ডিসেম্বর ১, ২০২৫ ৪:২৭ পূর্বাহ্ণ

বগুড়ায় কোরবানির পশু উঠেছে কেজির স্কেলে, নেই পশুর সংকট

বগুড়ায় কোরবানির পশু উঠেছে কেজির স্কেলে
বগুড়ায় কোরবানির পশু উঠেছে কেজির স্কেলে। ছবি: এনসিএন

ঈদুল আযহা সামাগত প্রায়। বগুড়ায় কোরবানির পশু উঠেছে কেজির স্কেলে। জেলার হাটে ও বড় বড় খামারের কোরবানি যোগ্য পশু প্রস্তুত। এখন অনেকেই খামারে ও হাটে পশুর দাম দর পরখ করছেন, দেখছেন।

এবার বগুড়ায় কৃৃষকের ঘরে ও গো খামারের কোরবানি যোগ্য গবাদি পশু প্রস্তুত (গরু, ছাগল, ভেড়া, মহিষ) ৪ লাখ ২৭ হাজার ২৯৫ কোরবানি। তবে এখনও কোরবানির হাটগুলো জমে না উঠলেও ছোট-বড় অনেক পশু খামারে ক্রেতাদের পদচারনা বেশি।

কৃষক ও খামারীরা জানান, এবার কোরবানির পশুর দাম থাকবে ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে। এবার মাঝারী ও ছোট গরুর চাহিদ বেশি। তাই তারা ছোট ও মাঝারী গরু লালন পালন বেশি করেছে।

গত কয়েক বছর ধরে খামারে কোরবানির গরু ও ছাগল কেজি দরে বিক্রি হয়ে আসছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। খামারে গরু কিনে সেখানেই রেখে আসছেন ক্রেতারা। ঈদের আগের দিন বাড়ি নিয়ে আসবেন তারা। এর জন্য ক্রেতাদের কোন বাড়তি টাকা দিতে হচ্ছে না।

পার্শবতী দেশ থেকে পশু চোরাপথে না আসায় দেশে গো খামারিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।

জেলা প্রানী সম্পদ বিভাগের দেয়া তথ্য মতে, জেলায় এবার ৪৬ হাজার পশুর খামার (গরু, ছাগল, ভেড়া, মহিষ) গড়ে উঠেছে। এখন দেশে কোরবানির চাহিদা মিটিয়ে প্রতি বছর জেলা অর্ধশত পশু উদ্বৃত্ব থাকে। জেলায় এবার কোরবানির চাহিদ ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৩৭৫ টি।

এবার প্রায় ৬৮ হজার কোরবানি উদ্বৃত্ব থাকবে বলে জানান প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডা: সাইফুল ইসলাম। তিনি আরো জানান, জেলায় এবার কোরবানি যোগ্য গরু আছে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৭৯৮, ছাগল ১ লাখ ২৯ হাজার ৫৩৮, ভেড়া ২৮ হাজার ও মহিষ আছে ১ হাজার ৭৩৩।

জেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর জানায়, গত বছর খামারীর সংষ্যা ছিল ৪৫ হাজার ৭৮৪টি। গত বছরের চেয়ে ৬৩১ টি খামার বেশি হয়েছে।

টিএমএসএস ও বগুড়া ভান্ডারের গরু ছাগলে খামারে গিয়ে দেখা গেছে, তারা কেজি দরে কোরবানির পশু বিক্রি করছে। তারা জানিয়েছে, ক্রেতাদের সুবিধার্থে এই ব্যবস্থা রেখেছেন।

টিএমএসএস গরুর খামারের ব্যবস্থাপক সাঈদ জানান, তারা ৩০০ কেজি পর্যন্ত গরু লইফ ওয়েট বিক্রি করছে ৪৫০ টাকা কেজিতে (এর মধ্যে থাকবে ভুড়ি, গরুর ৪ টি পা, মাথা ও চামড়া) এতে ৩০০ কেজির একটি গরুর দাম পড়ছে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।

তবে ভুড়ি, গরুর ৪ টি পা, মাথা ও চামড়া বাদ দিয়ে শুধু মাংসের ওজন হবে ১৮০ কেজি বা সাড়ে ৪ মন। তাতে মাংসের দাম আসবে ৭৫০ টাকা কেজি। ৩০০ কেজির উপরের গরু বিক্রি করা হচ্ছে লাইভ ওয়েটে ৪৮০ টাকা কেজি দরে। গরুর ৬০ শতাংশ মাংস ও ৪০ শতাংশ গরুর ভুড়ি, পা, মাথা ও চামাড়া হিসাব কষে মূল্য নির্ধারন করছে তারা।

এদিকে জেলায় গরুর লাম্পি মানের এক ধরনের স্কিন ডিজিজ দেখা দেয়ায় কৃষক ও খামারিরা উদ্বিগ্ন। তবে এ নিয়ে কোন আতংকের কারণ নেই বলে জানিয়েছেন জেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডা: সাইফুল ইসলাম।

তিনি বলেন, কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে উঠান বৈঠক করা হচ্ছে। এই জাতীয় স্কিন ডিজিজ সাধারণত মশা ও মাছি থেকে হয়। কেউ যেন অসুস্থ গরু নিয়ে হাটে না আসেন সে ব্যাপারেও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা

এনসিএন/এএ

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email
Print