ডিসেম্বর ১, ২০২৫ ৪:৫৩ পূর্বাহ্ণ

উৎপাদন ছড়িয়ে দিতে পারলে সয়াবিন আমদানী কমার আশাবাদ।

বগুড়ায় সরকারি প্রনোদনায় সূর্যমুখি চাষে কৃষককের মুখে হাঁসি ফুটেছে

ছবিঃ এন সি এন
ছবিঃ এন সি এন

সরকারি প্রনোদনায় সূর্যমুখী চাষে কৃষককের মুখে হাঁসি ফুটেছে। এটা এখন সোভা বর্ধক ফুল নয়। এটাকে অর্থকরি ফসল হিসাবেবগুড়ায় পরিচিতি লাভ করাতে চেষ্ট চালিয়ে যাচ্ছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। আগে বাংলাদেশে শখের বসে অনেকে বাগানেসূর্যমুখি ফুলের গাছ লাগাতো। কিন্তু কৃষি বিভাগ এই ফুলের বীজ থেকে উন্নত মানের তেল হয় তা বোঝাতে সক্ষম হয়েছেকৃষকদের কৃষি বিভাগ সায়াবিন তেলের উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে কৃষকদের সরিষা সূর্যমুখি চাষে উৎসাহিত করছে।সূর্যমুখি চাষে প্রনোদনা হিসাবে  বিঘা প্রতি কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি এবং ১০ কেজি এমওপি সার দিচ্ছে। দেশে উৎপন্নহওয়া সূর্যমুখি বীজ থেকে তেল সয়াবিন তেলের চেয়ে দাম অনেক কম পড়ে এবং স্বাস্থ্যকর এমটি জানালেন কৃষি সম্প্রসারণঅধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচলক এনামুল হক। তিনি আরো জানান, “কৃষক সরকারি প্রনোদনার হিসাবে বীজ, সার পেয়ে সূর্যমুখি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে।কিন্তু বগুড়া সদরের কৃষক আইয়ুব আলী জানান, “আমরা সূর্যমুখি চাষ করতে গিয়ে বিপাকেপড়েছি। মানুষ রাতের আধারে সূর্যমুখি ক্ষেতের গাছ তুলে ফেলে অনেকে গাছের ভেঙ্গে মাড়িয়ে মোবাইল সেলফি তোলে।এই সমস্য গুলোর সমাধান হলে তারা প্রতিবছর নিজ উদ্যোগেই বীজ কিনে সূর্যমুখি চাষ করবে। ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপারসুদীপ কুমার চক্রবর্তী কৃষকদের সার্বিক সহায়তা  প্রদানের আশ্বাস দেন। কৃষি বিভাগ জানায়, যদি সূর্যমুখি ক্ষেতে কোনস্থানেসমস্যা, তা হলে সেখানে পুলিশ সহায়তা দিতে প্রস্তুত।

জেলার কৃষি কর্মকর্তারা জানান, “সয়াবিনের বদলে স্বাস্থ্যকর ভোজ্য তেলের  যোগান দিতে সূর্যমুখি চাষে প্রায়স চালিয়ে যাচ্ছে।সূর্যমুখি চাষে উৎপাদন খরচ কম।বগুড়ার এক ব্যবসায়ী শাহ আলম জানান, জানান তিনি চট্ট্রগ্রাম, সিলেট বগুড়া ,ভৈরব, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সূর্যমুখির বীজ ক্রয় করেন। সেই বীজ বগুড়ার রানা নামের একব্যাক্তি কিনে থাকেন।তিনি ৬০ টাকা কেজি দরে ক্রয় করেন আর বিক্রি করেন ৭০ টাকা কেজিতে। তিনি বিভিন্ন স্থান থেকে সূর্যমুখি বীজ ক্রয় করলেওকোথায়  এর মিল আছে তা তিন জানেন না। ফলে সামান্য কেজিতে টাকা লাভে সূর্যমুখি বীজ বিক্রি করে থাকেন।

জেলা অতিরিক্ত উপপরিচালক এনামুল হক জানান, জেলায় বছর  ২০০০ বিঘা হেক্টর  সূর্যমুখির চাষ হযেছে।  এর মধ্যে২০০০ বিঘার জন্য প্রনোদনা এক জন কৃষককে বিঘা প্রতি কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি এবং ১০ কেজি এমওপি  কৃষকদেরপ্রনোদনা হিসাবে প্রদান করা হয়েছে।  বগুড়ার কৃষি বিভাগ সূর্যমুখ চাষে প্রনোদনা দেয়ায় সাবগ্রামের কৃষক আইয়ুব আলীজানান, এবার  প্রথম বারের মত সূর্যমুখি চাষ করেছে। কৃষি কর্মকর্তারা সূর্যমুখি চাষিদের কাছে ক্রেতা পাঠিয়ে দেন। বগুড়ায় একব্যাক্তি বীজ ক্রয় করেন। সূর্যমুখি বীজ বিক্রি করে ভাল দাম পাবেন এমনটাই শুনেছেন তিনি। তাই কষ্ট করে হলেও ফসল বাঁচাতেদিনরাত পাহারা দিচ্ছেন সূর্যমুখি ক্ষেত। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, এটি একটি ফসল। তারা যাদি দুর থেকে ফুলের সৌন্দর্যউপভোগ করতো তবে তার ফসল নষ্ট হতো না।

কৃষকরা জানায়  বগুড়ার রানা নামে এক অপরিচিত ব্যাক্তি তার কাছ থেকে বীজ  কিনে কোন মিলে দেয় বলে না। তারা সূর্যমুখিতেল তৈরীর মিলের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারলে দাম আরো বেশি পেত। কিন্তু সেটিও সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। কারনতাদের কৃষিকাজে ব্যাস্ত থাকতে হয়। কৃষকরা জানান,পুষ্টি সম্মত এই তেল উৎপাদন দেশে বৃদ্ধি পেলে দেশে সয়াবিন তেলের উপরআমদানী নির্ভরতা কিছুটা হলেও কমতো।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, নোয়াখালিতে সূর্যমুখি বীজ থেকে ছোট ছোট বেশ কয়েকটি মিল আছে।খোঁজ নিয়ে যানা গেছে নোয়াখালি জেলার চৌমুহনি তে নবযুগ, স্টার ,মমতা, তরী, যমুনা রাজপুরিসহ বেশ কয়েকটি মিল থেকেসূর্যমুখি তেল উৎপাদন বাজার জাত করা হয়েছে। এখন অনেক মানুষ বীজ ক্রয় করে বগুড়ার সরিষার মিল থেকে তেলউৎপাদন কওে থাকেন।  বিদেশ থেকে আমদানিকৃত সূর্যমুখি তেলের চেয়ে দেশে উৎপদিত তেলের দাম অনেক কম পড়ে। তবেসূর্যমুখি ক্ষেতে মানুষ সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়ে গাছ মাড়িয়ে নষ্ট না করলে আরো উৎসাহ বাড়তো।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email
Print