানা করায় ফেসবুক লাইভে ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে বিভ্রন্তিকর বক্তব্য দেওয়ায় জরিমানার কথা জানালেন নির্বাহী ম্যাজিষ্টেট ও সহকারি কমিশনার নাছিম রেজা।

আসন্ন ১লা ফেব্রুয়ারি বগুড়া-৪ ও বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচন। জল্পনা কল্পনার মধ্য দিয়ে এই পর্যন্ত এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছে সর্বমোট ২০ জন প্রার্থী। যার মধ্যে বগুড়া-৪ আসনে ৯ জন ও বগুড়া-৬ আসনে ১১জন। তবে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনটিতে নির্বাচন জমিয়ে রেখেছেন আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম। বিএনপির উপস্থিতি না থাকলেও বগুড়া-৬ আসনে নির্বাচনী আমেজ জমে উঠেছে।

বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপ-নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী রাগেবুল আহসান রিপু। আর নৌকার বিপক্ষে শক্ত অবস্থানে দাড়ানো ট্রাক প্রতিক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মান্নান। যারা বিরামহীন প্রচার শুরু করেছেন প্রতীক বরাদ্দের দিন থেকেই।

অনুসন্ধান বলছে, অনেকেই শুধু ফটোসেশন করতেই নৌকার হ্যান্ডবিল নিয়ে ভোট চাইতে নামছেন মাঠে , ছবি তুলেই যেন শেষ প্রচার-প্রচারণা। আর সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে যেন দায় মুক্ত হোন নেতা-কর্মীরা। তারা পরোক্ষ ভাবে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সাথে যোগযোগ রক্ষা করে চলেছেন।

বগুড়া-৬ আসনে ১১ জন এবং বগুড়া-৪ আসনে ৯ জন প্রতিদ্বন্দিতা করছে। বগুড়া- ৪ আসনে মোট ভোটারসংখ্যা ৩ লাখ ২৮ হাজার৪৫৯ জন। আর ৬ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১০ হাজার ৭৪৩ জন।

অপরদিকে বগুড়া ৪ আসনটি আওয়ামী লীগ তাদের জোটের শরিক দল জাসদকে ছেড়ে দেয়ায় সেখানে মশাল নিয়ে নির্বাচন করছেন রেজাউল করিম তানসেন। তবে এই আসনটি জমিয়ে রেখেছেন হিরো আলম। তিনি বগুড়া-৬ আসনেরও প্রার্থী (স্বতন্ত্র)।

বগুড়া-৪ আসনের উপ-নির্বাচনে ১৪ দলীয় জোট প্রার্থীর পক্ষে কেন হাঁটছেন না? এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল বলেন, শিশু না কাঁদলে মায়ে দুধ দেয় না। অর্থাৎ জাসদ প্রার্থী তাদের সাথে কোন কথা বলেনি।

এদিকে তার পক্ষে জাসদের কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতাদের কাউকে নির্বাচনি মাঠে দেখা যায়নি। হিরো আলম এই আসনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। বিশেষ করে বিএনপি সমর্থকরা তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

হিরো আলম বলেছেন, এবার তাকে মানুষ বিমুখ করবে না। অপরদিকে জাতীয় পাটির লাঙল প্রতীকে মোস্তাফা কামাল ফারুকও ভাল অবস্থানে আছেন। নন্দীগ্রাম আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন রানা মশালের পক্ষে প্রচারনা চালাচ্ছেন।

জেলার দুটি আসনের উপ-নির্বাচনের ফ্যাক্টর বিএনপি ভোটাররা। বগুড়া- ৬ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর মেয়র নির্বাচনে রুটির আটা বিতরন করে পরাজিত হলেও বগুড়া-৬ আসনের নির্বাচনে ভোটারদের আঠা দিয়ে মুখ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। করোনাকালে মানুষের বাড়ি বাড়ি খাবার পৌছে দিয়েছিলেন। সেই স্মৃতি ভোটারদের মনে আছে বলে ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা আব্দুল মান্নান মনে করেন।

তবে আ.লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা মানুষের মধ্যে এই ধারনা ছাড়িয়ে দিচ্ছেন যে, তাদের প্রার্থী জয় লাভ করলে প্রতিশ্রুতি প্রকল্প অন্তত শুরু করতে পারবেন। নৌকার জয়ের উপর নির্ভর করছে বগুড়ার উন্নয়ন।

তারা এটাও বলছেন, এই আসনে ৯১ সাল থেকে এ পর্যন্ত নির্বাচনের নামে তামাশা চলছে। বারবার বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দিয়ে উপ-নির্বাচন করে দেশের অনেক টাকা ক্ষতি করেছেন। বহিরাগতদের ডেকে এনে এমপি বানিয়ে জেলার লোকজনের ক্ষতি করেছেন।

এনসিএন/এ

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email
Print