বগুড়া, ৯ এপ্রিল ২০২২: ছেলেরা মেরে-পিটে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বৃদ্ধা ভিক্ষুক মা গুলজান বেওয়াকে (৮০)। পরে বগুড়া সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার তাকে উদ্ধার করে জেলা সমাজ সেবা অফিসারের সহায়তা নিয়ে বগুড়া শিশু পরিবারে স্থান করে দিয়েছেন।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে সরকারি শিশু পরিবারের উপ-তত্ত্বাবধায়ক রীপা মোনালিসা জানান, ‘আমাদের এখানে একজন বৃদ্ধাকে রাখা হয়েছে। মূলত গতকাল রাত ১টায় ইউএনও স্যারের সহযোগিতার এখানে আনা হয়। এরপর থেকে তার দেখাশোনা করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা গুলজান বেওয়াকে তার পরিবারের কাজে হস্তান্তর করার জন্য চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে তার ছেলেদের বিষয়টি জানিয়েছি।’
ছেলেদের বিরুদ্ধে অত্যাচারের বর্ণনা সঠিক কি না তার সত্যতার খোঁজ খবর রাখছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা সমাজ সেবার উপ-পরিচালক।
জানা যায়, এই অসহায় বৃদ্ধার খবর টেলিফোনে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০ টায় এক সংবাদদাতার মাধ্যমে পেয়ে ছুটে যান বগুড়া সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার সমর কুমার পাল। তিনি জানান, এই বৃদ্ধাকে তার উপজেলা চত্তরের কোন জায়গায় স্থান করে দেবেন।
শুক্রবার রাত ১১ টায় তিনি দেখতে পান ছেলেদের মারপিটে বগুড়া শহরের লতিফপুর কলোনীর কাছে তাজমা সিরামিক ইন্ডাষ্ট্রিজের সামনে যাত্রী ছাউনির বেঞ্চে একটি কাপড়ের পুটলী নিয়ে বসে আছেন। গুলজান স্বামী হারিয়েছে অনেক আগেই।
সদর ইউএনও জানান তাকে দেখে ঐ বৃদ্ধা আবেগতাড়িত কন্ঠে বলেন, তার ছেলেরা মার-পিট করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং তার চুলও ছিঁড়ে দিয়েছে ছেলেরা। তিনি আর সেখানে যেতে চান না।
গুলজান বগুড়া সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসারকে জানায়, তার ছেলেরা তাকে খেতে দেয়না। তাই সে ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করতো। ভিক্ষাও পছন্দ ছিল না ছেলেদের। তারা খেতেও দেয়না আবার ভিক্ষাও করে খেতেও দেয়া না। তাকে জীবন বাঁচানোর জন্য ভিক্ষা করতে হতো।
সমর কুমার পাল জানান, শুক্রবার দুপুর থেকে সে ঐ যাত্রী ছাউনিতে বসে ছিল। দুপুরে অনেকে তার বসে থাকার কারন সম্পর্কে জানতে যান। অনেকে তার কথা শুনে চলে যান। দিন গড়িয়ে রাত হয়ে গেলে ও তার ছেলেরা তাদের মায়ের খবর নেয়নি। দু‘দিন আগে তার ছেলেরা তাকে মেরে বাড়ি ছাড়া করেছে। অনেক যায়গায় ঘুরে ক্লান্ত হয়ে শুক্রবার দিনে আশ্রয় নেয় লতিফপুর কলোনীর যাত্রী ছাউনিতে।
কিন্তু নাম প্রকাশে অন্চ্ছিুক এক ব্যক্তি বগুড়া সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসাকে শুক্রবার রাতে বিষয়টি অবহিত করেন। ইউএনও জানান, ‘তিনি টেলিফোন পেয়ে সাথে সাথে ছুটে যান সেখানে। তার সকল বর্ননা শোনেন।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান জানান, রোববার বিষয়টি সম্পর্কে জানার পর ঘটনার সত্যতা প্রমান পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জেলা সমাজ সেবা উপ-পরিচালক আবু সঈদ মো: কাওসার রহমান জানান, তকে শিশু পরিবারে রাখা হয়েছে। রোববার অফিস খুললে তার ছেলেদের বাড়ি গিয়ে খোঁজ খবর নেয়া হবে। তার ছেলেরা তাদের মাকে নেবে কিনা তা জানার পর ব্যবস্থা নেয় হবে। আপাতত: দুই দিন বৃদ্ধাকে শিশু পরিবারে থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা নেয় হবে।
এনসিএন/এসএসএ/এআইএ
