ডিসেম্বর ১, ২০২৫ ৩:৪৮ পূর্বাহ্ণ

বগুড়ায় ৮৮ কিঃমিঃ বেগে ঝড়, মৃত্যু ১

বগুড়ায় কালবৈশাখী ঝড়ে উপড়ে গেছে গাছ
বগুড়ায় কালবৈশাখী ঝড়ে উপড়ে গেছে খোকন পার্কের গাছ। ছবি: এনসিএন

জৈষ্ঠ্যের শুরুতে বগুড়ার বিভিন্ন স্থানে বয়ে গেছে কাল বৈশাখী ঝড়। এতে গোটা জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

আজ শনিবার (২১ মে) ভোর ৪টা থেকে ৪টা ৪মিনিট পর্যন্ত জেলায় সর্বোচ্চ ৮৮.৬ গতিবেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে গিয়েছে। এদিন বগুড়ার বিভিন্ন উপজেলায় আঘাত হানা এ ঝড়ে কাহালুতে ১জন ও নন্দীগ্রামে একজনের মৃত্যু হয়। এছাড়াও প্রায় ৫ শতাধিক পাখির মৃত্যু, কৃষকের ধান পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া, বাসা বাড়ির টিনের চাল থেকে শহরের বিনোদন কেন্দ্রের গাছপালা উপড়ে যাওয়াসহ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মতো ঘটনা ঘটেছে।

সর্বোচ্চ গতিবেগে ঝড়ো হাওয়া

বগুড়ায় এই মৌসুমের সর্বোচ্চ ৮৮.৬ কি.মি গতিবেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে গিয়েছে। একই সাথে ৩৬ মি.মি বৃষ্টিপাত হয়েছে।

বগুড়া আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া জানান, শনিবার ভোর রাত ৪টায় ঘূর্ণিঝড় শুরু হয়। মাত্র ৪ মিনিট স্থায়ী ঘূর্ণিঝড়ে বাতাসের গতিবেগ ছিল ৮৮ দশমিক ৬ কিলোমিটার। তিনি বলেন, ৪টা ৪ মিনিটে বাতাসের গতিবেগ কমে আসলে শুরু হয় বৃষ্টিপাত। ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত দমকা বাতাসের পাশাপাশি ৩৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।

১ জনের মৃত্যু, আহত এক শিশু

শনিবার ভোর সাড়ে ৪ টার দিকে ১৫ মিনিটের ঝড়ে বগুড়ার কাহালু উপজেলার কালাই ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামসহ বিভিন্ন গ্রাম লন্ডভন্ড হয়েছে। কালাই মাছপাড়ায় বাড়ির উপর পাকড় গাছ পড়ে ঘর ধসে মাটির চাপায় মারা গেছেন মো. শাহিন প্রধান (৪৫) নামের এক দিনমজুর। এছাড়াও কালাই দক্ষিণ নওদাপাড়ায় পাকা ঘর ধসে আহত হয়েছে মেহেদী হাসান (৭) নামের এক শিশু। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাহালু থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মহিউদ্দিন।

আরও পড়ুন: বগুড়ায় ঝড়ো হাওয়া ও অতিমারি বৃষ্টিতে চাষীদের স্বপ্নভঙ্গ

৫ শতাধিক পাখির মৃত্যু

বগুড়ায় ৪ মিনিটের ঘূর্ণিঝড়ে বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৫ শতাধিক পাখির মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে শহরের এডওয়ার্ড (পৌর) পার্কে মারা গেছে ৩ শতাধিক পাখি। মারা যাওয়া পাখিগুলোর মধ্যে দাঁড় কাক, পাতি কাক, গো শালিক, টিয়া, বক রয়েছে। এছাড়াও বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ ক্যাম্পাসসহ বিভিন্ন স্থানে আরও দুই শতাধিক পাখি ঝড়ের কবলে পড়ে মারা গেছে।

অসংখ্য গাছপালা উপড়ে গেছে

ঝড়ো হাওয়াতে শহরের খোকন পার্ক ও পৌর পার্কসহ অসংখ্য গাছপালা উপড়ে গেছে। এরমধ্যে পৌরপার্কের জাম গাছ, আকাশমনি গাছ, পিটাহরি গাছ, কড়ি গাছ, বট গাছ রয়েছে। এসব অধিকাংশ গাছের বয়স ১০ থেকে ২০ বছর।

বিষয়টি সম্পর্কে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, পৌর পার্কে যেসব গাছের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সেগুলো নিলামে বিক্রি করা হবে। আপাতত গাছগুলো যাতে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরী করতে না পারে সেজন্য কাজ করা হচ্ছে। এসব গাছ সম্পর্কে পৌর মেয়র সব সিদ্ধান্ত নিবেন বলেও জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।

বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

বগুড়ায় প্রথম ঝড়ো হাওয়ায় কৃষকের ফসলের জমিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে কি পরিমানে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সে বিষয়ে এখনো কোনো সঠিক তথ্য নেই জেলা কৃষি অধিদপ্তরের কাছে।

এদিকে গেল কয়েকদিনে ঝড়-বৃষ্টিতে প্রতি বিঘায় তিন মণ ফলন কমেছে। যাতে প্রায় সাড়ে ৪ শত কোটি টাকার লোকসান হতে পারে। এরই মধ্যে কালবৈশাখী ঝড়ের তান্ডবে এই ক্ষতির পরিমান আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জেলা কৃষি অধিদপ্তর।

বিষয়টি সম্পর্কে কৃষি সম্প্রসারণ বগুড়া আঞ্চলিক অফিসের অতিরিক্ত পরিচালক ইউছুব রানা মন্ডল বলেন, বোরো ধান কাটা মাড়াই ভরা মৌসুমে ঝড়ে পাকা ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অন্যান্য ফসলের তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

শহরজুড়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট

শনিবার ভোর ৪টায় বয়ে যাওয়া ঝড়ো হাওয়াতে শহরের বিভিন্ন স্থানে গাছপালা উপড়ে গেছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিছিন্ন হয়েছে। তবে শিগগিরিই জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছেন নেসকোর কর্মকর্তা।

নর্দান পাওয়ার সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) নির্বাহী প্রকৌশলী ওমর ফারুক বলেন, ঝড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়া ছাড়াও গাছের ডাল ভেঙে পড়েছে বিদ্যুতের তারে। ফলে ভোর রাত ৪টা থেকে পুরো জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, সকাল থেকে কাজ চলছে, পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।

এনসিএন/এআইএ

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email
Print