ডিসেম্বর ১, ২০২৫ ৪:০৩ পূর্বাহ্ণ

ধুনটে বেড়েছে বিদ্যুতের ট্রান্সমিটার চুরি, অভিযোগ করেও মিলছে না প্রতিকার

বগুড়ার ধুনটে কৃষি কাজে ব্যবহৃত পল্লী বিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্পের ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা বেড়েই চলেছে। গত ৬ মাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ২০টির অধিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে।

চুরি যাওয়া এসব ট্রান্সফরমারের বাজার মূল্য প্রায় ১২ লাখ টাকা বলে জানা গেছে। এসব চুরির ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার মিলছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত সেচ পাম্প মালিকেরা।

জানা যায়, চলতি বছরের ৩ জানুয়ারী উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের ঈশ্বরঘাট গ্রামের মোজাহার আলী আকন্দের ছেলে কৃষক ওসমান গনির বৈদ্যুতিক সেচ পাম্পের ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটে। এঘটনায় ওসমান গনি থানায় অভিযোগ দিয়েও লাভ হয়নি। পরে তিনি ফসল রক্ষার্থে বাধ্য হয়ে ধুনট পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে ৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে পুনরায় ট্রান্সফরমার কিনে লাগিয়ে নেয়। ট্রান্সফরমার লাগানোর প্রায় ১১ মাস পর একই স্থান থেকে গত ১০ নভেম্বর রাত পৌনে ৯ টার দিকে বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে আবারও ট্রান্সফরমার চুরি হয়।

এতে তার মাথায় ওপর আবার ভর করেছে নতুন ট্রান্সফরমারের জন্য বিদ্যুৎ অফিসে টাকা জমা দেয়ার দুশ্চিন্তা। অল্প কয়েক মাসের ব্যবধানে টানা দুইবার ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষক ওসমান গনি। এছাড়াও গত ৮ অক্টোবর গভীর রাতে গোপালনগর ইউনিয়নের বানিয়াগাতি গ্রাম থেকে আরও ৬টি ট্রান্সফরমার চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এরআগে গত ২৪ জুলাই মথুরাপুর ইউনিয়নের খাদুলি গ্রাম থেকে ৪টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটে। এরমধ্যে ১টি সেচ পাম্পের ও ৩টি রাইস মিলের বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী কৃষক ওসমান গনি বলেন, একটি ট্রান্সফরমারের অনেক ওজন থাকে। এত ওজনের একটা জিনিস কীভাবে চুরি হয়? যদি সাধারণ কোনো মানুষ এটি খুলতে যায় কারেন্টের শক খেয়ে মারা যাবে। আমার ধারণা, এ চুরির সঙ্গে পল্লী বিদ্যুতের লোকজন জড়িত। কারণ যার অভিজ্ঞতা আছে সেই এ কাজ করতে পারে।

সেচ পাম্প মালিকেরা বলেন, ট্রান্সফরমারে মূল্যবান তামার কয়েলসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম থাকে। মূলত দামি কয়েলের কারণেই চুরি হয় এসব ট্রান্সফরমার। দক্ষ না হলে, কারও পক্ষে এসব ভারি ট্রান্সফরমার বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে চুরি করা অসম্ভব। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অসাধু কর্মচারীদের যোগসাজশে চোর চক্রের সদস্যরা ট্রান্সফরমার চুরি সংঘটিত করছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখা উচিত প্রশাসনের। চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারগুলোর একটিও উদ্ধার না হওয়ায় ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন বলেও জানান তারা।

ধুনট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম উৎপল মন্ডল বলেন, চলতি বছরে ২৫টির অধিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় আমরা সংশ্লিষ্ট থানায় বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ করেছি। তবে এ পর্যন্ত চুরির সঙ্গে জড়িত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। উদ্ধার করা যায়নি চুরি হওয়া কোনো ট্রান্সফরমার।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email
Print