বগুড়া জিলা স্কুলে সন্তানদের ভর্তি করাতে জালিয়াতির সুযোগ নিয়েছে অভিভাবকেরা। এতে লটারিতে একই শিক্ষার্থীর নাম মেধা তালিকায় একাধিকবার স্থান পেয়েছে। ফলে আবেদনের ত্রুটির কারণে সেসব শিক্ষার্থীদের ভর্তি ‘বাতিল’ করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
মূলত বগুড়া জিলা স্কুলে ভর্তি করাতে অনলাইনের মাধ্যমে তথ্য পরিবর্তন করে একাধিকবার আবেদন করেন ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা। আর এখানেই বাধে বিপত্তি!
মাউশির নির্দেশ অনুযায়ী বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পূনরায় মেধা তালিকায় স্থান পাওয়া শিক্ষার্থীদের একটি তালিকা নোটিশ বোর্ডে ঝুলিয়ে দেয়। সেখানে একাধিকবার আবেদন করা শিক্ষার্থীদের নাম বাদ পড়েছে। আর এ কারণে ভর্তিচ্ছুক অভিভাবকেরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে হাজির হয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
বুধবার (২১ ডিসেম্বর) বেলা ১২ টার দিকে বগুড়া জিলা স্কুল সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, একাধিকবার আবেদন করে লটারিতে স্থান পাওয়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্যামপদ মুস্তাফী ও সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরে পরিস্থিতি নাগালের বাহিরে চলে যাওয়ায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নিয়ে তাদের বিদ্যালয়ের বাহিরে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
বিষয়টি নিয়ে বগুড়া জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্যামপদ মুস্তাফী বলেন, ‘মাউশির নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা আবেদনের ত্রুটির কারণে নির্দিষ্ট শিক্ষার্থীদের বাতিল গণ্য করেছি। ভর্তির জন্য জালিয়াতির সুযোগ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বাবা-মা এসে ঝামেলা সৃষ্টি করছেন। আমরা শুরু থেকেই বলে এসেছি, লটারির বিষয়টি আমাদের এখতিয়ার নয়। বিষয়টি সরাসরি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের। সবকিছু তাদের নির্দেশেই হচ্ছে।’
জিলা স্কুল সূত্র বলছে, ‘বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য প্রায় ১১ হাজার ৪০০ জন শিক্ষার্থীর আবেদন এসেছিল। এদের মধ্যে ২০৬ (প্রভাতি ও দিবা) জনকে ভর্তির সুযোগ দেয়া হয়। কিন্তু এক শিক্ষার্থীর আবেদন একাধিকবার থাাকায় সেটা সম্ভব হয়নি। যারা জালিয়াতির সুযোগ নিয়েছে তাদের বাতিল করে ‘অপেক্ষমান’ শির্ক্ষাথীদের ভর্তি করে নেয়া হবে।

সূত্রটি জানিয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত মেধা তালিকায় স্থান পাওয়া শিক্ষার্থীদের মাঝ থেকে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ ৫৪ জনকে বাছাই করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তাদের বাতিল করা হয়েছে। আজ সকালে নতুন করে আরো ৩জনকে পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছে সূত্রটি।
জিলা স্কুলের শিক্ষকদের সঙ্গে অভিভাবকদের বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে বগুড়া সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খোরশেদ আলম জানিয়েছেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা বিদ্যালয়ের শিক্ষকের সঙ্গে বাকবিন্ডতায় জড়িয়ে পড়েন। পরে আমরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিই। এখন সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে।
এদিকে ‘বাতিল’ হওয়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অবস্থান নিয়েছে। সেখানে আলোচনা শেষে তাদের ডিসি অফিসের মাধ্যমে মাউশির কাছে একটি আবেদন করতে বলা হয়েছে।
জিলা স্কুলে তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তিচ্ছুক আবির হোসেনের মা রেফাত আরা বলেন, ‘আমার ছেলেকে তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি করাতে প্রভাতি ও দিবা শাখায় আবেদন করেছিলাম। সে দিবা শাখায় সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু আবেদন একাধিকবার করার কারণে আমার সন্তানের ভর্তি বাতিল করা হয়েছে। আমিতো একই শাখাতে একাধিকবার আবেদন করিনি তাহলে তার ভর্তি বাতিল হলো কেন সে বিষয়ে কিছু জানেন না তিনি।’
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে শেরপুর উপজেলার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক অভিভাবক জানিয়েছেন, ‘ছেলেকে জিলা স্কুলে ভর্তি করাতে আমি ১০ বার আবেদন করেছিলাম। তার নাম লটারিতে ৩ বার এসেছে। বিষয়টি আমার উচিত হয়নি। কিন্তু এখন আমরা এটার সমাধান চাই।’
সোমবার (১৯ ডিসেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে ওয়েবসাইটে সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ডিজিটাল লটারি পরবর্তী ভর্তি কার্যক্রম বিষয়ে একটি নোটিশ প্রকাশিত হয়। সেখানে দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ৪টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১ ও ২ নং নির্দেশনায় বলা হয়, আবেদনকারী তথ্য পরিবর্তন করে একাধিকবার আবেদন করে থাকলে ডিজিটাল লটারিতে তার ভর্তির নির্বাচন বাতিল বলে গণ্য হবে। একই সাথে সেই শিক্ষার্থীকে সংশ্লিষ্ট ভর্তি কমিটি কিংবা প্রতিষ্ঠান প্রধান কোন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করাতে পারবেন না।
এনসিএন/এআইএ
