বগুড়ায় ভয়াবহ লোডশেডিং আর দুঃসহ গরমে জনজীবন নাকাল। শহরের প্রতিটি এলাকায় রেশন করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে নেসকো লিমিটেড।
গ্রামের চিত্র আরো ভয়াবহ। বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি থাকার কারেনই এ সমস্যা দেখা দিয়েছে বলছেন নেসকো বগুড়া -১, ২ ও ৩ এর নির্বাহী প্রকৌশলীরা।
নেসকো-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মান্নাফ জানান, চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে তাদের শহরাঞ্চলে এলাকা ভিত্তিক পর্যায়ক্রম দেড় থেকে দুই ঘন্টা লোডশেডিং করা হচ্ছে। কারিগরি ত্রুটির কারনে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে।
তিনি আরও বলেন, বগুড়া ১ অঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদা ২৬ মেগাওয়াট। তারা পাচ্ছেন ১২ মেগাওয়াট। এতে স্বাভাবিকভাবেই লোডশেডিং দিতে বাধ্য হতে হচ্ছেন।
বগুড়া-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন জানান, তাদের চাহিদা ২৪ মেগাওয়াট কিন্তু তাদের দেয়া হচ্ছে ১০ মেগাওয়াট।
লোড শেডিং নিয়ে নেসকো-৩ এর নির্বার্হী প্রকৌশলী ওমর ফারুক জানান, তাদের চাহিদা ২২ মেগাওয়াট কিন্তু তারা পাচ্ছে ১১ মেগাওয়াট। ঘাটতি পোষাতেই ঘনঘন লোডশেডিং হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এদিকে পল্লী বিদ্যুৎ-২ এর জেনারেল ম্যানেজার জানান, তাদের চাহিদা ১০৫ মেগাওয়াট তারা পাচ্ছে ৬০ মেগাওয়াট।
এই লোডশেডিং নিয়ে বিব্রত যেমন স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগ, তেমনি বিব্রত গ্রাহকরা। যখন তখন লোডশেডিং এর কারনে গ্রাহকেরা অসহ্য গরমে তারা ছটফট করছেন। তবে কি কারনে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে তারা তার সঠিক কারন জানাতে পারছেন না। এই অবস্থা চলতে থাকলে মানুষের কাছে জবাব দিহিতা করতে পারবে না তারা।
বগুড়ায় বিদ্যুতের লোডশেডিং এর ফলে বিসিক শিল্প নগরীর উৎপাদন ভেঙ্গে পড়েছে এমনটি জানিয়েছেন বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি আব্দুল মালেক।
তিনি জানান, লোড শেডিং এর ফলে তাদের উৎপাদন এক চতুর্থাংশে নেমে এসেছে। লোডশেডিং বন্ধে বিসিকের অধিকাংশ ফাউন্ড্রী শ্রমিকদের বসে বসে মজুরী দিতে হচ্ছে।
বগুড়া জেলা আবহাওয়া অফিস জানায়, গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা ৩৪ থেকে ৩৫ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করছে। তবে বাতাসের আর্দ্রতা ৬৫ থেকে ৯৫ শতংশে ওঠানামা করছে। আবার শহরজুড়ে লোডশেডিং এতে কমবেশি সবাই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
