ডিসেম্বর ১, ২০২৫ ৫:৫২ পূর্বাহ্ণ

মানসিক কষ্ট সইতে না পেরে জীবনের ইতি টানলেন নন্দীগ্রামের বলরাম কুমার  

বগুড়ার নন্দীগ্রামে গলায় দড়ি দিয়ে বলরাম কুমার (৩২) নামের এক যুবক আত্নহত্যা করার ঘটনা ঘটেছে। ২৭শে অক্টোবর (সোমবার) আনুমানিক ২ঘটিকার সময় নন্দীগ্রাম সদর ইউনিয়নের ইসবপুর গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। মৃত বলরাম কুমার ওই এলাকার মৃত বনমালীর ছেলে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বলরাম কুমার মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে বলরামের পরিবার তার চিকিৎসার জন্য পরিবারের সর্বোচ্চ দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় তার চিকিৎসা করান। স্বামী মারা যাওয়াই বড় ছেলে মানসিক রোগী ও ছোট ছেলে প্রতিবন্ধী হওয়ায় বলরামের মা দুই সন্তানকে নিয়ে সরকারি অনুদানকৃত বাড়িতে বসবাস করতেন।

কোন রকমের খেয়ে না খেয়েই অনেক কষ্টে চলছিল বলরামের চিকিৎসা ও পরিবারের সদস্যদের জীবন। এসব কষ্ট সইতে না পেরে ঘটনার দিন বলরাম সবার অজান্তে নিজ বসত ঘরের তীরের সাথে রশি লাগিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।

বলরামের মা ঘরের দরজা বন্ধ পেয়ে তাকে ডাকাডাকি করতে থাকে। এক পর্যায়ে কোন সারা শব্দ না পেয়ে ডাক চিৎকার করলে প্রতিবেশী লোকজন এসে ঘরের দরজা ভেঙ্গে বলরামের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায়। পরিবার রশি কেটে লাশ নিচে নামিয়ে রাখে। পরে থানা পুলিশের খবর দিলে নন্দীগ্রাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে  এসআই মোঃ আমির হোসন লাশের সুরতাল রিপোর্ট প্রস্তুত করেন। মৃতের মৃত্যুর বিষয়ে কোনো সন্দেহ না থাকায় ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশ সৎকারের অনুমতি প্রদান করেন।

স্থানীয়রা জানান, বলরাম প্রায় ১০/১৫ বৎসর যাবৎ মানসিক অসুস্থ অবস্থায় জীবন যাপন করছিল। বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করেও সুস্থ না হওয়ায় এবং মানসিক অসুস্থতার কারণেই সে আত্মহত্যা করেছে। একজন মানসিক রোগীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা  আরও বলেন, বলরাম সবসময় একা থাকতো, নিজের সঙ্গে নিজের লড়াই করত। কেউ ভাবেনি সে এমনভাবে চলে যাবে।”

এ বিষয়ে নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি  ফইম উদ্দিন বলেন, বলরাম একজন মানসিক রোগী ছিলেন, তার পরিবার সরকারি ঘরে অনেক কষ্টে জীবন যাপন করতেন, অভিযোগ না থাকায় ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশ সৎকারের অনুমতি প্রদান করা হয়েছে।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email
Print