ডিসেম্বর ১, ২০২৫ ৫:০৯ পূর্বাহ্ণ

'প্রসাশন কি বলবে? আজ আমি দুই বছর ধরে এই জায়গায় ধান লাগাই কেউকিছু বলে না।'

করতোয়া নদীর জায়গায় ধান চাষ, দ্বায় কার?

মাটিডালি বেইলি ব্রিজের নিচে চলছে স্থানীয় এলাকাবাসীর ধান চাষ। ছবি: এনসিএন
মাটিডালি বেইলি ব্রিজের নিচে চলছে স্থানীয় এলাকাবাসীর ধান চাষ। ছবি: এনসিএন

বগুড়া ৩০ মার্চ,২০২২ঃ  বগুড়ার মাটিডালি এলাকায় করতোয়া নদীর জায়গা অবৈধভাবে দখল করে ধান চাষ করছে স্থানীয় এলাকাবাসী। নদীর দুইধারে নদীর সীমানা নির্ধারণ করা থাকলেও স্থানীয়রা যে যার মতো করে জমি দখল এবং অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের পাশাপাশিএখন নদীর জায়গাজুড়ে ধান চাষ করছেন স্থানীয়রা। মোঃ মামুন মিয়া নর্থ ক্যাপিটাল নিউজকে জানান, বিগত দুই বছর ধরেতিনি মাটিডালি বেইলি ব্রিজের নিচে প্রায় ২০ শতক জায়গাজুড়ে ধান চাষ করছেন। তার সাথে এলাকার আরো থেকে জনএকইভাবে জায়গা দখল করে ধান চাষ করে আসছেন বহুদিন যাবত। পানি উন্নয়ন বোর্ড কিংবা সরকারি কোন লোকজন বাধাদেয় কিনা বিষয়ে  জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘প্রসাশন কি বলবে? আজ আমি দুই বছর ধরে এই জায়গায় ধান লাগাই কেউকিছু বলে না।

নদীর সীমানার মধ্যে চলছে ধান চাষ। ছবি: এনসিএন

তবে এসকল বিষয় দেখার কি কেউ নেই? সে প্রশ্ন থেকেই যায়।

গোবিন্দগঞ্জের খুলশিতে নদীতে রেগুলেটর স্থাপনের কারণে বেশির ভাগ পানি চলে যায় বাঙ্গালী নদীতে। আর করতোয়া দীর্ঘদিনধরে পড়ে থাকে অবহেলায়। অবস্থার মধ্য দিয়ে চলতে থাকা করতোয়া আজ মৃত প্রায় নদী। এতে করে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমেনদী ভড়ে গিয়ে আশে পাশের এলাকা প্লাবিত হয়।

বগুড়া গাইবান্ধা জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া করতোয়া নদীর ১১৬ কিলোমিটার নদী পথ নিয়ে মহামান্য উচ্চ আদালতের ২০১৫ সালের ২২শে জুন এক রায়ে বলা হয়, করতোয়া নদীতে সব ধরণের বর্জ্য ফেলার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ব্যবস্থানেওয়ার জন্য বগুড়া পৌরসভাকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। কিন্তু পৌর মেয়র রেজাউল করিম বাদশা জানান, তাদের লোকবলকম। তাই নদীতে পৌরসভা কিছু করতে পারছেনা। শহরের বাসাবাড়ির বর্জ্য পানি এসে পড়ছে করতোয়া নদীতে।

এছাড়া আদালতের সব নির্দেশনা বাস্তবায়নের বিষয়টি তদারকির জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের  রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পরিবেশ অধিদপ্তরের  রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক সুফিয়া নাজিম জানান, নদীর পরিবেশ দূষণ যাতে না হয় তার জন্য প্রতিটি পৌরসভাকে সতর্ক করে চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু এর কোন সফল প্রয়োগ হয়নি

এছাড়া গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের কাটাখালিতে খুলশিতে করতোয়ার উৎসমুখে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্ত্তৃক নির্মাণ করা স্লুইসগেট উন্মুক্ত করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশ দিলেও তা এখনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড।

উল্লেখ্য  বগুড়ার সুধী সমাজের  আবেদনের প্রেক্ষিতে করতোয়া নদীকে দখল দূষনমুক্ত করা, নদীর সীমানা নির্ধারন পূর্বক এর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং নদী বিরোধী সকল কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবিতে  বেলা ২০১৫ সালের ২৭ফেব্রুয়ারি পরিবেশ বন মন্ত্রনালয়ের সচিব, ভূমি মন্ত্রনালয়ের সচিবপরিবেশ অধিদপ্তর, বগুড়াও গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ ১৯ জনকে লিগ্যাল নোটিশ প্রেরন করেন। কিন্তু  ব্যপারে কেউই কোন ব্যবস্থা গ্রহন না করায় বেলা ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মাহামান্য হাই কোর্ট বিভাগে ২০ জনকে বিবাদী করে একটি রিট পিটিশন দায়ের করে। কিন্ত আজ পর্যন্ত নদীর প্রবাহের পক্ষে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি এবং গোবিন্দগঞ্জে খুলশিতে করতোয়ার উৎস্য মুখ তুলে ফেরার জন্য কোন ব্যবস্থা নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) আদালতের কঠোর নির্দেনা থাকলেও বগুড়া পনি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা মুখ খুলছেননা।

তবে পানি বগুড়া উন্নয়ন বোর্ডে  নির্বাহী  প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান জানান, বেলার রীট পিটিশনের প্রেক্ষিতে গোবিন্দগঞ্জের খুলশীতে সুইচ গেট উন্মুক্ত রাখার  ব্যাপারে  মন্ত্রনালয় থেকে ষ্টাডি করা হচ্ছে। করতোয়া নদী নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড একাধিকবার সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজের কোন অগ্রগতি হয়নি। আদালতের আদেশের বছর গড়িয়েছে। দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি হয়নি।করতোয়া নদীর অগ্রগতির মধ্যে  নদীর দুই পাড় দিয়ে ধান চাষ চলছে। নদীর আসে পাশের মানুষ প্রতিবছর ধান চাষ করছেন করতোয়া নদীতে।

এদিকে করতোয়া নদী পুন:খনন, নদীর পাড় দিয়ে ওয়াকওয়ে(হাঁটার রাস্তা)সহ অন্যান্য কাজের জন্য ২০ হাজার নয়শত ৪০ কেটিটাকার একটি  প্রকল্প এখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে জমা দিয়েছে বগুড়া পাউবো। বগুড়া পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, প্রকল্পটি কাটছাট হতে পারে। তিনি বলেন, নদী খনন হলে কিছুটা হলেও ফিরে আসবে। বছরের অন্তত  মাস করতোয়ায় পানি থাকবে।জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কয়েক দফা নদীর অবৈধ দখর উচ্ছেদ করলেও পরে আবারও অবৈধ দখলে চলে গেছে। অবৈধ দখল আর উচ্ছেদ নিয়ে চলছে ইঁদুরবিড়াল খেলা। নদীর অবৈধ উচ্ছেদের পর আর কোন পর্যবেক্ষন না থাকায় পুনরায় দখল হয়ে যায়।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email
Print