ডিসেম্বর ১, ২০২৫ ৩:৪৮ পূর্বাহ্ণ

হত্যাকান্ডে বার্মিজ চাকু ব্যবহারেই বেশি উৎসাহী হত্যাকারীরা

হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত বার্মিজ ছুরি। ছবিঃ এনসিএন
হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত বার্মিজ ছুরি। ছবিঃ এনসিএন

বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের জেরে ২০২১ সালের ১১ মার্চ রাতে শহরের সাতমাথায় দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে গুরুতর আহত করে জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাকবীর ইসলামকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ মার্চ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান তিনি। পরবর্তীতে ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তারিখে বগুড়া জেলা ছাত্রলীগ নেতা তাকবির হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন পারভেজ আল মুক্তাদির (২১) গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এসময় তার কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র একটি সচল ত্রী নট ত্রী রাইফেল ও তার মধ্যে থাকা ম্যাগাজিনসহ দুইটি অত্যাধুনিক ছুরি (বার্মিজ চাকু) উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ। 

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তারিখ মঙ্গলবার বগুড়া পৌর এ্যাডওয়ার্ড পার্কে সন্ধায় প্রেম ঘটিত কারণে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির জেরে দ্বিতীয় প্রেমিকের ছুরিকাঘাতে প্রথম প্রেমিক মিরাজ (২২) আহত হয়। এরপর স্থানীয়রা তাকে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরই জের ধরে মাত্র ১২ ঘন্টার মধ্যে ১৬ ফেব্রুয়ারি তারিখে মূল আসামীসহ তিনজনকে সোনাতলা থেকে গ্রেফতার করে বগুড়া সদর থানা পুলিশ। যাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় রক্তমাখা জ্যাকেট এবং হত্যাকান্ডের কাজে ব্যবহার হওয়া একটি বার্মিজ চাকু।

গত ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তারিখে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সময় দেশিয় ধারালো অস্ত্রসহ ৫ জনকে আটক করেছে বগুড়া সদর থানা পুলিশ। যাদের বয়স সকলেরই ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। সদ্য উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার গন্ডি পার হওয়া এসকল যুবকদের কাছে মেলে বার্মিজ চাকুসহ দেশীয় ধারালো অস্ত্র।

সদ্য ঘটে যাওয়া এই তিনটি ঘটনা ছাড়াও আরোও অনেক হত্যাকান্ডের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় প্রায় বেশিরভাগ হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে অত্যাধুনিক ছুরি বার্মিজ ছুরি দিয়ে।

তবে এসকল হত্যাকান্ডে বেশির ভাগই কেন এ ছুরি ব্যবহৃত হচ্ছে সে সম্পর্কে বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তীর কাছে জানতে চাইলে তিনি নর্থ ক্যাপিটাল নিউজকে জানান,

“এসকল ছুরি ব্যবহারে অনেক সহজ এবং বহনে অত্যন্ত সহজ হওয়ায় হত্যাকারীদের কাছে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এছাড়া আরো একটি বিষয় হলো এই ছুরির দুই অংশে অনেক ধারালো হয়। এর মাধ্যমে আঘাত করার ফলে বাইরের ক্ষত ছোট দেখা গেলেও ভেতরের আঘাত হয় অনেক তীব্র। আর বাজারে এর সহজলভ্যতা হওয়ার কারণে সকলের হাতেই পৌছে যাচ্ছে এসকল ছুরি।”

অনুসন্ধানে সরেজমিন দেখা যায়, বগুড়া শহরের কাজী নজরুল ইসলাম সড়কের ছোট ভ্রাম্যমান দোকানগুলোতে, শহরের জ্বলেশ্বরীতলা এলাকার ১-৯৯ টাকা দোকানে বার্মিজ ছুরি কেনা বেচা হয়। ছুরিগুলো একেকটি ধরণ এবং কার্যকারিতা ভেদে ২শ’ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। এছাড়া নিউ মার্কেটের বিভিন্ন কুকারিজের দোকানে ও বিভিন্ন অনলাইন মার্কেট প্লেসে ধারালো ছুরি এবং চাপাতি বিক্রি হয়। এসকল ছুরি মূলত রান্না ঘরের কাজে ব্যবহারের জন্য হলেও দুর্বৃত্তরা ব্যবহার করছে যেকোন ধরণের অঘটন ঘটাতে। এসকল ছুরির ক্রেতা কারা সম্পর্কে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিক্রেতা জানান,

“কিশোর বয়সী থেকে শুরু করে ২৫ বছর বয়সের মানুষই আসেন এসকল ছুরি কিনতে। তবে এসকল ছুরি বিক্রয়ের বিষয়ে সঠিক কোন নিষেধাজ্ঞা না থাকায় যখন তখন যে কারোও হাতে পৌছে যাচ্ছে। তাতে দিন দিন হত্যাকান্ড এবং অরাজকতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।”

 

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email
Print