ডিসেম্বর ১, ২০২৫ ৫:২৫ পূর্বাহ্ণ

বগুড়ায় পরকীয়ার বলি জহুরুল; দুধে ১৫ ঘুমের ট্যাবলেট খাওয়ায়ে প্রেমিককে ডেকে এনে নৃশংস খুন

বগুড়ার সদর থানার নুনগোলা ইউনিয়নের হাজরাদিঘী তালুকদার পাড়ায় ধানক্ষেতের পাশ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। প্রেমের সম্পর্কের জটিলতা থেকে স্ত্রী ও তার প্রেমিক মিলে ঘুমন্ত স্বামীকে হত্যা করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

বুধবার (০৫ নভেম্বর) দুপুরে সদর সার্কেল কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর।

তিনি জানান, গত ০৪ নভেম্বর ভোরে মোবাইল ফোনে খবর পেয়ে পুলিশ জানতে পারে, হাজরাদিঘী তালুকদারপাড়ার করিমের ধানক্ষেতের পাশে এক ব্যক্তির লাশ পড়ে আছে। খবর পেয়ে পুলিশের একাধিক টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আরো জানান, ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক চৌকস দল তদন্তে নামে। তদন্তে বেরিয়ে আসে— নিহতের নাম জহুরুল ইসলাম, যিনি ছোটবেলা থেকেই মামার বাড়িতে বড় হন। মামাই তাকে নিজের মেয়ের সঙ্গে বিবাহ দেন এবং পাশে একটি বাড়ি করে দেন।

তিনি বলেন, পুলিশের প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে জানা যায়, নিহত জহুরুলের স্ত্রী শামীমা হত্যার আগের রাত পর্যন্ত তার খালাতো ভাই বিপুল হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে কথা বলেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তদন্ত আরও গভীরভাবে চালানো হয়। জানতে পারা যায়, বিপুল ও শামীমার মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। যদিও শামীমার বিয়ে হয় জহুরুলের সঙ্গে, তবুও তাদের অবৈধ সম্পর্ক চলতে থাকে। বিপুল শামীমাকে একটি বাটন মোবাইল উপহার দেন, যার মাধ্যমে তারা গোপনে যোগাযোগ রাখতেন।

তবে সম্প্রতি কক্সবাজার ভ্রমণকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া বাধে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শামীমা তার প্রেমিক বিপুলকে স্বামীকে হত্যার প্রস্তাব দেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ৩ নভেম্বর রাতে বিপুল ১৫টি ঘুমের ট্যাবলেট গুড়ো করে শামীমাকে দেন। শামীমা তা গরম দুধের সঙ্গে মিশিয়ে স্বামী জহুরুলকে পান করান। জহুরুল গভীর ঘুমে অচেতন হয়ে পড়লে শামীমা ফোনে বিপুলকে বাড়িতে আসতে বলেন।এরপর শামীমা নিজে গেট খুলে দেন, বিপুল ঘরে প্রবেশ করে। এরপর শামীমার সহায়তায় ঘুমন্ত জহুরুলকে ধানক্ষেতের পাশে টেনে নিয়ে গিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার এঘটনায় বুধবার ভোরে হত্যাকান্ডের শিকার জহুরুলের স্ত্রী শামীমা ও তার আপন খালাতো ভাই বিপুলকে হাজরাদীঘি তালুকদারপাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

 

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email
Print