ডিসেম্বর ১, ২০২৫ ৫:৩৬ পূর্বাহ্ণ

উদীচী বগুড়া জেলা সংসদের ৫৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত

বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর বগুড়া জেলা সংসদের ৫৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে। শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে জাতীয় ও সাংগঠনিক পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হয়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদুস সোবহান মিন্নু। সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক শাহীদুর রহমান বিপ্লব।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিপিবির বগুড়া জেলার সাবেক সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না।

বক্তব্যে তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া ও শিল্পীদের হুমকি দেওয়ার মতো অস্বস্তিকর পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে, যা সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্য বড় হুমকি।”

তিনি আরও বলেন, “শিল্প-সংস্কৃতি কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি মানবিকতা, মুক্তচিন্তা ও সামাজিক অগ্রগতির চালিকা শক্তি। সাংস্কৃতিক চর্চাকে বাধাগ্রস্ত করা মানে সমাজকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া।”

সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন— বাংলাদেশ কৃষক সমিতি বগুড়া জেলা কমিটির সহ-সভাপতি কমরেড ফিরোজ আখতার পলাশ, উদীচী সারিয়াকান্দি উপজেলা সংসদের সভাপতি আমিনুল ইসলাম হিরু, পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ও উদীচী বগুড়া জেলা সংসদের সহ-সভাপতি সমর কুমার দাস, সহ-সভাপতি আরিফুর রহমান আরিফ, দিন বদলের মঞ্চ বগুড়ার সভাপতি ও উদীচী জাতীয় পরিষদ সদস্য আরিফুল হক খান রনিক, উদীচীর সাবেক সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট নাজমুন নাহার বিউটি, ক্ষেতমজুর সমিতি বগুড়া জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভ শংকর গুহ রায়, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন বগুড়া জেলা কমিটির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফারহানা আক্তার শাপলা, এবং বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন বগুড়া জেলা সংসদের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি বায়েজিদ রহমান।

বক্তারা বলেন, “সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের স্বাধীনতা ও শিল্পীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কোনো গোষ্ঠীর চাপে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়া সভ্য সমাজের পরিচায়ক হতে পারে না।”

তারা আরও জোর দিয়ে বলেন, “সংস্কৃতি বাঁচলে মানবতা বাঁচবে। তাই সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রকে নিরাপদ ও অবাধ রাখতে সরকার ও সমাজ উভয়কেই কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।”

আলোচনা সভা শেষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহর প্রদক্ষিণ করে। পরে আয়োজন করা হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে উদীচীর শিল্পীরা নৃত্য, সংগীত ও আবৃত্তি পরিবেশন করেন।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email
Print