বগুড়ার সান্তাহারের পাশ্ববর্তী তিলকপুর ইউপির সাবেক স্ত্রীর আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আনোয়ার হোসেন নামের এক সদর হাসপাতাল কর্মচারীর বিরুদ্ধে।
আনোয়ার হোসেন নওগাঁ সদর হাসপাতালের অস্থায়ী কর্মচারী ও নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার পারইল গ্রামের দবির উদ্দিনের ছেলে।
অপমান সইতে না পেরে দুই দফায় আত্মহত্যার চেষ্টা করেন ভুক্তভোগী নারী।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নওগাঁ সদর মডেল থানায় সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে প্রমাণাদিসহ মামলা দিতে গেলে থানার দায়িত্বরত অফিসার ইনচার্জ জোরালো কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করে একটি অভিযোগ দিতে বলেন। অভিযোগ দায়ের ৭ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি পুলিশ। ফলে পুলিশের এমন ভূমিকায় প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে বগুড়ার সান্তাহারের পাশ্ববর্তী নওগাঁ জেলার সদর উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের জনৈক ওবাইদুর রহমানের মেয়ের সঙ্গে একই জেলার রাণীনগর উপজেলার পারইল গ্রামের দবির উদ্দিনের ছেলে আনোয়ার হোসেনের ধর্মীয় অনুসারে বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি ছেলে সন্তান জন্ম হয়। এরপর সংসার জীবনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে কলহ সৃষ্টি হয়। প্রতিনিয়ত যৌতুকের দাবীতে স্ত্রীর উপর নির্যাতন করতো। একপর্যায়ে স্ত্রীকে তালাক দেন স্বামী আনোয়ার হোসেন। পরে ভুক্তভোগী আদালতে যৌতুকের মামলা দায়ে করেন। মামলার চলমান অবস্থায় তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছিলো সাবেক স্বামী আনোয়ার হোসেন। হুমকি ধামকির একপর্যায়ে সাংসারিক জীবনে ভিডিও ফোনে কথা বলার সময় কৌশলে স্ত্রীর আপত্তিকর ভিডিও গোপনে ধারণ করে রাখে স্বামী। পরে সেগুলোর বিষয়ে তাকে বলে বিভিন্ন কুপ্রস্তাব দিতো এবং ভিডিওগুলো ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয়ভীতি দেখাতেন। তার কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ইম্যুতে সাবেক স্ত্রীর বাড়ির এলাকার একাধিক ব্যক্তিদের পাঠিয়ে বলেন “করে খাও’। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের লোকজনের ব্যাপক সন্মানহানি ও সামাজিকভাবে মানক্ষুণ্য হয়। অপমান সইতে না পেরে ভুক্তভোগী দুইবার আত্মহত্যার চেষ্টাও করে পরে পরিবারের লোকজন তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিকভাবে সুস্থ করে। এখনো মানসিক ও শারীরিক ভাবে সন্তান নিয়ে অসুস্থতার মধ্যে বাবার বাড়িতে দিনযাপন করছেন। পরে আইনগত পদক্ষেপের জন্য নওগাঁ সদর থানায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাবেক স্বামী আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে তথ্য প্রমাণাদিসহ ভুক্তভোগী নিজেই মামলা দিতে গেলে মামলা নেয়না থানার দায়িত্বরত অফিসার ইনচার্জ। তিনি মামলা নেওয়ার বদলে একটি অভিযোগ দিতে বলেন। পরে রবিবারে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ দায়ের ৭ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো পুলিশের কোন পদক্ষেপ নেই বলে জানান ভুক্তভোগী। যারফলে পুলিশের এমন ভূমিকায় প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীর পরিবারসহ স্থানীয় লোকজন।
অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি তার কোন ভিডিও ভাইরাল করিনি তার ৩ জন প্রেমিক রয়েছে তারা করলে করতে পারে।
নওগাঁ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ভিডিও এর বিষয়টা যেহেতু একটা ইম্যু অ্যাকাউন্ট থেকে করা হয়েছে সেক্ষেত্রে এটা আইডেন্টিফাই ছাড়া তো মামলা নিতে পারিনা, অভিযোগ পাবার পর থেকে তদন্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, হঠাৎ করে কেউ এসে আপনার নামেও মামলা করতে চাইতে পারে, তবে বিষয়টি সত্যি কিনা তা প্রথমে আমরা যাচাই করি । সত্য ঘটনার রহস্য খুঁজে বের করে তারপর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
