ডিসেম্বর ১, ২০২৫ ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ

সিআইডির ডিএনএ পরীক্ষায় মিললো পিতৃ পরিচয়; আসামি গ্রেপ্তার

নওগাঁর মান্দায় ডিএনএ পরীক্ষায় সন্তানের পিতৃ পরিচয়ের প্রমাণ মেলায় ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি কামরুল ইসলাম ওরফে মোকছেদ (৩০) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। 

বিষয়টি রোববার ৩০ নভেম্বর সন্ধ্যায় নিশ্চিত করেছেন নওগাঁ সিআইডি অফিসের সহকারী পুলিশ সুপার সাবের রেজা আহমেদ।

এর আগে এদিন সকালে নওগাঁ শহরের কোর্ট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত কামরুল মান্দা উপজেলার শোভাপুর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে।

মামলাটির তদন্ত করছিলেন সিআইডির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. তোজাম্মেল হক। তিনিও নিশ্চিত করেছেন।

সিআইডি সূত্র জানায়, একটি মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ওই ছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের প্রস্তাব ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল কামরুল। মেয়েটি রাজি না হওয়ায় সে তাকে হুমকিও দেয়। একপর্যায়ে কিশোরীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে তাকে একাধিকবার জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। সর্বশেষ ২০২৩ সালের ৩০ জুলাই কামরুলের বাড়িতে সুযোগ পেয়ে আবারও তাকে ধর্ষণ করা হয়।

পরবর্তীতে কিশোরীর শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ করে পরিবার স্থানীয় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করালে ২৫ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা বলে রিপোর্ট আসে।

বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবারের পক্ষ থেকে কামরুলকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেন।

এরপর কিশোরীর বাবা ২০২৪ সালের ২ জানুয়ারি মান্দা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। শুরুতে থানার তদন্ত কর্মকর্তা কামরুলের সম্পৃক্ততা না পেয়ে তাকে অব্যাহতি দিয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেন। বাদী এ রিপোর্টে নারাজী জানালে আদালত সিআইডিকে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই তোজাম্মেল হক জানান, ভুক্তভোগীর বর্ণনার ভিত্তিতে ছয় মাস আগে কামরুলসহ তিনজনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়। গত ২৬ নভেম্বর প্রাপ্ত ডিএনএ রিপোর্টে দেখা যায়, কিশোরীর নবজাতকের সঙ্গে কামরুলের ডিএনএ মিল রয়েছে। রিপোর্টের বিষয়টি আঁচ করতে পেরে তিনি কৌশলে পালানোর চেষ্টা করেন। এরপর কোর্ট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিন সন্ধ্যা ৬ টার দিকে জানতে চাইলে নওগাঁ সিআইডি অফিসের সহকারী পুলিশ সুপার সাবের রেজা আহমেদ বলেন, এই মামলাটি প্রায় শেষ পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। বাদীর নারাজির প্রেক্ষিতে আমরা ছায়া তদন্ত শুরু করি। এবং সন্দেহ জনক তিন জনের নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ টেস্টে পাঠায়। গ্রেপ্তার কামরুল ইসলামের সাথে ডিএনএ টেস্ট মিলে যাওয়ায় এদিন মান্দা থেকে তাকে অনুসরণ করি। অবশেষে শহরের বালুডাঙা ও কোর্ট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে অফিসে নিয়ে আসা হয়। এরপর জিজ্ঞোসাবাদের একপর্যায়ে কামরুল দোষ স্বীকার করে।

তিনি আরও বলেন, এতে আমরা এক সন্তানের পিতৃ পরিচয় সনাক্ত করতে সক্ষম হলাম। ওই সন্তান এখন তার পিতার পরিচয় জানতে পারবে। আমরা আশা করি সিআইডি যে সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গা সেটা আমরা প্রমাণ করতে সক্ষম হলাম।

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email
Print