বগুড়ায় চোখ উপড়ানো ও কান কাটা অবস্থায় এক বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল ধুনট ও শেরপুর থানার সীমান্তে হওয়ায় চারঘন্টা চলে ঠেলাঠেলি। দুই থানার সীমানা জটিলতা নিরসনের পর বৃদ্ধের লাশ শেরপুর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত নুরুল ইসলাম তালুকদার (৬০) ধুনট উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের ইয়াসিন তালুকদারের ছেলে।
শনিবার ধুনট ও শেরপুর থানার সীমান্তের লাঙ্গলমোড়া এলাকার ধানক্ষেত থেকে বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করা হয়। তাকে হত্যার পর ধানক্ষেতে লাশ ফেলে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন বৃদ্ধ নুরুল ইসলাম। এ ঘটনায় ধুনট থানায় জিডি করা হয়। দুইদিন পর বাড়ির অদুরে মিলেছে তার নিথর দেহ। শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ডান চোখ উপড়ানো এবং বাম কান কাটা। ৯৯৯-এ কল পেয়ে ধানক্ষেত থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতের স্ত্রী হাসিনা বেগম ও ছেলে ইমদাদুল হক মিলন জানান, বেশ কিছুদিন ধরে জমিজমা নিয়ে পারিবারিক বিরোধ চলছে। বৃদ্ধ নুরুল ইসলামের সঙ্গে চাচাত ভাই নাজি উদ্দিন ও ইসমাইল হোসেনের বিরোধ প্রকাশ্য। জমিজমার কারণেই হত্যা করা হয়েছে বলে, অভিযোগ করে নিহতের পরিবার।
পুলিশ সূত্র জানায়, ৯৯৯-এ কল পেয়ে প্রথমে ঘটনাস্থলে যায় ধুনট থানা। দুই থানার সীমানা ঘিরে শুরু হয় ঠেলাঠেলি। চারঘন্টা পর জটিলতা নিরসন হলে মরদেহ নিয়ে গেছে শেরপুর পুলিশ। লাশ হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ধুনট থানার ওসি সাইদুল আলম। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ধুনট থানার উপ-পরিদর্শক অমিত হাসান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রস্তত করি। বৃদ্ধের চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহৃ রয়েছে। ঘটনাস্থল ধুনট ও শেরপুর থানার সীমান্তে হওয়ায় জটিলতা দেখা দেয়। মথুরাপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল কাদেরসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিরা জটিলতা নিরসনে সহযোগিতা করে। ঘটনাস্থল (ধানক্ষেত) শেরপুর উপজেলার সীমাবাড়ি ইউনিয়নের লাঙ্গলমোড়া মৌজা নিশ্চিত হলে লাশ হস্তান্তর করা হয়।
শেরপুর থানার ওসি (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন জানান, বৃদ্ধের লাশ ধানক্ষেতে পাওয়া গেছে। আঘাতজনিত অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে, বলে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে পুলিশ কাজ করছে।
