ডিসেম্বর ১, ২০২৫ ৫:১৫ পূর্বাহ্ণ

বগুড়ায় বোরো মৌসুমে গভীর নলকূপের মিটার চুরিতে বিপাকে কৃষক

ছবি: বিবিসি
ছবি: বিবিসি

বগুড়া ১৮ মার্চ, ২০২২ : একটি চক্রের কৃষি সেচ পাম্পের বিদ্যুতের মিটার চুরিতে দিশেহারা বগুড়ার কৃষক। প্রথমে একটি চক্র কৃষি সেচ পাম্পের বিদ্যুতের মিটার চুরি করে। তারপর মিটারের চুরি করা স্থানে চোরের মুঠোফোন নম্বর রেখে যায়। কৃষকের নম্বরে মোবাইলে ফোন করে মিটার ফেরত পেতে গ্রাহকের নির্দিষ্ট অংকের টাকা দাবি করছে একটি মিটার চোরের চক্র। এভাবে চুরি করা বৈদ্যুতিক মিটার ফেরত দিতে হয় প্রতি মিটারের জন্য ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা ।

বগুড়ার কাহালু, নন্দীগ্রাম, আদমদীঘি, শেরপুরসহ প্রায় সব উপজেলার এমন কাজ করে আসছে চক্রটি। আর এই মিটার চুরির পরই ফসল নিয়ে বিপাকে পড়ে কৃষকরা। গত বৃহস্পতিবার বগুড়ার কাহালু থানার পাঁচগ্রাাম থেকে চক্রটি পশ্চিম পাথারের গভীর নলকূপের মিটার চুরি করে।

কাহালু পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম বিপ্লব কুমার জানান চক্রটি প্রথমে বিদ্যুতের মিটার চুরি করে। এরপর মিটারের জায়গায় মুঠোফোন নম্বর রেখে যায়। মিটার ফেরত পেতে সেই নম্বরে কল করলে গ্রাহকের কাছে চাঁদা দাবি করা হয়। এভাবে চুরি করা বৈদ্যুতিক মিটার ফেরত দিতে প্রতি মিটারের জন্য ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা করে আদায় করা হয়। বগুড়ার কাহালু, নন্দীগ্রাম, আদমদীঘি, উপজেলায় এমন কাজ করে আসসে বলে জানান তিনি। ভুক্তভোগী কৃষকরা জানায় পল্লী বিদ্যুৎ থেকে নতুন মিটার নিতে তাদের দিতে হয় ১১ হাজার ৫শ‘ টাকা। কিন্তু চোর চক্রকে ৫ হাজার টাকা দিলে তাদের সাড়ে ৫ হাজার টাকা সাশ্রয় হয়। তাই অনেকে মিটার চুরির জন্য থানায় কেউ অভিযোগ করেন না।
মিটার চোরের চক্র সেচ পাম্পের মিটার চুরি করার পর কৌশল পাল্টে তারা চুরি করা মিটার পলিথিন দিয়ে পেচিয়ে মাটির নিচে পুঁতে রাখে। চুরি করা মিটার পেতে চুরি করা স্থানে মোবাইল নাম্বার রেখে যাচ্ছে। আগে এই চোর চক্র একটি মিটার চুরি পর কোন জঙ্গলে রেখে দিত। পারে তাদের দেয়া নির্দিষ্ট স্থানে টাকা রেখে যেতে বলতো। টাকা দিয়ে কৃষককে সেখান থেকে মিটার নিয়ে যেত।
এখন নাম্বরে বিকাশে টাকা পাঠালে তারা তাদের মিটার রাখার নির্দিষ্ট জায়গায় মাটির নিচ থেকে মিটার নিতে বলে বলে জানান কাহালু উপজেলার কৃষক তোতা। ভুক্তভোগী কৃষক জানান ,তোতা থানা পুলিশ চোরের রেখে যাওয়া মোবাইল নাম্বার ট্রাকিং করে দেখতে পান সেই নাম্বার দেখাতে পান মোবাইলটি ও নাম্বারটি রেজিষ্ট্রেশন বিহীন। প্রতারনার মাধ্যমে গ্রামের কোন মহিলার এনআইডি দিয়ে সিমকার্ড সংগ্রহ করেছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমবার হোসেন জানান মিটার চুরির ঘটনা অনেক আগে ছিলো । এখনও হচ্ছে। তারা চেষ্টা করছেন চোর ধরার জন্য । বোরা মৌসুমে এই চোর চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে । অন্য মৌসুমে কৃষক মিটার খুলে রাখেন। তবে তারা মিটার চোর ধরার চেষ্টা করছেন।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email
Print