৯২ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন উপমহাদেশের কিংবদন্তিতূল্য সুরসম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকর। রবিবার (৬ই ফেব্রুয়ারি) সকাল সোয়া আটটায় মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই কোকিলাকোন্ঠী।
লতা মঙ্গেশকরের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমেছে ভারত ও বাংলাদেশে। বিনোদনজগৎ তো বটেই, গায়িকার মৃত্যুতে নিজেদের সোস্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে রাজনীতিবিদ, খেলোয়াড়সহ নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ শোক প্রকাশ করছেন। এ তালিকায় যুক্ত হয়েছে দেশের সংগীতশিল্পীরাও।
লতা মঙ্গেশকর আর নেই সেকথা যেন কিছুতেই মানতে পারছেন না দেশের আরেক কিংবদন্তি কন্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন। প্রয়াত শিল্পীকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সাবিনা বলেন, ‘পৃথিবীর নিয়মে তিনি চলে গেলেন। ভাবতাম, তিনি হয়তো কখনও যাবেন না। এমনই একটা কিছু আমার মনের ভেতর চিন্তা হতো। লতা মঙ্গেশকর পৃথিবীতে নাই এটা ভাবাই যায় না। আমি ভাগ্যবান যে লতাজির সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল, কথা বলতে পেরেছিলাম। ’
সাবিনা আরও জানান, ‘সেদিনের স্মৃতি খুব মনে পড়ছে। এত বড় মাপের শিল্পী, কিন্তু কাছে গিয়ে বোঝার উপায় নেই। তিনি যত বড় শিল্পী ছিলেন, মানুষ হিসেবে ছিলেন ততই বিনয়ী।’
অন্যদিকে ভারতের নাইটেঙ্গেল খ্যাত গায়িকা লতা মঙ্গেশকরকে নিয়ে স্মৃতি রোমন্থন করেছেন অভিনেতা আলমগীর তনয়া আঁখি আলমগীর। শিল্পীর মৃত্যুর খবর জানতে পেরে নিজের সোস্যাল হ্যান্ডেলে বেশকিছু ছবিও শেয়ার করেছেন। যেখানে তিনি লিখেছেন, ‘আহ লতাজী, আপনি চলেই গেলেন।’
পাশাপাশি দেশীয় গণমাধ্যমেও লতাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করলেন আঁখি আলমগীর। তিনি জানিয়েছেন, ‘লতাজীর সঙ্গে আমাদের দেখা হয়েছিল ২০১৭ সালে। বাবার (নায়ক আলমগীর) ‘একটি সিনেমার গল্প’ ছবির গান রেকর্ডিং এর জন্য ভারতে গিয়েছিলাম। রেকর্ডিং এর আগে সুযোগটা হয়েছিল, আর সেটা করে দিয়েছিলেন রুনা আন্টি। সেদিন ৩০ মিনিট সময় দেওয়ার কথা বলে আমাদের সঙ্গে আড়াই ঘন্টা আড্ডা দিয়েছিলেন। সে দিনের কথা কোনোদিনই ভুলব না আমি। আমি পুরোটা সময় উনার হাত ধরে পায়ের কাছে বসেছিলাম। যদিও লতাজি বারবার আমাকে উনার পাশে সোফায় বসাতে চাইছিলেন, কিন্তু আমি সেটা করিনি। আমি আসলে ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না সেই দিনের অনুভূতি।’
