ডিসেম্বর ১, ২০২৫ ৪:০৩ পূর্বাহ্ণ

বগুড়া শহরে বিক্রির ধুম পড়েছে শীতের পিঠার, বেড়েছেও ক্রেতার সংখ্যা

বগুড়ায় শীত পুরোদমে না পড়ার আগেই শহরের বিভিন্ন জায়গায় পিঠার বিক্রির ধুম পড়েছে। দিন দিন বাড়ছে ক্রেতাদের সংখ্যাও। শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষই যেন পিঠা খেতে আসতে দেখা যাচ্ছে এই পিঠার দোকান গুলোতে। তবে সন্ধ্যার পর থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত ভীড় বেশি হয় এসব দোকান গুলোতে।

এদিকে শহরের সাতমাথা, ইয়াকুবিয়া মোড়, জলেশ্বরীতলা, মাটিডালী, বিসিক, ফুলবাড়ি কলেজ এলাকা, কালীতলা বাজার, মালতীনগর, চেলোপাড়া, বকশীবাজার, বউ বাজার, নাটাইপাড়া, সাবগ্রাম, মফিজপাগলার মোড়, ঠনঠনিয়া বাসস্ট্যান্ড, কলোনী, বনানী এলাকায় এসব পিঠার দোকানগুলো রয়েছে। প্রতিটি দোকানেই ভিড় দেখা যায় প্রতিদিন। ক্রেতারা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে সেই পিঠা কিনছেন। কেউ বা নিয়ে যাচ্ছেন পরিবারের জন্য। কেউ আবার দাঁড়িয়েই খাচ্ছেন।

বগুড়া শহরের খান্দার এলাকায় পিঠার দোকানদার মেঃ ইদ্রিস ব্যাপারী। ৭০ বছর বয়সী এই পিঠার দোকানদার ৪ থেকে ৫ হাজার টাকার পিঠা বিক্রি করেন প্রতিদিন। শীত বাড়লে আরও বাড়বে বলে মনে করেন তিনি। তবে আগের বছরের তুলনায় এ বছর পিঠা তৈরীর দ্রব্য বেশি দামে কিনে সীমিত মূল্যে বিক্রি করায় লাভ কম হচ্ছে বলে জানান এই ব্যবসায়ী।

বগুড়ার স্টেডিয়ামের সামনে তিনি বিগত ২৫ বছর ধরে এই জায়গায় শীতে তার সহধর্মিণীকে নিয়ে পিঠার দোকান করে আসছেন।

পিঠার দোকানদার মোঃ ইদ্রিস ব্যাপারী “এনসিএন” কে জানান, এখনও পুরোদমে শীত পড়েনি তারপরেও বিকাল ৪ টা থেকে দোকান দিয়ে ১২ পর্যন্ত বিক্রি করে সংসার বেশ ভালই যাচ্ছে। মানুষের ভীড় বাড়ছে তাই দুইজন কর্মচারীও রেখেছি।

তিনি বলেন, এখানে মিষ্টি তেল পিঠা, ঝাল কুশলী পিঠা, মিষ্টি কুশলী পিঠা, চিতই পিঠা, ডিম দিয়ে ঝাল পিঠা সহ বেশ কয়েক রকমের পিঠা বানানো হয়। তবে মিষ্টি তেল পিঠা ও ডিমের ঝাল পিঠার চাহিদা বেশি।

তিনি আরও বলেন, সপ্তাহে এক বস্তা আটা ও মাসে এক বস্তা করে চিনি লাগে। তেল ও লাগে দিনে ৭-৮ কেজি। এসব জিনিসের দাম বাড়ার কারণে লাভ কম। তবে বেশি বিক্রি হওয়ায় সন্তুষ্ট।

শহরের সেউজগাড়ী আমতলা মোড়ের পিঠা ব্যবসায়ী মোছাঃ পারভীন বেগম জানান, শীত মৌসুমী সংসারের পাশাপাশি এমন পিঠার দোকান করে থাকি। এতে সংসারের বাড়তি আয় হয়৷ পুরোদমে শীত পড়লে প্রতিদিন ৬-৭ হাজার টাকার মত বিক্রি হয়।

পিঠা খেতে এসে পিঠাপ্রেমী ওয়াহাব হোসেন জানান, শীতের সময় গরম গরম পিঠা খেতে খুব মজা লাগে, মাঝে মধ্যেই সময় পেলে বন্ধুদের নিয়ে খেতে আসি।

আরেকজন গৃহিণী তাবাসসুম জানান, এসব পিঠা বাসায় বানানো খুব কষ্ট। এখানে পরিবারের সবাই এক সাথে এসে গরম গরম তৈরি করে প্লেটে করে দিচ্ছে তাই সময় পেলেই চলে আসি খেতে। স্বল্প দামে এখানে খুব মজার মজার পিঠা পাওয়া যায় এজন্য এখানে খেতে আসি।

৬ বছর বয়সী শিশু আতিকা জাহান বলেন, বাবার সাথে পিঠা খেতে এসেছি। এখানে এসে গরম গরম পিঠা খেতে বেশ মজা লাগে।

এনসিএন/বিআর

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email
Print